somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিড়িয়াখানা

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিড়িয়াখানা
এডওয়ার্ড ডি. হুচ
রুপান্তর - মো: ফুয়াদ আল ফিদাহ

সারা বছর আর যাই করুক না কেন, অগাষ্ট মাস আসলেই বাচ্চারা একেবারে ভদ্র-শান্ত হয়ে যেত। আর ২৩ তারিখের ঠিক আগে তো কথাই নেই, দেখে মনে হতো যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। কেননা প্রতিবছর ঘড়ির কাটা ধরে প্রফেসর হিউগোর আন্ত:জাগতিক চিড়িয়াখানা শিকাগোতে আসে।
বিশাল, রুপালী স্পেস শিপটা শিকাগোর কোনও একটা বড় পার্কিং এরিয়াতে অবতরণ করে। প্রত্যেক বছর আসে, ঠিক ছয় ঘন্টা থেকে চলে যায়। বেলা পড়ে যাবার আগেই বিশাল ভিড়ে জমে যায়। লাইন ধরে পুরুষ, নারী আর বাচ্চারা চিড়িয়াখানা দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। ফী-ও অল্পই। মাত্র ১ ডলার!
প্রফেসর হিউগোও নিরাশ করেন না। প্রতি বছর নিত্য নতুন প্রাণী নিয়ে আসেন। আগের বছর গুলোতে অনেক অদ্ভুত প্রাণী দেখার সৌভাগ্য এদের হয়েছে - ভেনাসের তিন-পাওয়ালা জন্তু, মার্সের লম্বা কিন্তু কাঠির মত শুকনো প্রাণী, আরও কত কী। এমনকী একবার অনেক দুরের গ্রহ থেকে সাপের মতো ভয়ানক প্রাণীও একবার প্রফেসর হিউগো নিয়ে এসেছিলেন।
বরাবরের মতো, এবছরও বিশাল রুপালী শীপটা দেখে সবার মুখ হা হয়ে গেল, বিশেষ করে বাচ্চাদের। শীপের দুই পাশে বড়, মোটা গরাদের খাঁচা। তার ভিতরে কিছু ছোট্ট, বুনো ঘোড়ার মত প্রানী। ছোট হলেও খুব দ্রুত। মনোযোগ দিয়ে খেয়াল না করলে, কোথায় গেল তা বোঝাই যাবে না। নিজেদের মধ্যে কথা বলছে, তীক্ষ্ণ স্বর।
পৃথিবীবাসীরা তাড়াহুড়ো করে জটলা পাকাল, এখনই প্রফেসর হিউগোর সহকারীরা টাকা তুলতে আসবে।
সবাই আগে আগে দেখতে চায়। টাকা তোলা শেষ হতেই, বেড়িয়ে এলেন স্বয়ং প্রফেসর হিউগো এসে হাজির হলেন। পরণে সেই নানা রংয়ের আলখেল্লা, মাথায় হ্যাট, 'পৃথিবীবাসীরা, আপনাদের স্বাগতম।', হাতের মাইক্রোফনে বললেন।
প্রফেসর হিউগোর আওয়াজ কানে গেল বলেই কিনা, উপস্থিত সবাই চুপ করে গেলেন। 'এই বছর, আপনাদের জন্য আমাদের রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। আপনাদের সামনে আমরা এনেছি, এমন এক প্রজাতির প্রাণীকে, যাদের সম্পর্কে খুব কম লোকই জানেন। কাহয়ান গ্রহের ক্ষুদ্রাকৃতির ঘোড়া-মাকড়সা প্রজাতি। লাখ লাখ মাইল দুরত্ব অতিক্রম করে এদেরকে আনা হয়েছে কেবল আপনাদেরই মনোরঞ্জনের জন্য। তাই আসুন, দেখুন এই অদ্ভুত প্রজাতিকে। শুনুন তাদের কথা। আর ভাল লাগলে আপনাদের বন্ধুদেরকেও জানান। কিন্তু তাড়াতাড়ি, কেননা আমার এই স্পেসশীপ মাত্র ছয় ঘন্টার জন্য এখানে থাকবে।'
ব্যস, শুরু হয়ে গেল প্রদর্শনী। আতংক আর বিষ্ময় নিয়ে সবাই দেখতে লাগল কাহয়ান গ্রহের ঘোড়া-মাকড়সাদের। 'পয়সা উসুল।' এক ব্যক্তি বলল,'আমার বউকে এবারের কথা বলতেই হবে। এখনই যাই, দেখি সেও দেখতে চায় কিনা।'
দিনভর প্রদর্শনী চলল, আসলে দিনভর না, ছয় ঘন্টাভর। না হলেও কমপক্ষে ১০ হাজার লোক এসেছিল। যখন, ছয় ঘন্টা শেষ হল, তখন প্রফেসর হিউগো আবার তার হাতে মাইক্রোফোন তুলে নিলেন।
'আমাদের সময় শেষ, যেতে হবে।', প্রফেসর বললেন, 'কিন্তু আমরা আবার ফিরে আসব। এইদিন এরকম সময়ে, সামনের বছরে। আর যদি আপনাদের প্রফেসর হিউগোর আন্ত:জাগতিক চিড়িয়াখানা ভাল লেগে থাকে, তাহলে আপনাদের বন্ধুদের, বিশেষ করে যারা অন্য শহরে আছেন, আমাদের কথা জানাতে ভুলবেন না। আগামীকাল আমরা থাকব নিউইয়র্কে। এরপরের সপ্তাহে লন্ডন, প্যারিস, রোম, হংকং আর সবশেষে টোকিও। টোকিওর পর আমরা চলে যাব অন্য কোনও গ্রহে।'
তিনি সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বিদায় জানালেন। শীপটি যখন মাটি থেকে আস্তে আস্তে উঠছিল, তখন উপস্থিত সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিল - এ জীবনে দেখা সেরা চিড়িয়াখানা এটাই।
দুই মাস ধরে আরও তিনটা গ্রহ ঘোরার পর, রুপালী স্পেস শীপটা কাহয়ানের রুক্ষ মাটিতে অবতরণ করল। ঘোড়া-মাকড়সা প্রাণি গুলো তাড়াতাড়ি নিজেদের খাঁচা থেকে বেরিয়ে পড়ল। প্রফেসর হিউগো তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বিদায়ী কথা বললেন। এরপরই প্রাণিগুলো নিজ নিজ বাড়ীর দিকে রওনা দিল।
এমনই একটা ঘরে মাদী প্রাণীটি, তার পুরুষ আর বাচ্চাটিকে ফিরতে দেখে আনন্দে আটখানা। এই কয়মাস সে খুব দু:শ্চিন্তায় ছিল। বাচ্চাটিকে জড়িয়ে ধরে হরবর করে কথা বলছিল কাহয়ান ভাষায়, 'এতদিন লাগল?', মাদীটি অভিযোগভরা চোখে পুরুষটিকে জিজ্ঞাসা করল, 'কেমন লাগল? মজা?'
'খুব মজা করেছি,' পুরুষটি মাথা নাড়ল, 'বিশেষ করে বাবু ত খুবই আনন্দ পেয়েছে।'
বাবুটি আনন্দের চোটে একবার এদেয়াল, আরেকবার ওদেয়াল করছে, 'আসলেই মা, খুব মজা করেছি। তবে সবচেয়ে মজা পেয়েছি যে জায়গায়, তার নাম হল পৃথিবী। ওখানকার প্রাণীগুলো আজব ধরনের। চামড়ার উপর কী যেন পড়ে। আর বললে বিশ্বাস করবে না মা, দুই পায়ে হাঁটে!'
'কিন্তু যদি কোনও বিপদ হত?', মাদীটি শিউরে উঠল।
'আরে নাহ', পুরুষটি উত্তর দিল, 'ওরা যেন আমাদের কোনও ক্ষতি করতে না পারে, তাই প্রফেসর হিউগো মোটা গরাদ দিয়ে আমাদেরকে আলাদা করে রেখেছিলেন। আমরা শীপেই ছিলাম। পরেরবার তোমাকেও যেতে হবে। তাহলেই বুঝবে।' স্মিত হাসি পুরুষটার মুখে, 'আমার ১৯ কম্মোক পুরা উসুল।'
বাবুটাও মাথা নেড়ে সায় দিল,' আসলেই এ জীবনে দেখা শেষ্ঠ চিড়িয়াখানা এটি।'
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৪



আমাদের এলাকার এক কসাই একটা উট এনেছে।
উট নিয়ে তার লাফালাফির শেষ নেই। খলিল কসাইয়ের চেয়ে বেশি লাফালাফি করছে ইউটুবাররা। ইউটুবাররা নিজেদের সাংবাদিক ভাবতে শুরু করেছে। প্রচন্ড ছেচড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×