
সরকারি চাকুরির প্রথম দিকে ১৯৭৯ খৃঃ এ আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সেকশন অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলাম। তখন একদিন একটা নথি পেলাম যে নথিটি ১৯৭২ খৃঃ থেকে ১৯৭৯ খৃঃ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ৩টি মন্ত্রণালয়ে ঘুরছে । নথির বিষয়টি হলো - চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের জন্য দিল্লীর Services of God নামক একটি কল্যাণ সংস্থা একটি এক্সরে প্ল্যান্ট অনুদান দিয়েছে এবং প্ল্যান্টটি সেই ১৯৭২ খৃঃ তেই চাঁপাই.. জেলা হাসপাতালে এসেছে , কিন্তু স্থাপন / ইনস্টল করা হয় নাই। ঐ এক্সরে প্ল্যান্টটি ইনস্টল করার জন্য দিল্লী থেকে দু’জন প্রকৌশলী / টেকনিশিয়ান আসবেন যাঁদের ভিসা লাগবে , তাই নথিটি কখনও গেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে , আবার কখনও গেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে - অনুমতির জন্য। আবার দু’জন প্রকৌশলী / টেকনিশিয়ানের আসা যাওয়া ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা এবং ব্যয় নির্বাহ করার কথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের । তাই নথিটি কখনও এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে । এভাবে ৩টি মন্ত্রণালয়ে ৭ বছর ধরে নথিটি আসা যাওয়া করছে আর এক্সরে প্ল্যান্টটি বাক্সবন্দি হয়ে চাঁপাই.. সদর হাসপাতালে পড়ে আছে। আমি নথিটি পেয়ে হতভম্ব হয়ে গেলাম। এই ৩টি মন্ত্রণালয়ে ৭ বছর ধরে কত তথাকথিত জাঁদরেল / ঝানু / দক্ষ আমলা / মন্ত্রী এসেছেন , গেছেন - কিন্তু তাঁরা এই বিষয়টি ফয়সালা করে এক্সরে প্ল্যান্টটি ইনস্টল করাতে পারলেন না। বলা বাহুল্য নতুন স্বাধীন দেশে ঐ হাসপাতালে তখন একটি এক্সরে প্ল্যান্টের প্রয়োজনও ছিল যথেষ্ট। ঐ সময় পাকিস্তান থেকে ফেরৎ আসা অনেক সিএসপি অফিসারও সরকারের মধ্যম স্তর থেকে ঊর্ধতন স্তরে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের কেউই যে এ নথিটি দেখেন নাই এমনটি নয়। আমি নথিটি পেয়ে মনে মনে অঙ্গীকারাবদ্ধ / Committed হলাম যে , আমি এই এক্সরে প্ল্যান্টটি স্বল্পতম সময়ে ইনস্টল করাব। আমি বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে নোট লিখলাম যে, দিল্লীর প্রকৌশলী / টেকনিশিয়ান না এনে এ দেশের প্রকৌশলী / টেকনিশিয়ান দিয়েই এক্সরে প্ল্যান্টটি ইনস্টল করা হোক। সে নোট সহ নথিটি আমি হাতে হাতে নিয়ে আমার এই প্রস্তাবের সপক্ষে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের অুমোদন গ্রহণ করি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র প্রেরণ করি জরুরি ভিত্তিতে এক্সরে প্ল্যান্টটি ইনস্টল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য। এর অল্পদিন পরেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক্সরে প্ল্যান্টটি ইনস্টল করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানায় যে এক্সরে প্র্যান্টটি ইনস্টল করা হয়েছে এবং এটা সুষ্ঠুভাবে কাজ করছে । এতে প্রায় দু’ মাস লেগেছিল। অর্থাৎ দু’মাসের কাজ ৭ বছরেও হয়নি। এই ৭ বছর যারা নথিটি এভাবে ঘুরিয়েছিলেন এটা আমাদের সেই সব তথাকথিত জাঁদরেল বা ঝানু আমলাদের কাজের দক্ষতার একটা নমুনা । তাঁরাই দ্রুত পদোন্নতি পেয়েছেন , রাষ্ট্রের জন্য সর্বযুগে অপরিহার্য ( INEVITABLE ) বলে বিবেচিত হয়েছেন চাকুরিরত থাকাকালে এবং চাকুরিশেষে অবসরকালে। আর আমি ২০০৫ এ অবসরকালে দু’টি পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হই। হা হা হা !
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



