somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাহে রমজান : আর মাত্র সপ্তাহ দুই

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাহে রমজান সমাগত প্রায়। আর সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে রহমত ও মাগফিরাতের সওগাত নিয়ে মুসলিম বিশ্বের দ্বারে আসবে মহিমান্বিত রমজান। শাহরু রমাদানের প্রতিটি মুহূর্ত মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতে পরিপূর্ণ।

ঝর্ণাধারার ন্যায় আল্লাহর আশীষধারা রোজাদারগণের অন্তর রাজ্যে লোকদৃষ্টির অলক্ষ্যে বর্ষিত হতে থাকে। কেবল অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিই তা অবলোকন করতে পারেন। প্রকৃত ও খাঁটি রোজাদারগণ তাতে অবগাহন করে এগারো মাসের পুঞ্জীভূত পাপ-পঙ্কিলতা ও কলুষ-কালিমা হতে বিশুদ্ধ ও পবিত্র হয়ে যান। যারা প্রকৃত সতর্ক ও জ্ঞানী তারা এ সুবর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। আর যারা অপরিণামদর্শী তারা এর গুরুত্ব দেয় না এ ভেবে যে, জীবনে ওরকম রমজান কতইতো আসবে। কথায় বলে সুযোগ একবারই আসে (ডদটভডণ ডমবণ্র মভডণ)।

শাবান মাসের শেষান্তে রমজানের এক ফালি রূপালী চাঁদ পশ্চিম আকাশে দেখার সাথে সাথে যখন একজন আশিক মুসলিম মনে ইস্পাত কঠিন ঈমান ও উদগ্র আগ্রহ-বাসনা নিয়ে পুরো মাস রোজা পালনের মহান উদ্দেশ্যে নিয়ত করে ফেলেন ও রোজা আদায়ে মশগুল হয়ে যান তখনই তিনি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের চাদর দ্বারা আবৃত হয়ে পড়েন। ফলে ইহজগতের শান্তি ও পরজগতের মাগফিরাত ও মুক্তির সনদ তার জন্য ঘোষণা করা হয়। বছরের বারটি মাসের মধ্যে রমজান মাসটি হলো সবচেয়ে বেশী মুবারক ও ফজীলতের মাস। পবিত্র কুরআনে কেবলমাত্র এই মাসটির নামই উল্লেখ করা হয়েছে।


আল্লাহতাআলা বলেছেনঃ অর্থাৎ রমজান সেই পবিত্র ও মুবারক মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। রমজান মাসের সঙ্গে আল্লাহর কালামসমূহের এক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এজন্যই বুজর্গানে দীন এবং আধ্যাত্মিক সাধকগণ এই মাসটিতে অধিক মাত্রায় কুরআন তেলাওয়াত করে থাকেন। নামাজের পরেই মুসলমানদের প্রতি আল্লাহতায়ালা যে ইবাদত ফরজ করেছেন তা হচ্ছে রমজান মাসের রোজা। কুরআন মজীদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেন- অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ, তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে- যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল (সুরা আলবাকারাহ ১৮৩)। এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর তরফ থেকে যত শরীয়াত দুনিয়ায় নাজিল হয়েছে তার প্রত্যেকটিতেই রোজা রাখার বিধি-ব্যবস্থা ছিল। চিন্তা করার বিষয় এই যে, রোজার মধ্যে এমন কি বস্তু নিহিত আছে যার জন্য আল্লাহ তায়ালা সকল যুগের শরীয়াতেই এর ব্যবস্থা করেছেন।

মহানবী (সা:) রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এরশাদ করেন-ঈমান ও এহতেসাবের সঙ্গে যে ব্যক্তি রোজা রাখবে তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে- রোজা একটি ঢালের ন্যায় (ঢাল যেমন দুশমনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে তেমনি রোজাও শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য ঢালস্বরূপ। সুতরাং, যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাসের রোজা রাখবে তার এ ঢাল ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়)।

দাঙ্গা-ফ্যাসাদ থেকে ফিরে থাকা উচিত। কেউ তাকে গালি দিলেও কিংবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করলেও পরিষ্কারভাবে বলা উচিত যে ভাই, আমি রোজা রেখেছি, তোমার সাথে এ অন্যায় কাজে আমি যোগ দেব এমন আশা করতে পারি না। তাই রোজাদারের রোজা রেখে যথাসম্ভব বেশী পরিমাণে নেক কাজ করা উচিত এবং প্রত্যেকটি ভাল কাজেই অংশগ্রহণ করা উচিত।

রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা যাবে না। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে প্রিয় নবী (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা এবং তদানুযায়ী আমল পরিত্যাগ করতে পারলনা এমন ব্যক্তির পানাহার পরিত্যাগ করার প্রয়োজন আল্লাহর নেই। এছাড়া বিশেষ করে রোজা রাখা অবস্থায় রোজাদারের মনে তার অন্যান্য ভাইয়ের প্রতি খুব বেশী পরিমাণে সহানুভূতি থাকা বাঞ্ছনীয়। কারণ নিজে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত হওয়ার দরুন খুব ভাল করেই অনুভব করতে পারে যে, অল্লাহর গরীব বান্দাহগণ দুঃখ ও দারিদ্র্যে কিভাবে দিন কাটায়।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) রমজানে অন্যান্য সময় অপেক্ষা অধিক দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হতেন। এসময় কোন প্রার্থী তার দুয়ার হতে বঞ্চিত হতে পারতো না। কোন কয়েদীও এ সময়ে বন্দী থাকতো না। যে ব্যক্তি এই মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি নফল কাজ করবে, সে অন্যান্য মাসে একটি ফরজ কাজ করার সমান সওয়াব পাবে।

আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ কাজ করবে, সে অন্যান্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সওয়াব হাসিল করবে। এ মাস সবরের মাস। আর সবরের বিনিময় হলো জান্নাত। এটি সমবেদনা প্রকাশের মাস। এই মাসে মুমিন বান্দাহদের রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করাবে, এই কাজ তার জন্য গুনাহ মাফের কারণ এবং জাহান্নামের আযাব হতে নাযাত পাওয়ার একটি ওসীলা স্বরূপ হবে। তাছাড়া তাকেও রোজাদার ব্যক্তির সমান সওয়াব দান করা হবে এবং এতে রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কিছুই কমানো হবে না। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই আমাদের সামনে আনন্দের সওগাত নিয়ে উপস্থিত হবে মাহে রমজানুল মুবারক।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ পবিত্র মাস মুসলিম নর-নারীর হৃদয়ে বসন্তের শিহরণ জাগিয়ে তুলবে। এ পবিত্র মাস নিয়মতান্ত্রিক খাওয়া চলা ঘুমসহ নানা ইবাদত বন্দেগী মুসলমানের জীবনে নব গতির সৃষ্টি করবে। মূলতঃ প্রকৃত মুমীনগণ এ মাসে সদা তৎপর থাকে আল্লাহর রহমত লাভের জন্য। তাই এ পবিত্র মাসের পবিত্রতা রক্ষার্থে, ইবাদত বন্দেগী তথা সেহরী, ইফতার, তারাবী, কুরআন তেলাওয়াত, এতেকাফ তাহাজ্জুদ দান সাদকা প্রভৃতি আদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

কেননা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়া কোন কাজেই সফলতা অর্জন করা যায় না। আসুন, এই মাহে রমজানে আমরা ঈমান ও চেতনা সহকারে আমাদের কাজে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য প্রকাশ করি এবং আগের ও পরের গুনাহ মাফ করে নেই। আর কান্নাভেজা কক্তে আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে মোনাজাত করি হে আল্লাহ। রমজানের সিয়াম সাধনা ও ইবাদতের বরকতে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি কর। বিশ্বে চিরশান্তি বিরাজ কর এবং শুভেচ্ছা বন্ধনে সুদৃঢ হোক।
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×