বাংলাদেশের প্রচলিত বর্তমান কোটা প্রথা সরকারি চাকরিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করছে। ওই বৈষম্য অনেকটা স্পার্টা, উমাইয়া খিলাফত, দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শাসন, বঙ্গের প্রাচীন সেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনের সঙ্গে তুলনীয়। পাকিস্তানি নব্য ঔপনিবেশিক যুগেও যোগ্যতা ও মেধা থাকা সত্ত্বেও বাঙালিরা ছিল সব ধরনের সরকারি চাকরিতে উপেক্ষিত। ড. মো. মাহবুবুর রহমানের মতে, 'কেবল সিভিল সার্ভিসেই নয়, ফরেন সার্ভিস, বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতেও পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্য বিরাজমান ছিল' (বাংলাদেশের ইতিহাস : ১৯৪৭-৭১, পৃ. ৩৪১)। এই বৈষ্যমের বিরুদ্ধেই বাঙালিরা মুক্তিসংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিল।
বর্তমান প্রচলিত কোটা পদ্ধতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরুদ্ধ, কথাটি বিলকুল সত্য। সংবিধানের চেতনাবিরুদ্ধও বটে। সংবিধানের ১৯(১) ও ২৮(১) অনুচ্ছেদে যথাক্রমে বলা হয়েছে যে 'সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন' ও 'কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।' যদিও সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদে নাগরিকদের 'অনগ্রসর অংশের' জন্য চাকরিতে বিশেষ কোটা প্রদান অনুমোদন করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রচলিত কোটাব্যবস্থায় অনগ্রসর ও অগ্রসর সবাই একটি বিশেষ শ্রেণিভুক্ত হলেই কোটা ভোগ করছে।
এই বাংলাদেশ আমরা চাই নি, যে বাংলাদেশে একই সাথে চলবে চাকরির জন্য হাহাকার ক্ষুদ্র স্বার্থন্বেষি গোষ্টি করবে চাকরি বদলের উল্লাস। এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি, সত্যি বলছি এই বৈষম্যের বাংলাদেশ আমরা কেউ ই চাই নি। আমরা সাধারণরা নূন্যতম সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই, আমাদের চাকরি বদলানোর প্রয়োজন নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




