somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আংটি

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশে কদিন ধরেই মেঘের বেশ ঘন-ঘটা ছিল, মনে হচ্ছিল বৃষ্টিটা যে কোনো সময় শুরু হয়ে যাবে, শেষ অবধি আজ ভোর রাত থেকে ঝমঝম করে বৃষ্টিটা শুরু হলো, এই বাদলা দিনে সকালে ঘুম থেকে উঠে জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে একবার ভেবেছিলাম, আজ আর অফিস গিয়ে কাজ নেই, একটা ক্যাজুয়াল লিভ নিয়ে নেই, কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়লো যে দপ্তরে দু-একটা আর্জেন্ট কাজ পরে আছে, কাজগুলি ইমিডিয়েট করে ফেলা দরকার, আর তা ছাড়া বাড়িতেও কদিন ধরে আমি আর রামহরি শুধু রয়েছি, গিন্নী আর মেয়ে গত সপ্তাহে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে, বাড়িতে থেকে তাই একা-একা কিছু করারও নেই, তার চেয়ে অফিসে গিয়ে বরঞ্চ আর্জেন্ট কাজগুলি সেরে ফেলি, বিছানায় শুয়ে রামহরিকে হাঁক দিলাম, চট করে আর এক কাপ চা দিয়ে যা তো, চা টা খেয়ে বাথরুমে যাই আমি, আর তুই ততক্ষণে আমার জল-খাবারটা রেডি করে ফেল।

কাক-ভেজা হয়ে এগারোটা নাগাদ অফিসে এসে পৌঁছলাম, দপ্তর আজ একদম খালি, সামান্যই ক’জন লোক এসেছেন, আর্দালিটাকে বললাম চট করে এক গ্লাস গরম চা নিয়ে আসতে, চা না খেলে কাজে যুত আসবে না, আর্দালি ছেলেটা যতক্ষণে চা নিয়ে আসছে ততক্ষণ একবার পেপারটায় চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক, প্রথম পাতায় আজ সেরকম মারমার-কাটকাট কোনো খবর নেই, শাসক দল এই বলেছে, বিরোধী দল তার জবাবে ওয়াক আউট করেছে, একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে হঠাৎ করে ওনার স্বাস্থের অবনতি হওয়ায় কাল দিল্লির এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ নদীর জলের ভাগাভাগি নিয়ে মৃদু রকমের ধমকি দিয়েছে, এইসব খবরে আমি খুব একটা আগ্রহ পাই না, খেলার পাতায় চলে আসি, কাল সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে ইন্ডিয়ার টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ম্যাচ ছিল, অল্পের জন্য ইন্ডিয়া ম্যাচটা হেরেছে, অনেকেই নাকি এই ভাবে নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়ায় এর মধ্যে অন্য কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন......... আর্দালিটা চা নিয়ে এসে টেবিলে রাখলো, সাব, এক বুড্ডা আওর এক লেড়কী আয়ি হ্যায় আপসে মিলনেকে লিয়ে।

এই বৃষ্টি বাদলার দিনে কারা আবার কোন দরকার নিয়ে এসে হাজির হলো, চায়ে চুমুক দিয়ে আর্দালিকে বললাম, যা ওনাদের ভিতরে পাঠিয়ে দে।

মিনিট খানেক বাদে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া এক বৃদ্ধ সঙ্গে বাইশ-তেইশ বছরের এক তরুনীকে নিয়ে দরজা ঠেলে ঢুকলেন। বৃদ্ধের পড়নের ধুতি বা ফতুয়াটা খুবই মলিন আর মেয়েটার পড়নের শাড়িটাও দেখে খুব একটা দামী বলে মনে হচ্ছিল না। বয়স্ক ভদ্রলোকটির মনে হয় হাঁপের টান আছে। ঘরে ঢুকে উনি বড়-বড় করে শ্বাস নিচ্ছিলেন। আমি ইশারায় টেবিলের সামনে রাখা চেয়ার দুটোয় ওনাদের বসতে বললাম।

তরুনীটি চেয়ারে বসতে বসতে হাত জোড় করে আমায় নমস্কার জানিয়ে বলে উঠলো, স্যার, আমরা প্রতীকের বাড়ি থেকে আসছি, ইনি প্রতীকের বাবা, আমরা প্রতীকের যে জিনিসগুলি আপনাদের কাছে আছে সেগুলি ফেরত নিতে এসেছি।

মেয়েটির কথাতে একটু নড়ে-চড়ে বসলাম, প্রতীক মানে......... তবু মনের সন্দেহটা মেটাতে মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম, কোন প্রতীকের কথা বলছেন আপনারা?

মেয়েটি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলো,স্যার, আমি ঐ প্রতীকের কথা বলছি যাকে আপনারা ছ মাস আগে ফাঁসীতে চড়িয়েছেন।

না, আর কোনো সন্দেহ নেই, গন হত্যার অপরাধে মাস ছয়েক আগে প্রতীক বলে এই ছেলেটার ফাঁসী হয়েছিল, বেশ অনেকদিন ধরে চলেছিল মামলাটা, আর সেই দীর্ঘ মামলার শেষে সরকারী উকিল শেষ অবধি প্রমান করতে পেরেছিলেন যে প্রতীক মান্না আসলে একজন খুনী, যিনি শুধু একজন বা দুজন মানুষকেই নয়, খুন করেছিলেন একাধিক মানুষকে। মামলার প্রথম দিকে প্রতীককে যতদিন না ওকে সেন্ট্রাল জেলে স্থানান্তরিত করা হয় ততদিন আমাদের জেলেই রাখা হয়েছিল, আমার বেশ মনে আছে আমাদের জেলে থাকাকালীন কখনো কাউকে ওর সঙ্গে এসে দেখা করতে দেখিনি, শুধু তাই নয়, মামলা চলাকালীনও আদালতে তার হয়ে কোনো উকিলকে কখনও জেরা করতে শুনিনি। কেসটার ধাপ অনুযায়ী বিভিন্ন আদালতে শুনানী হয়েছিল, বিচারকরা যখন প্রতীককে জিজ্ঞাসা করতেন যে তার নিজের কিছু বলার আছে কি না তখন প্রতীক বারবার সেই একই কথা বলতো। হুজুর আমার একটাই কথা বলার আছে, আপনারা মানুন বা না মানুন আমি কিন্তু নিজের মনের কাছে পরিস্কার, আমি কোনো মানুষকে হত্যা করিনি, যাদেরকে আমি হত্যা করেছি তারা এই সমাজের বুকে ঘুরে বেড়ানো কিছু মানুষ রুপী পশু, আর ঐ পশুগুলিকে হত্যা করার জন্য আমার মনে কোনো দিনই কোনো অনুশোচনা ছিল না আর যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন কোনো অনুশোচনা হবেও না, একটু দম নিয়ে প্রতীক আরো বলতো, যে প্রতিক্রিয়াশীল সমাজতত্ত্বে আমরা বিশ্বাস করি হুজুর, সেখানে সমাজের বুকে মানুষেরই শুধু বাস করার কথা, মানুষ রূপী কোনও পশুর সেখানে কোনও জায়গা নেই, আর তাই আমি মানুষের খোলসে ঘুড়ে বেড়ানো ঐ পশুগুলিকেই এই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।

প্রতীক যখন আমাদের জেলে ছিল তখন মাঝে-মাঝে ওর সঙ্গে আমার কথা হতো। এটা-ওটা জিজ্ঞাসা করতাম ওকে, কখনো ওর নিজের কথা, কখনও বা ওর আত্মীয়-স্বজনের কথা। প্রতীক অবশ্য নিজের ব্যপারে কখনো বা কিছু বললেও আত্মীয়-স্বজনের ব্যপারে একেবারেই মুখ খুলতো না। বেশী জোড়া-জুড়ি করলে বলতো স্যার কেন আপনারা বিশ্বাস করেন না যে আমার নিজের বলতে আজ আর এই পৃথিবীতে কেউ নেই, আসলে কি জানেন স্যার, সমাজের পরিকাঠামো বদলের শপথ নিয়ে যেদিন আমি পথে নেমেছিলাম সেদিনই মনে মনে নিজেকে বলেছিলাম যে এই পৃথিবীর বুকে আজ থেকে আমি সম্পুর্ণ একা। কথা বলতে বলতে প্রতীক কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে যেত। সেলের কংক্রীটের ছাদটার দিকে তাকিয়ে বলতো জানেন স্যার প্রতিবাদী কন্ঠের কোনও শেঁকড় থাকতে নেই, শেঁকড় থাকলে অনেক সময়ই সেই শেঁকড়টা প্রতিবাদী কণ্ঠটার গলা চেপে ধরে, বিশ্বাস করুন স্যার, আমার আজ আর কোনও শেঁকড় তাই বেঁচে নেই, আমি একদম একা।

স্যার, প্রতীকের জিনিসগুলো যদি আমাদের ফেরত দিয়ে দেন তবে আমরা যেতে পারি, আমাদের তো আবার অনেক দূর যেতে হবে, ওয়েদারটাও আজ খুব খারাপ, একটু তাড়াতাড়ি যদি করেন তবে খুব ভালো হয়। প্রতীকের কথা ভাবতে ভাবতে একটু অন্যমনস্কই হয়ে পড়েছিলাম, মেয়েটির কথায় সেই অন্যমনস্কতা কেটে যায়। টেবিলের কাচের দিকে তাকিয়ে মেয়েটিকে বলি, দেখুন ম্যাডাম প্রতীকের বিলঙ্গিংস বলে আমাদের কাছে যা রয়েছে তা খুবই সাধারন কয়েকটা জিনিস, একটা চিরুনী, গলায় পরার একটা স্টিলের চেন আর ওর মাণিব্যাগ থেকে পাওয়া প্রায় শ খানেক টাকা। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে যে প্রতীক জেলের খাতায় তার আত্মীয় বলে কাউকে ডিক্লায়ার করে যায়নি। তাই ওর জিনিসপত্র এভাবে আপনাদের দিয়ে দেওয়াতে আমাদের কিছু টেকনীক্যাল প্রবলেম আছে। তারপর নিজের থেকেই বলি ওনাদের, বসুন একটু, একবার বসের সঙ্গে কথা বলে দেখি, যদি ওনাকে রাজী করিয়ে আপনাদের ঐ জিনিসগুলি ফেরত দিয়ে দেওয়া যায়!

কথাগুলি বলতে মেয়েটির মুখের দিকে চোখ পড়ে গিয়েছিল, মেয়েটি দেখি কেমন যেন অদ্ভুত ভাবে আমার দিকে চেয়ে আছে, যেন আমার কথা ও ঠিক বিশ্বাস করছে না, ওর দৃষ্টিটায় আমার ভিতরটা যেন কেঁপে উঠলো, তাহলে কি মেয়েটি জানে ঐ জিনিসটার কথা, মনের অস্বস্তিটা নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে ওদের বসতে বলে আমি চলে গেলাম ওপরওয়ালার ঘরে।

স্যার প্রতীককে মনে আছে আপনার?

ঐ যে কয়েক মাস আগে যার ফাঁসী হয়েছিল, সেই প্রতীক?

সম্মতি সুচক ঘাড় নেড়ে বলে উঠলাম, দেখুন না স্যার কোথা থেকে এতদিন বাদে ছেলেটির বাবা আর একটি মেয়ে এসে ওর জিনিসগুলি ফেরত চাইছে, জিনিস বলতে অবশ্য সেরকম কিছুই নেই। খাতায় চেক করে দেখলাম যে প্রতীকের বিলংগিস বলতে দু একটা ফালতু জিনিস আর একশোটার মত টাকা লেখা আছে, আচ্ছা স্যার, এই জিনিসগুলো কি আমরা ওর বাবাকে ফেরত দিয়ে দিতে পারি?

দেখো শঙ্কর, জিনিসগুলো হয়তো খুবই সামান্য, কিন্তু অফিসিয়ালি আমরা ভদ্রলোককে ঐ জিনিসগুলি ফেরত দিতে পারি না, কারন প্রতীকের কোনও ডিক্লেয়ারেশন দেওয়া নেই যে ওর অবর্ত্তমানে ঐ জিনিসগুলি কাকে হ্যান্ড-ওভার করা হবে, তুমি বরঞ্চ এক কাজ করো, ওনাদের ব্যপারটা একটু বুঝিয়ে বলো যাতে ওনাদের সেন্টিমেন্টে কোনও আঘাত না লাগে।

সাহেবের ঘর থেকে ফিরে এসে মেয়েটিকে কথাগুলি বললাম, সরি, বসের সঙ্গে কথা বললাম, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী আমরা ঐ জিনিসগুলি আপনাদের ফেরত দিতে পারব না।

আমার কথা শেষ হলে নীলা মানে ঐ মেয়েটি বলে উঠলো, স্যার একটা কথা মনে করে বলুন তো, সত্যিই কি সেদিন আপনারা প্রতীকের কাছ থেকে চিরুনী, স্টিলের চেন আর ঐ টাকাকটা ছাড়া আর কিছু পাননি?

নীলার প্রশ্নের জবাবে ইচ্ছে করেই গলায় কিছুটা রুক্ষতা মিশিয়ে বললাম, বললামই তো আপনাদের, সেদিন ওর কাছ থেকে আমরা আর কিছু পাইনি, বারবার কেন একই কথা জিজ্ঞাসা করছেন, আর শুনুন, এবার প্লিজ আপনারা এখান থেকে যান, আমার কিছু আর্জেন্ট কাজ আছে, আমাকে কাজগুলি করতে দিন, আর হ্যাঁ, আই ফিল রিয়েলি সরি যে আপনাদের আমি কোনো হেল্প করতে পারলাম না।

গলায় রুক্ষতাটা মনে হয় একটু বেশীই হয়ে গিয়েছিল, আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বৃদ্ধটি উঠে দাঁড়ালেন, মেয়েটিও আর অপেক্ষা না করে আমার দিকে আরেকবার সেই অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বয়স্ক মানুষটির হাত ধরে বেরিয়ে গেলো আমার ঘর থেকে।

বৃষ্টিটা আজ সারাদিন ধরেই হচ্ছে, এই বিকেলেও থামার কোনো লক্ষন নেই, পাঁচটা নাগাদ দপ্তর থেকে বেরিয়ে পরলাম বাড়ির দিকে। ফেরার পথে দোকান থেকে একটা রামের বোতল নিয়ে নিলাম, বাড়িতে পৌছেই রামহরিকে বলবো গরম গরম পেঁয়াজি ভেজে দিতে, বৃষ্টিতে গরম পেঁয়াজির সঙ্গে রামটা ভালোই জমবে। বাড়ি পৌছে দেখি সদর দরজাটা হাঁ করে খোলা, ভাবলাম, রামহরি হয়তো হাউসিং কমপ্লেক্সের দোকানে গিয়েছে জিনিস-পত্র কেনার জন্য। ছাতাটাকে বারান্দার কোনে রেখে রামের শিশিটা নিয়ে সটান এসে ঢুকলাম বেডরুমে। কিন্তু বেডরুমে ঢুকতেই আমার চক্ষু চড়কগাছ, ঘরের কোনের সোফাটায় দেখি সকালের সেই মেয়েটি বসে আছে, মেয়েটির পড়নে তখনও সকালের সেই শাড়িটাই,

স্যার আমাকে এখানে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন, তাই না, আমাকে ঘরে ঢুকতে দেখে মেয়েটি জিজ্ঞাসা করলো।

কেমন যেন একটু ফ্যাঁস-ফেঁসে শোনাচ্ছে নীলার গলাটা, কই সকালে যখন মেয়েটা কথা বলছিল, তখন তো এ রকম শোনাচ্ছিল না, মনে মনে ভাবলাম হয়তো সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে সর্দি লেগে গিয়েছে মেয়েটার।

হ্যাঁ, আপনাকে এখানে দেখে একটু তো অবাক হচ্ছিই, কিছু মনে করবেন না নীলাদেবী, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না যে আপনি কেন আমার বাড়িতে এসেছেন?

স্যার আসলে আমি আপনাকে আরেকবার একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই, আমি জানি আপনার পারমিশন না নিয়ে এভাবে আপনার বাড়িতে চলে আসাটা আমার ঠিক হয়নি, প্লিজ তার জন্য আমায় ক্ষমা করে দেবেন, কিন্তু স্যার প্লিজ ভালো করে মনে করে একবার বলুন যে সেদিন সত্যিই আপনারা প্রতীকের কাছ থেকে আর কিছু পাননি?

দেখুন নীলা, আপনি কিন্তু এবার আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন, সকালেই আপনাদের বলেছি যে প্রতীককে জেলে নিয়ে আসার দিন ওর কাছ থেকে ঐ চিরুনী, স্টিলের চেন আর একশোটা টাকা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি, কেন আপনি একই কথা বারবার আমায় জিজ্ঞাসা করছেন?

নীলা শান্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, স্যার এই কারনেই আপনাকে কথাটা বারবার জিজ্ঞাসা করছি কারণ আমি আর আপনি দুজনেই খুব ভালো করে জানি সেদিন প্রতীকের কাছে ঐ জিনিসগুলো ছাড়াও আর একটা জিনিস ছিল। প্লিজ স্যার বলুন, প্রতীকের কাছে থাকা ঐ আঙটিটা আপনারা কি করেছেন, কথাগুলি বলার সময় নীলার গলায় অদ্ভুত একটা আত্মবিশ্বাস যেন খেলা করছিল।

আর নীলার বলা কথাগুলি আমার ভিতরের সব আত্মবিশ্বাসকে যেন নিমেষের মধ্যে শুসে নিলো, ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আমতা-আমতা করে বলে উঠলাম, কোন আঙটিটার কথা বলছো তুমি, কোনও আঙটি-ফাঙটি সেদিন আমরা ওর কাছ থেকে পাইনি। মনের উত্তেজনায় নীলাকে আমি এখন তুমি করে বলছি।

কেন মিথ্যে কথা বলছেন স্যার, আয়নায় যদি একবার নিজের মুখটা দেখেন এখন তাহলে বুঝতে পারবেন যে একটা দুধের বাচ্চাও আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে দেবে যে আপনি মিথ্যে কথা বলছেন। স্যার প্লিজ ঐ আঙটিটা আমায় ফেরত দিয়ে দিন যার উপরে প্রতীক বড় করে N অক্ষরটা লিখিয়েছিল আমাদের পাড়ার কুমোদ স্যাঁকড়াকে দিয়ে। কথা বলতে বলতে নীলার গলাটা ধরে আসে, প্লিজ স্যার, আমাকে আঙটিটা ফেরত দিয়ে দিন, জানেন স্যার, প্রতীক ঐ আঙটিটা ওর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বানিয়েছিল, ও বলতো, জানো নীলা আমি যদি কখনও হারিয়ে যাই তুমি এই আঙটিটা তোমার কাছে সব সময় রেখে দিও আমার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে।

নীলা যখন ঐ কথাগুলি বলছিল তার মধ্যে আমার হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসটা আবার যেন ফিরে আসে। প্রয়োজনের তুলনায় গলাটা গম্ভীর করে বলি, দেখো নীলা, তুমি যদি মেয়ে না হতে তাহলে এতক্ষনে আমি তোমায় পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিতাম। কিন্তু তুমি মেয়ে বলেই আরেকবার ভদ্র ভাবে বলছি প্লিজ তুমি এই মুহুর্ত্তে আমার বাড়ি থেকে চলে যাও।

এবার নীলার চোখের দৃষ্টিটাই শুধু নয় গলাটাও যেন হিস হিস করে উঠলো, স্যার ভয় দেখাবেন না আমাকে, তার চেয়ে বরঞ্চ ভাবুন যে এই মুহুর্ত্তে আমি যদি লোক-জন ডেকে আপনাকে বাধ্য করি আলমারীর লকারের মধ্যে রাখা আপনাদের গয়নার বাক্সটা খোলার জন্য তাহলে আপনার কি দশা হবে, আঙটিটা তো ঐ লকারেই রাখা আছে, তাই না?

আমার শিঁড়দাড়ার মধ্য দিয়ে যেন একটা হিম-স্রোত বয়ে যায়, গোপন সুত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী সেইদিন ভোর রাতে দলবল নিয়ে আমি পৌঁছে গিয়েছিলাম গড়িয়ার একদম ভিতরের দিকের সেই পুরনো বাড়িটায়, খবর ছিল, প্রতীক নাকি অসুস্থ অবস্থায় ঐ বাড়িটার ভিতরেই কদিন ধরে লুকিয়ে আছে, পৌঁছে দেখলাম খবরটা যে দিয়েছে সে ভুল খবর দেয়নি, ভেবেছিলাম হয়তো একটা সলিড এনকাউন্টার হবে, কিন্তু কিছুই হলো না, অসুস্থ প্রতীক কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই সেদিন আমরা খুব সহজেই তাকে গ্রেফতার করে ভ্যানে তুলে নিয়েছিলেম, বিপত্তিটা হলো ওকে নিয়ে থানার দিকে ফেরার সময়, ঐ পুরনো বাড়িটা থেকে কিছু দূর আসার পর ভ্যানটা হঠাৎ করে বিগড়ে গেলো, থানায় খবর পাঠিয়ে অন্য ভ্যান আনাতে সময় লাগবে, প্রতীককে নিয়ে আমার জীপের পিছনের সিটে বসিয়ে দিতে বললাম, ওর হ্যান্ডকাফটা জীপের বডির রডের সঙ্গে পেঁচিয়ে লক করে দিলাম, দুজন কনস্টেবলকেও ওর দুদিকে বসিয়ে দিলাম, আমি নিজেও সামনের সিট ছেড়ে পিছনে এসে ওর মুখোমুখি বসলাম, অবশ্য প্রতীকের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হচ্ছিল এত কিছু সাবধানতা নেওয়ার দরকার নেই, প্রচণ্ড জ্বরে ও তখন প্রায় অচৈতন্য, আমাদের জীপটা এসে আটকে গেল লেভেল ক্রসিংয়ে, একটা কনস্টেবল বললো, স্যার একটু ছোট বাইরে করে আসব, বললাম যাও, অন্য কনস্টেবল্টাও দেখি উশখুশ করছে, বুঝতে পারলাম, ছোট বাইরের কথাটা আসলে অজুহাত, আগের কনস্টেবলটা বিড়ী খেতে গিয়েছে এটা বোঝার পর এ-ও বিড়ী টানার জন্য অজুহাত খুঁজছে, একবার প্রতীকের অসুস্থ মুখটাকে দেখে দ্বিতীয় জনকেও বিড়ী টানার জন্য যেতে দিলাম, আর ওরা ফিরে আসার আগে সেদিন আমি প্রতীকের আঙুল থেকে খুলে নিয়েছিলাম ঐ আঙটিটা, প্রায় অচেতন প্রতীক টের-ও পায়নি যে কখন আমি আংটিটা ওর আঙুল থেকে খুলে নিজের পকেটে রেখে দিয়েছিলাম, কেন জানি না আঙটিটা দেখে সেদিন আমি আর লোভ সামলাতে পারিনি, বাড়ি ফেরার পথে একটা স্যাঁকড়ার দোকান খুঁজে আঙটিটায় এক প্রস্থ পালিশ করিয়ে নিয়ে স্যাঁকড়াটাকে বলেছিলাম আঙটিটাকে যেন একটা নতুন বাক্সে ভরে দেয়।

বাড়ি ফিরে সেদিন রাতে বৌয়ের হাতে যখন বাক্সটা তুলে দিয়েছিলাম তখন বৌ আঙটিটা দেখে বলেছিল তুমি কিরকম মানুষ গো, নামের আদ্যক্ষর লেখাবার সময় আমার ভালো নামটা (পরিণিতা) তোমার মনে এলো না? বৌয়ের শরীরটাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম দূর বাবা, তোমাকে আমি আবার কখন পরিণিতা বলে ডাকি, তুমি তো আমার কাছে শুধুই নীতা। তখন অবশ্য জানতাম না যে এই N আসলে নীলার N। বৌকে সেদিন আর বেশী কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আলো নিভিয়ে শুয়ে পরেছিলাম আমরা।

কে যেন হঠাৎ মনের ভিতরে বলে উঠলো, না শঙ্কর, নীলার কথায় তোমার অত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার কোনো কারন নেই, নিজেকে শক্ত করো, অতীতটাকে তাই জোড় করে মন থেকে মুছে ফেলে আর ভদ্রতার সব মুখোশ খুলে ফেলে নীলার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলাম, এই শালী, তুই এখন এখান থেকে যাবি নাকি দরজা বন্ধ করে তোকেই আজ রাতে বিছানায় তুলবো?

নীলা মাথাটা নীচু করে কিছুক্ষন মেঝের দিকে তাকিয়ে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায় আর তারপর আমার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বলে, ঠিক আছে স্যার, আমি যাচ্ছি, কিন্তু যাওয়ার আগে আপনাকে একটা কথা বলে যাই, প্রতীক মনে হয় আপনাদের মত পশুগুলিকেই সমাজের বুক থেকে খুঁজে খুঁজে মারছিল, আর কেন মারছিল জানেন, যাতে ঐ পশুগুলি শেষ হয়ে গেলে এই সমাজটা দূষন মুক্ত হয়ে সাধারন মানুষের বাস যোগ্য হয়ে উঠতে পারে, আমাদের মত সাধারন মানুষ একটু ভালো করে শ্বাস নিয়ে বাঁচতে পারে। চলি স্যার, গুড নাইট, ভালো থাকবেন।

নীলা বেরিয়ে যেতে আলমারি খুলে গয়নার বাক্সটা একবার দেখলাম, না, বৌ বাপের বাড়ি যাওয়ার সময় আঙটিটা পরে যায়নি, বাক্সের মধ্যেই আঙটিটা রয়েছে। মনে মনে ভাবছিলাম, নীলা জানলো কি করে যে আঙটিটা ওখানেই আছে, ধুর বাবা, মাথাটা একদম আর কাজ করছে না, রামের শিশিটা খুলে গ্লাসে কিছুটা রঙিন তরল ঢেলে নিলাম, রামহরিটাও যে তখন থেকে কোথায় গিয়েছে, কে জানে, এখনও ফেরার নাম নেই। ঠিক আছে বাকিটা না হয় পেঁয়াজি দিয়ে মারা যাবে, এখন একটা পেগ চাঁনাচুর দিয়েই মেরে দেই।



কাল শুতে শুতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল, আজও সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বৃষ্টিটা সমানে পড়ে চলেছে, থামার কোনো লক্ষন নেই। কাল ঘুম আসছিল না বলে পুরো বোতলটাই শেষ করে ফেলেছিলাম, আজ সকালে উঠে দেখি কালকের হ্যাং-ওভার এখনও রয়েছে, গা হাত পা ম্যাজ-ম্যাজ করছে, না আজ আর অফিসে যাব না, বিছানায় শুয়ে শুয়েই রামহরিকে ডেকে বললাম, বুঝলি আজ আর অফিস যাচ্ছি না, রামহরিকে কথাগুলি বলে শুয়ে পড়লাম আবার, ঘুমটা ভাঙলো প্রায় দশটার সময়, রামহরি চা দিয়ে গেলে চায়ের কাপ আর পেপারটা নিয়ে এসে বসলাম বাইরের বারান্দায়, প্রথম পাতা জুড়ে অন্যান্য খবরের সাথে বৃষ্টিতে ভাসা কোলকাতার নানা অঞ্চলের খবর আর ছবি। আবহাওয়া দপ্তরের আগাম পুর্বাভাষ যে আরো দুদিন নাকি এরকম বৃষ্টি চলবে। পাতা উলটোতে উলটোতে ভিতরের পাতার একটা ফটোতে গিয়ে চোখ আটকে গেল। বক্সের মধ্যে একটা ফটোর সঙ্গে ছোট্ট একটা খবর। কালকে ধর্মতলার মোড়ে পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন একটি অল্প বয়স্ক তরুনী আর তার সঙ্গে থাকা এক বৃদ্ধ। ফটোতে কারোর মুখই ঠিক পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু আমার মনের মধ্যে ফটোটা দেখে কেমন যেন একটা খিচ-খিচ শুরু হয়ে গেল, খিচ-খিচানিটা দূর করতে শেষ অবধি খুঁজে পেতে ঐ অঞ্চলের পুলিশ স্টেশনের ফোন নম্বর জোগার করে ফেললাম, যে কনস্টেবলটা ফোন ধরেছিল তাকে নিজের পরিচয় দিয়ে বললাম ইমিডিয়েটলি থানার ইন্সপেক্টরকে ফোনটা দিতে।

ইন্সপেক্টরের কাছ থেকেই জানলাম যে বডিদুটো খুব সম্ভবত এখন মর্গে আছে, আমি আর অপেক্ষা করলাম না, চা খেয়েই বেরিয়ে পরলাম মর্গের উদ্দেশ্যে। বডি দুটো দেখার জন্য অবশ্য খুব একটা কাঠ-খড় পোড়াতে হলো না। মর্গে এসে দেখি, যে ডিউটি অফিসার রয়েছেন সে আমার কলেজের ব্যাচ-মেট। বন্ধুই সব ব্যবস্থা করে দিল। একটা লোককে ডেকে বললো আমায় লাশ-ঘরে নিয়ে যেতে। যে লোকটা আমায় লাশ ঘরে নিয়ে এসেছিল সে নম্বর মিলিয়ে প্রথম লাশটা বার করতেই আমি চমকে উঠলাম। আরে এ তো নীলা! লোকটা লাশের মুখের ওপর থেকে কাপড়টা আরেকটু সরাতে দেখলাম নীলার মুখে চাঁপ-চাঁপ রক্ত জমে কালো হয়ে রয়েছে। আর দেখার দরকার ছিল না। তবু চোখ চলে গিয়েছিল দ্বিতীয় ট্রে টায়। হ্যাঁ ওটাতে শুয়ে আছেন প্রতীকের বাবা।

কোনক্রমে লাশঘর থেকে বার হয়ে বন্ধুটিকে জিজ্ঞাসা করলাম কখন হয়েছে অ্যাক্সিডেন্টটা?

একটু অপেক্ষা কর, খাতা দেখে তোকে বলছি, বাইরে দাঁড়িয়ে আমি যখন সিগারেটে টানছিলাম বন্ধুবর এসে জানালো যে কাল ধর্মতলার মোড়ে ঐ অ্যাক্সিডেন্টটা দুপুর দুটো নাগাদ হয়েছে।

বন্ধুর কথা শুনে অসম্ভব বলে আমি প্রায় চিৎকার করে উঠেছিলাম, নীলা তো কাল সন্ধ্যায় আমার সঙ্গে দেখা করতে---মুখের কথাটা শেষ না করে কোনও রকমে ঢোক গিলে বন্ধুকে বলেছিলাম আজ আমি চলি রে, পরে একদিন তোর সঙ্গে এসে জমিয়ে আড্ডা দিয়ে যাব। বন্ধুকে আর কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে দৌড়ে চলে এসেছিলাম বাসস্টপে। তারপরে নিজেও ঠিক জানি না যে কিভাবে আমি বাড়িতে এসে পৌছেছিলাম। রামহরি দরজা খুললে ওকে প্রায় ধাক্কা মেরে দৌড়ে এসে ঢুকেছিলাম আমার বেডরুমটায়। ঐ তো সেই সোফাটা যেখানে কাল সন্ধ্যায় নীলা বসেছিল। রামহরি আমার পিছু পিছু এসে ঢুকেছিল বেডরুমে। আমাকে ঐ ভাবে সোফাটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠেছিল কি হয়েছে বাবু, আপনার শরীর ঠিক আছে তো?

সোফা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রামহরির দিকে ঘুরে বলেছিলাম রামহরি তুই কাল সন্ধ্যায় কোথায় গিয়েছিলি রে?

রামহরি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে উত্তর করলো, আমি আবার কোথায় যাব এই বৃষ্টি-বাদলায়, সন্ধ্যায় তো কাল আমি ঘরে বসে টিভি দেখছিলাম।

টিভি দেখছিলি! মিথ্যে কথা বছিস তুই, আমি কাল সন্ধ্যাবেলায় বাড়ি ফিরে দেখলাম যে সদর দরজাটা খোলা আর একটা মেয়ে এই বেডরুমে ঢুকে বসে আছে।

কি বলছেন বাবু, কোনো মেয়ে কেন, কাল সারাদিনে আমাদের বাড়িতে কেউ আসেনি, বাবু আমার মনে হয় আপনার শরীরটা ঠিক নেই, আমি বরঞ্চ মাকে ফোন করে আজই ফিরে আসতে বলি।

আমার মাথাটার ভিতর কেমন যেন হচ্ছিল, রামহরি তুই একটু ভেবে বলতো সত্যিই তুই কাল সন্ধ্যেবেলায় বাড়িতে ছিলি?

হ্যাঁ বাবু, কাল সন্ধ্যে থেকে আমি বিলকুল বাড়িতেই ছিলাম, আপনি আসছেন না দেখে টিভিটা চালিয়ে যে বাংলা সিনেমাটা হচ্ছিল সেটা দেখছিলাম।

আমি আসছিলাম না মানে, আমি তো কাল সন্ধ্যাবেলাতেই বাড়ি চলে এসেছিলাম।

কি যে বলেন বাবু, আপনি তো কাল রাত এগারোটা নাগাদ বাড়ি ফিরেছেন, তাও কোথা থেকে যেন ছাঁই-পাশ গিলে এসেছিলেন, বাড়িতে ফিরে তো কিছু খেলেনও না, বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

না এবার আমার সব কিছু সত্যিই গুলিয়ে যাচ্ছে, আমি আর ভাবতে পারছি না, রামহরির কথা অনুসারে কাল আমি রাত করে বাড়ি ফিরেছি আর সন্ধ্যা থেকে সে বাড়িতেই ছিল, কিন্তু তাহলে কাল সন্ধ্যায় এই ঘরে নীলার সঙ্গে আমার যে কথা-বার্ত্তা হলো সেটা তাহলে কি, আবার মর্গের খাতায় লেখা রয়েছে যে কাল দুপুরে নীলার অ্যাক্সিডেন্টে মৃত্যু হয়েছে, তাহলে সন্ধ্যাবেলায় আমার ঘরে নীলা এলোই বা কি করে, আমি আর ভাবতে পারছি না, মাথাটা কেমন যেন টাল খেয়ে উঠলো আমার আর সেই টাল সামলাতে সামনের সোফাটায় বসে পড়লাম আমি, আর তখনই নিজের অজান্তে নজরটা চলে গেলো ঘরের মেঝেতে, ঘরের মেঝেতে কালচে লাল মত ওটা কি লেগে রয়েছে, রামহরিকে বললাম দেখ তো ওটা কীসের দাগ?

রামহরি দেখে বললো বাবু দেখে তো মনে হচ্ছে যেন রক্তের ফোঁটা, কিন্তু রক্তের ফোঁটা এখানে এলো কি করে, আপনার কোথাও চোট-ফোট লাগেনি তো?

রামহরি দাঁড়ায় না, রক্তের ফোঁটাগুলি মোছার জন্য ন্যাতা আনতে চলে যায়, রামহরি যখন ঘর থেকে বেরিয়ে ন্যাতা আনতে যাচ্ছিল আমি মনে মনে বললাম না রে রামহরি, আমার কোথাও কোনও চোট লাগেনি, এই রক্তের ফোঁটা কার শরীর থেকে ঝরে পড়েছে সেটা আমি জানি, তাকে আমি এই কিছুক্ষন আগে মর্গে দেখে এলাম।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম কৃষকের

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

Click This Link

পঞ্চগড় এলাকায় ৪ টা লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায় ! ইত্তেফাকের মত প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রে আসা এ সংবাদ অসত্য বা অতিরঞ্জিত না হলে বিষয়টা একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×