somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

িফল্ড মার্শাল
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই নিকটি অবশ্যই (১৮+) দের জন্য এবং দুর্বল ও সংবেদনশীলদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ রইলো এই নিকের পোস্ট সমূহ এড়িয়ে যাওয়ার। এর পরও যাদের ভিতরে খুব বেশি কুড়কুড়ি আছে তারা অবশ্যই নিজ দায়িত্বে ঢুকবেন। আর পোলাপাইন!!! এই গুলান বহুত শয়তান ।

অভাবের কারনে সরকারী ভাতা প্রাপ্তির বইটিও বন্দক রেখেছে মুক্তিযোদ্ধা মহির

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






কুড়িগ্রাম চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট পাটওয়ারী এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মহির আলম। পিতা মৃত গেনদার শেখ তার মায়ের নাম সবজান। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবেই তিনি সবার কাছে পরিচিত।

১৯৭১ সাল বেজে উঠে যুদ্ধের দামামা শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। তখন ছিলেন একজন টকটগে ১৮ বয়সের যুবক। মা সবজান ছেলেকে তৈরি করে এবং ছেলেকে আদেশ করে যুদ্ধে যাবার এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য। তখন মায়ের নির্দেশে ২৯দিনের ট্রেনিং নিয়ে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। তিনি ছিলেন ১১নং সেক্টর চাঁন কম্পানীর অধিনে। তার মুক্তিবার্তা-০৩১৬০৫০১৮৩, গেজেট নং-১৬৬১।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মহির আলম জানান, কি আর বলবো বাবা এই দেশ স্বাধীন করলাম আর এই দেশ আমাকে কি দিলো। এই সামান্য ভাতা। কিন্তু অভাবের কারনে বইটিও বন্দক রাখতে হয়েছে। আজ আমি পঙ্গু কিন্তু পাইনি সরকারী ভাবে কোন সহায়তা কোন চিকিৎসা, পাইনি দেশের মানুষের কাছে কোন সাহায্য।

মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে তার চোখ চকচক করে ওঠে। তিনি বলেন, ১৯৭১সাল তখন আমি একজন ঝড়ে পড়া ছাত্র। অভাব অনটনের কারনে লেখা পড়া ছেড়ে বাবার সঙ্গে জমিতে কাজ করতাম। দুবেলা খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ভক্ত ছিলাম। বেজে উঠে যুদ্ধের দামামা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

মনে পড়ে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কথা এবং সেই সাথে পাকহানাদারদের অত্যাচার দেখে মা আমাকে নির্দেশ দেয় বাড়িতে বসে থাকা হবে না দেশকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। তুই যুদ্ধে চলে যা। আমরা পরাধীন থাকতে চাইনা, এদেশ স্বাধীন চাই। পাকহানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাদেশের মাটিকে মুক্ত করতে হবে আর দেরি না করে এখনেই চলে যা যুদ্ধে। মায়ের আদেশ আর পাকবাহিনীর অত্যাচারের কথা ভেবে সিন্ধান্ত নেই, পা বাড়াই মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনেক বাধা অনেক পথ পেরিয়ে ভারতের কাকরি পাড়া।

সেখানে ১৯দিন ট্রেনিং দিয়ে রৌমারী ট্রেনিং সেন্টারে এসে ১০দিন ট্রেনিং দেই। ট্রেনিং শেষে ১১নং সেক্টরের কোম্পানী অথ্যাৎ চাঁদ কোম্পনীতে যোগ দিয়ে কম্পানী কমান্ডার চাঁদ মিয়ার নির্দেশে কয়েটি প্লাটুনে ভাগ হয়ে চিলমারী আক্রমণের সিন্ধান্ত হয়। আমি ছিলাম প্লাটুন কমান্ডার নজরুল ইসলাম এর অধীনে।

এ সময় ভারতের সৈন্যরাও ছালী পাড়া হতে সহযোগিতা করে। ১৯৭১সাল সেই দিন ছিল ১৭ অক্টোবর রৌমারী ক্যাম্প থেকে নৌকায় করে নজরুল কমান্ডারের নেতৃত্বে চিলমারী অপারেশনে পাকহানাদার বাহিনীকে হত্যা করি। রমনাঘাট এরপর উলিপুর ডাকবাংলা, হাতিয়া অনন্তপুরসহ কযেকটি এলাকায় যুদ্ধকরি। ১১নং সেক্টর কোম্পানী কোমান্ডার প্রকৌশলী মোঃ আবুল কাশেম চাঁদ-এর নেতৃত্বে ৮ নভেম্বর রাতে উলিপুর ডাক বাংলায় পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প সহ তাদেরকে উৎখাত করার জন্য সম্মূখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করি।

পরে আবার আমরা হাতীয়া অনন্তপুরে পাক বাহিনীর সাথে সম্মূখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করি। এসময় পাক বাহিনীর এলোপাতারী গুলিতে ৬০০জনের অধিক সাধারন লোক মারা যায়। দেশ শক্রমুক্ত হওয়ার পর আমরা সকলে চিলমারী হাসপাতালে একত্রিত হয়ে সবাই মিলে কম্পানী কমান্ডার চাঁন মিয়ার নির্দেশে ২৪ জানুয়ারী ১৯৭২ সালে গাইবান্ধা মালয়েশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র জমা দেই। এর পরে মোঃ শওকত আলী সরকার (বীর বিক্রম) এর হাতে মুক্তিযুদ্ধের সনদপত্র গ্রহন করি।

তিনি আরো জানান, যখন শুনতে পাই দেশ শক্রমুক্ত ও দেশ স্বাধীন ঘোষনা পাওয়ার পর পরই মনে আনন্দে নেচে উঠে চোখ দিয়ে আনন্দে জল বেড়ে আসে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মহির মিয়ার ৭ছেলে ১ মেয়ে। তিনি মৃত্যুর অগেই ৭১’এর ঘাতক দালালদের বিচার ও জাতীকে কলংকমুক্ত দেখে যেতে চান। আর সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান চান।




Click This Link
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×