somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও অবিশপ্ত কোটা ব্যবস্থা...

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদেরকে বাংলাদেশের সকল মানুষই সর্বোচ্চ সম্মান করে এবং করবে। সরকারী ভাবেও তাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হউক এটা বাংলাদেশের সকল মানুষই চায় বলে আমি মনে করি। কিন্তু এর মাঝে যেন কোন রকম বৈষম্য না থাকে। সরকারী ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। আমার তথা তরুন প্রজন্মের প্রশ্ন হল সকল মুক্তিযোদ্ধারাই কি প্রকৃত সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে? আমাদের চোখের সামনেই অনেক মুক্তিযোদ্ধা দিন মুজুরী করে, রিক্সা চালায়, ভিক্ষা করে। তাদের দিকে আমরা কেউ তাখাই না। ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চ এলেই কেবল তাদের নিয়ে ফিচার আসে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। সরকারী ভাবে তাদেরকে পুনঃর্বাসনও করা হয় না। আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা কেন এভাবে মানবেতর জীবন যাপন করবে? রাষ্ট্র ক্ষমতা সব সময় সুবিধাবাদীদের হাতে, যারা নিজেরা ভাল অবস্থানে তাদের সন্তানদেরকেও ভাল অবস্থানে তারা রেখে যাবে বা যাচ্ছে।আর যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে দেশকে মুক্ত করার জন্য, যুদ্ধ করে যারা নিস্ব হয়েছে তারা আজ অসহায়।
সুবিধা বাদীদের সন্তানরাও আজ দেশের অনেক বড় বড় সুবিধা পাচ্ছে যা অনেক সভ্য দেশেই নাই, অতচ আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশে তারা এই সুবিধা পাচ্ছে যা কখনই কাম্য নয়।
আর তা হল “কোটা”।
কোটা ব্যবস্থা বাংলাদেশের সাধারন শিক্ষিত যুবসমাজের সবচেয়ে বড় মরণ ব্যধি।
কোটা ব্যবস্থা কেন মরন ব্যধি সেই কথায় পরে আসি, আগে বলি মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিষয়ক কিছু কথা।

মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট বিষয়ে আমার বাস্তব একটা অভিজ্ঞতা বলি-

আমার পরিচিত একজন যিনি বর্তমান সরকারের শাসন আমলে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন।যাকে আমরা আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে জানতাম না। আমার মনে হয় সারা দেশে শুধু তিনি নন আরও অনেকেই এই রকম মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। এবং আমার ঐ পরিচিত ব্যক্তির ছেলে এখন সরকারি চাকুরী করছেন যে কোন মতে এস,এস,সি, বা এইচ,এস,সি, পাশ করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিষয়ে বলতে গেলে আরও কষ্ট লাগে-

আমার ইউনিভার্সিটি জীবনে আমি দেখেছি অনেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানই শিবির করছে এবং এখনও তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কখনই স্বীকার করে না।
দুঃখের বিষয় এটাই তারা বি,সি,এস, এর মত গুরুত্বপুর্ণ নিয়োগ পরীক্ষায়ও কোটা পাচ্ছে। যেখানে সাধারন শিক্ষার্থীরা তুমুল প্রতিদন্ধিতা করেও ক্যাডার হতে পারছে না সেখানে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য আলাদা সিট বরাদ্ধ। সেই সিট খালিও পরে থাকছে।
একদিকে মুক্তিযোদ্ধারা রিক্সা চালাচ্ছে, ভিক্ষা করছে অন্য দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অযোগ্য সন্তানরা ক্যাডার হচ্ছে।
যারা এখন ভিক্ষা করছে , রিক্সা চালাচ্ছে তাদের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পায় না, পায় না ক্যাডার হওয়ার সুযোগও, তাদের কাছে এই মহা মূল্যবান “কোটা” মূল্যহীন। তাদের কাছে বেঁচে থাকাই চরম স্বার্থকতা।
একদিকে দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের মানবেতর জীবন-যাপন, সাধারন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারী চাকুরী থেকে বঞ্চিত, দীর্ঘ সময় বেকারত্ব বরন, দেশের প্রশাসন হারাচ্ছে মেধাবী জনশক্তি অন্য দিকে অনেক মুক্তিযোদ্ধার বাংলাদেশ বিরোধী সন্তান, অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার অযোগ্য সন্তান হচ্ছে ক্যাডার, পাচ্ছে বড় বড় সরকারী চাকুরী।
৩২ তম বি,সি,এস,-এ একজন সাধারন শিক্ষার্থীকে ৬২ নম্বর পেয়ে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে অন্য দিকে ৩৩ তম বি,সি,এস,-এ একজন মুক্তিযোদ্ধার অযোগ্য সন্তানকে মাত্র ৩২ পেয়ে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। আর ৩৪ তম বি,সি,এস, এ ঘটলো তার চেয়ও ঘৃণ্যতম ঘটনা, একদিকে ৮০ নম্বর পেয়েও সাধারন শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারে নি আবার অন্যদিকে ৬৪ নম্বর পেয়েও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা পাস করে যায়!!!
কেন এই বৈষম্য????????????????
পাকিস্তান শাসনামলে বাঙ্গালীরা বৈষম্যের শিকার হত যেকারনে হয়েছিল ১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধ আর এখন স্বাধীন বাংলাদেশে সাধারন শিক্ষার্থীরাই সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে আমরা সকলেই প্রস্তুত কিন্তু তাদের সন্তানদেরকে সকল সুবিধা দিতে আমরা তরুন সমাজ প্রস্তুত না।
মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের সকল সম্পদ দিয়ে দিক সরকার কিন্তু আমরা সাধারন শিক্ষার্থীদের একটা সরকারী চাকুরী পাওয়ার অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করবেন না।
এটা সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে আমার আকুল আবেদন।
প্রয়োজনে আপনারা গনজরিপ করেন যদি “কোটা” এর পক্ষে জনগন রায় দেয় আমরা সাধারন শিক্ষার্থী তা মেনে নেব। কিন্তু স্বাধীন দেশে এভাবে আমাদের সাধারন শিক্ষার্থীদের অধিকার কেড়ে নেয়ার অধিকার কারও নেই।
দেশে এখন যোদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গনবিস্ফুরণ চলছে, সরকার যেন কোটা বিরোধী আরেকটা গনবিস্ফুরণ না চায়।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×