প্রেমঃ চিরস্থায়ী জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গীনি বেছে নিতে এবং দুজনের সম্পর্ককে একটি বৈধ রুপ দিতে (অর্থাৎ বিয়ে) একজন নারী বা একজন পুরুষ তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে যখন একে অপরকে জানার জন্য খুব কাছাকাছি আসে কোনো রকম শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া তখন তাকে প্রেম বলে। এক্ষেত্রে যদি তাদের দুজনের মধ্যে একে অপরকে ছাড় দেবার মন-মানসিকতা না থাকে এবং তারা যদি মনে করে তাদের দুজনের কখনো একসাথে থাকা সম্ভব নয় তবে তারা তাদের সম্পর্ককে আর সামনে বাড়িয়ে নেবেনা।
কিন্তু বর্তমানে আমরা কি দেখছি? এখন প্রেম যতোটা না স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলছে তার চেয়ে এটি একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ কার কতোগুলো গার্লফ্রেন্ড বা কতোগুলো বয়ফ্রেন্ড আছে, কে কয়টা প্রেম করল তা নিয়ে আমরা একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছি। তবে সমাজে যে প্রকৃত প্রেমের সম্পর্ক পাওয়া যাবেনা তা নয়। অনেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ককে বৈধ রুপ দিতে পেরেছে আর এইটাই হল প্রকৃত প্রেম। কিন্তু এখন বেশির ভাগ সম্পর্কই খুব বেশি সময় ধরে স্থায়ী রুপ লাভ করছেনা। একটা মেয়ের বয়ফ্রেন্ড থাকা সত্ত্বেও সে অন্য আরেকটা ছেলের সাথে রাতে ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলছে। কেন? নিশ্চয়ই সে কিছু একটা পাচ্ছেনা, তার মধ্যে একটা শূন্যতা রয়ে গেছে। একইভাবে একটি ছেলের ক্ষেত্রেও এটা দেখা যাচ্ছে। আমরা যেন প্রেম করছি মানুষকে দেখানোর জন্য যেখানে নিজেদের সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া গৌণ।
টিভি চ্যানেলগুলোতে ভালোবাসাকে অতিরিক্ত গ্ল্যামার দিয়ে সুসজ্জিত করে দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় ভিন্ন কিছু অভিজ্ঞতা দেয়। টিভির গ্ল্যামারযুক্ত প্রেমের সম্পর্ককে যেভাবে সহজ করে দেখানো হয় বাস্তবে কিন্তু এটা অতটা সহজ নয়। যখন সম্পর্কগুলো ভেঙ্গে যায় তখন এর কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা না থাকলে বা এটাকে সহজভাবে মেনে নিতে না পারলে এটা আমাদের বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয় যার পরিণতি খুব একটা ভালো হয়না যেটা অপ্রাপ্ত নারী বা পুরুষের জন্য ভয়াবহ রুপ নিতে পারে। তাই অপেক্ষা করুন আপনার সঠিক লাইফ পার্টনার খুঁজে পেতে । এমন তো না যে প্রেম না করলে আপনি জেলে যাবেন বরং এটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখলে কোনো সমস্যাই না। আর আমাদের নিজেদের সংস্কৃতিকে অবশ্যই সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



