somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের প্রথম স্কুল শিক্ষক

১৬ ই মে, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষেরও যে আকাশের মত হৃদয় থাকতে পারে
তাকে না দেখলে হয়ত আমার জানাই হতনা।
রুপকথারও বাইরে যে এক বিশাল জগত আছে
তার কাছে না শুনলে বোধহয় শোনাই হতনা।
আজকে আমার এই পৃথিবীর অনেক কিছুই চেনা
ব্ল্যাকবোর্ডের ওই কালো আকাশ আমায় এন দে না।
এনে দে না বয়সটা সেই ছয় কিংবা সাত
হয়ত তখন ফিরে পেতাম স্যারের কোমল হাত।
সালাম জানাই সহস্রবার আমার যিনি গুরু
তার কাছেই হয়েছিল শিক্ষাজীবন শুরু।

নগরবাউল জেমসের অসম্ভব জনপ্রিয় এই গানটা আমাদের প্রথমজীবনের প্রাথমিক শিক্ষকদেরকে কে স্মরণ করে।

আমাদের সকলেরই আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরুর সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার পাই কয়েকজন মানুষকে। যারা একাধারে তখন আমাদের অভিভাবক, শিক্ষাগুরু এবং জীবনকে গড়ে তোলার কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। তাদেরও রাজনৈতিক আদর্শগত পরিচয় থাকে। তবে তা সুপ্ত থাকে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে আমরা উচ্চ বিদ্যালয়. কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় অতিক্রম করলেও প্রাথমিক শিক্ষকদের মত দরদী আর সত্যবাদী শিক্ষাগুরু পাইনা। পাওয়া সম্ভবও নয়।
কিন্তু সেই সব মাটির মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদেরকে গতকাল শাহবাগে পুলিশ বেধড়ক পিটিয়ে এবং গরম পানি ছিটিয়ে যেভাবে লাঞ্ছিত করেছে তা কি কোন সভ্য দেশে হতে পারে? যে পুলিশ এসব অপকর্ম ও গর্হিত কাজ করেছে তারাও জীবনের প্রথম বেলায় এমন কোন শিক্ষাগুরুর কাছেই শিক্ষাজীবন শুরু করেছিল। তারাও আমাদের মতোই শিক্ষকদেরকে দেখলেই হাত তুলে সালাম দিত, শ্রদ্ধা করত। আজ যখন পেটের দায়ে, চলতে নাপেরে এই শিক্ষকরা দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখে যাচ্ছিল তখন কোন অশুভ শক্তির ইশারায় তাদের উপর হামলা চালানো হল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সহ দেশের সকল কার্যালয়ই শিক্ষকদের মর্যাদার কাছে নস্যি তা তো সর্বজনবিদিত। আমাদের সরকারের কর্তারা আর এই পুলিশরা হয়ত কাদের নেওয়াজের সেই কবিতাটা পড়েনি। (বাদশাহ আলমগীর/ কুমারে তাহার পড়ারইত এক মৌলভী দিল্লীর...)।

এইসব শিক্ষকদের আন্দালনের ফলাফল হয়ত অন্যান্য আন্দোলনের মত মহান মানবতাবাদী মহীয়সী! শেখ হাসিনার কোন এক ঘোষণায় শেষ হবে। বিশ্ব বিজয়ের মত হাসিনা হাসিমুখে শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের যাবতীয় কৃতিত্ত্ব নেবে। ( এমনকি এজন্য তাকে জাতয়ি ষ্টেডিয়ামগুলোর বারোটা বাজিয়ে ৪/৫ বার সংবর্ধনা দেয়া হতেও পারে কিংবা তার তোষামোদকারীরা নোবেল চাই বলে প্রলাপও বকতে পারে)। কিন্তু এই সব মহান মানুষদের সাথে যে ব্যব্হার করা হল তার কিছুই হবেনা।

সরকার কি পারতনা আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ লেলিয়ে না দিয়ে আন্দোলনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে?

আন্দোলনরত এই শিক্ষকদেরকে যথাযথ মর্যাদার সাথে তাদের চাকরি জাতীয়করণের আশ্বাসসহ প্রক্রিয়া শুরু করা সরকারের আশু কর্তব্য।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×