ঝর্ণাধারার ন্যায় আল্লাহর আশীষধারা রোজাদারগণের অন্তর রাজ্যে লোকদৃষ্টির অলক্ষ্যে বর্ষিত হতে থাকে। কেবল অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিই তা অবলোকন করতে পারেন। প্রকৃত ও খাঁটি রোজাদারগণ তাতে অবগাহন করে এগারো মাসের পুঞ্জীভূত পাপ-পঙ্কিলতা ও কলুষ-কালিমা হতে বিশুদ্ধ ও পবিত্র হয়ে যান। যারা প্রকৃত সতর্ক ও জ্ঞানী তারা এ সুবর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। আর যারা অপরিণামদর্শী তারা এর গুরুত্ব দেয় না এ ভেবে যে, জীবনে ওরকম রমজান কতইতো আসবে। কথায় বলে সুযোগ একবারই আসে (ডদটভডণ ডমবণ্র মভডণ)।
শাবান মাসের শেষান্তে রমজানের এক ফালি রূপালী চাঁদ পশ্চিম আকাশে দেখার সাথে সাথে যখন একজন আশিক মুসলিম মনে ইস্পাত কঠিন ঈমান ও উদগ্র আগ্রহ-বাসনা নিয়ে পুরো মাস রোজা পালনের মহান উদ্দেশ্যে নিয়ত করে ফেলেন ও রোজা আদায়ে মশগুল হয়ে যান তখনই তিনি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের চাদর দ্বারা আবৃত হয়ে পড়েন। ফলে ইহজগতের শান্তি ও পরজগতের মাগফিরাত ও মুক্তির সনদ তার জন্য ঘোষণা করা হয়। বছরের বারটি মাসের মধ্যে রমজান মাসটি হলো সবচেয়ে বেশী মুবারক ও ফজীলতের মাস। পবিত্র কুরআনে কেবলমাত্র এই মাসটির নামই উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহতাআলা বলেছেনঃ অর্থাৎ রমজান সেই পবিত্র ও মুবারক মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। রমজান মাসের সঙ্গে আল্লাহর কালামসমূহের এক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এজন্যই বুজর্গানে দীন এবং আধ্যাত্মিক সাধকগণ এই মাসটিতে অধিক মাত্রায় কুরআন তেলাওয়াত করে থাকেন। নামাজের পরেই মুসলমানদের প্রতি আল্লাহতায়ালা যে ইবাদত ফরজ করেছেন তা হচ্ছে রমজান মাসের রোজা। কুরআন মজীদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেন- অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ, তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে- যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল (সুরা আলবাকারাহ ১৮৩)। এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর তরফ থেকে যত শরীয়াত দুনিয়ায় নাজিল হয়েছে তার প্রত্যেকটিতেই রোজা রাখার বিধি-ব্যবস্থা ছিল। চিন্তা করার বিষয় এই যে, রোজার মধ্যে এমন কি বস্তু নিহিত আছে যার জন্য আল্লাহ তায়ালা সকল যুগের শরীয়াতেই এর ব্যবস্থা করেছেন।
মহানবী (সা
দাঙ্গা-ফ্যাসাদ থেকে ফিরে থাকা উচিত। কেউ তাকে গালি দিলেও কিংবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করলেও পরিষ্কারভাবে বলা উচিত যে ভাই, আমি রোজা রেখেছি, তোমার সাথে এ অন্যায় কাজে আমি যোগ দেব এমন আশা করতে পারি না। তাই রোজাদারের রোজা রেখে যথাসম্ভব বেশী পরিমাণে নেক কাজ করা উচিত এবং প্রত্যেকটি ভাল কাজেই অংশগ্রহণ করা উচিত।
রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা যাবে না। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে প্রিয় নবী (সা
হযরত ইবনে আব্বাস (রা
আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ কাজ করবে, সে অন্যান্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সওয়াব হাসিল করবে। এ মাস সবরের মাস। আর সবরের বিনিময় হলো জান্নাত। এটি সমবেদনা প্রকাশের মাস। এই মাসে মুমিন বান্দাহদের রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করাবে, এই কাজ তার জন্য গুনাহ মাফের কারণ এবং জাহান্নামের আযাব হতে নাযাত পাওয়ার একটি ওসীলা স্বরূপ হবে। তাছাড়া তাকেও রোজাদার ব্যক্তির সমান সওয়াব দান করা হবে এবং এতে রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কিছুই কমানো হবে না। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই আমাদের সামনে আনন্দের সওগাত নিয়ে উপস্থিত হবে মাহে রমজানুল মুবারক।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ পবিত্র মাস মুসলিম নর-নারীর হৃদয়ে বসন্তের শিহরণ জাগিয়ে তুলবে। এ পবিত্র মাস নিয়মতান্ত্রিক খাওয়া চলা ঘুমসহ নানা ইবাদত বন্দেগী মুসলমানের জীবনে নব গতির সৃষ্টি করবে। মূলতঃ প্রকৃত মুমীনগণ এ মাসে সদা তৎপর থাকে আল্লাহর রহমত লাভের জন্য। তাই এ পবিত্র মাসের পবিত্রতা রক্ষার্থে, ইবাদত বন্দেগী তথা সেহরী, ইফতার, তারাবী, কুরআন তেলাওয়াত, এতেকাফ তাহাজ্জুদ দান সাদকা প্রভৃতি আদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করি।
কেননা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়া কোন কাজেই সফলতা অর্জন করা যায় না। আসুন, এই মাহে রমজানে আমরা ঈমান ও চেতনা সহকারে আমাদের কাজে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য প্রকাশ করি এবং আগের ও পরের গুনাহ মাফ করে নেই। আর কান্নাভেজা কক্তে আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে মোনাজাত করি হে আল্লাহ। রমজানের সিয়াম সাধনা ও ইবাদতের বরকতে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি কর। বিশ্বে চিরশান্তি বিরাজ কর এবং শুভেচ্ছা বন্ধনে সুদৃঢ হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

