ফোনের স্ক্রিনের আলোটা জ্বলছে আর নিভছে। জ্বলা নিভার খেলাটা ভালো লাগছে। খেলা শেষের অপেক্ষায় তাকিয়ে থাকা। তারপর আবার পুনরায় ফোনের বেজে ওঠার অপেক্ষা, কখনো একটু পরেই বেজে ওঠে, কখনো বা যখন মনে হয় আরেকবার আর ফোন করবে না তখনই বেজে ওঠা। আবারো চক্রের শুরু।
চক্রের কথা মনে হলো কেন? ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছি তাই ? ফ্যান ঠিকঠাকই ঘুরছে, তবুও তরতর করে ঘামছি। খুব কি গরম বাইরে ? দেখে আসা যেতে পারে। এক কাপ চাও খাওয়া দরকার, চায়ের সাথে দশ টাকার বেনসন সিগারেট। সিগারেটের ধোয়ায় এখন আর নিষেধাজ্ঞা নেই। কিছুক্ষনের মধ্যে কেটে যাবে হয়তো আরো কিছু নিষেধাজ্ঞা। রাস্তার যেকোন সুন্দরী তরুণীর দিকে প্রকাশ্যেই তাকানো যাবে। অনেক অনেক দিন শেভ না করলেও কোন সমস্যা নেই। রাত জেগে চোখ লাল করা যাবে, ঘুমের অনিয়ম করা যাবে, ‘সময়মত খাওনি কেন তার উপযুক্ত কারণ দর্শাও’ এমন কোন রুল জারি করা নেই। কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই কাউকে ভাবার, মনে করার। এখন অবসর, মনের এখন সীমাহীন অবসর।
যখন ধরেই নিয়েছি একের পর এক ফোন করে ফোনটার মতো অহনাও হাপিয়ে গেছে, তখনই বেজে উঠলো টুংটাং রিংটোন। বিয়ের দিনেও কোন মেয়ে কাউকে বারংবার ফোন করে যাওয়ার এতটা অবকাশ পেতে পারে বলে ধারণা ছিলনা। ফোনটা কি একবার ধরে বলা উচিৎ, ‘অহনা, তোমার কি বর পছন্দ হয়েছে ? হাইট কত বরের ? লম্বা ছেলে ছাড়া নাকি বিয়েই করবে না বলেছিলে?” না, কথার মধ্যে কেমন হাহাকার টের পাওয়া যাচ্ছে। বরং অন্যকিছু বলা যেতে পারে। “আজকে তোলা কোন ছবি কি কোনভাবে আমাকে দেয়া যায় ? তোমাকে বিয়ের দিনে কেমন লাগবে আমি এরকম একটা ছবি বহুদিন ধরে মনে মনে সাজিয়েছিলাম। মিলিয়ে দেখব একটু।” না, এটাও হয়তো বলা যায়না। হাহাকার ভাবটা দূর করা যাচ্ছেনা। প্রেমিকার বিয়ের দিনে প্রেমিকাকে কি বলতে হয় তার তো অভিজ্ঞতা নেই।
টানা দুটো সিগারেট ধোয়ায় উড়ালাম। তৃতীয়টা যখন হাতে নিয়েছি ততক্ষণে আরো একবার ফোন বাজতে শুরু করেছে। ধরতে ইচ্ছা হচ্ছেনা এটা সত্যি না। মনে হচ্ছে ফোন ধরা মানেই শেষবার ফোন আসা। আরো একবার নাহয় তাকিয়ে থাকুক ফোনে উঠে থাকা আমার নামের দিকে। ওর ফোনে এখন আমার নাম কি আছে কে জানে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম থাকে। একবার ছিল, ‘কুটিকু’ ! একবার ছিল গাব্দু। আরেকবার খুব ঝগড়া চলেছিল কয়দিন, সেবার নাকি ছিল ‘হারামি’। এখন কি ফোনে আদৌ আমার নামটা আছে! কে জানে, হয়তো এর মধ্যেই সেটাও নেই।
রাস্তায় কি কিছুক্ষণ পায়চারি করা যায় ? বড় অসহ্য লাগছে সবকিছু। ওই চায়ের দোকানদার থেকে শুরু করে ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটাও মনে হচ্ছে অদ্ভুত করুণা নিয়ে দেখছে আমাকে। ইচ্ছা করছে হেটে সেই গলিটার মাথায় চলে যাই যে গলির সামনে না জানি কত বিকাল সন্ধ্যা কেটেছে। যেই গলিকে নিয়ে কত বিচার, বিশ্লেষণ, গবেষণা ! গলির কতটুকু সামনে রিকশা থামাতে হবে, বের হওয়ার সময় গলি থেকে বেরিয়ে কোন দিকে হেটে গেলে সবার নজরে কম পড়া হয়, কোথায় দাড়ালে ওই বিল্ডিং এর বারান্দাটা খানিক দেখা যায়।
আমি ফিরে যাচ্ছি। কারাগারের মতো বিষন্ন ওই ঘরের দিকে। যেখানে অন্ধকারও তোমার কথা বলে, নৈশব্দও তোমার কথা বলে। যেই ঘরের ঘড়ির কাটার টিকটিক কাটার মতো বেঁধে মনে, ছিন্নভিন্ন করে দেয় পুরোটা।
২.
অহনা প্রায় এক ঘন্টা ধরে বাসার গলি থেকে কিছু সামনে পার্কের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবারই মনে মনে ভাবছে এই ফোনটা না ধরা হলে সে ফিরে যাবে। ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থা এক ঘণ্টা আগে থেকে কনে নিখোজ হওয়া বাড়িটাতে আছে কিনা জানা নেই। তবুও ফিরে যাবে। তবুও ফোন করছে, একের পর এক ফোন করেই যাচ্ছে। এই ফোনটাই হয়তো শেষ, মনে হচ্ছে এই ফোনটা হয়তো ধরা হবে। অহনা ফোন কানে চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে আছে। মন বলছে এবারেরটা রিসিভ হবে, আর পাঁচ দশ সেকেন্ড বাকি আছে রিং শেষ হতে, তবু মনে হচ্ছে!
দুবার ফোন কাটা হয়েছে এর মধ্যেই। তৃতীয়বার আবার ফোন আসছে।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
Sajna

Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন
চা এর আড্ডা।

শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি
কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।
২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন
২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।