একদিন এ নগরীর সমস্ত রাজপথ জুড়ে ছিল আমার প্রবেশদ্বার, আজ আমি শীতনিদ্রায়, পরিযায়ি পাখীদের ডানায় ভর করে উড়ে যাচ্ছি আবর্তনশীল সূর্যের রথে, ঝোড়ো হাওয়ায় চারপাশে ভিড় করে এক ছায়ামুখ, সময়ের তীর এসে বিদ্ধ করে প্রেমকে, অথচ এই প্রেম-ই একদিন কবিতা হয়ে তোমার দেহে ছড়িয়ে দিয়েছিল দূষণ অথবা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল সঞ্চিত সব প্রণয়, সেই প্রণয় মাখা উজ্জ্বল নারী, আজ তুমি কোথায়, হয়তো তুমি বালিয়াড়িতে অথবা বরফ আচ্ছাদিত পৃথিবীর কোনো পথে, তোমার হৃদয়ের বিভূতিতে সেখানে জ্বলে ওঠে আজ মঙ্গলদীপ, প্রেমের ছায়া, প্রাণের প্রাচুর্য খেলে বেড়ায় সেখানে, আর আমি, অর্ধঘুম আর জাগরণকে সঙ্গে নিয়ে বরফ পতনের শব্দ শুনি, নিজেকে আবৃত করি শীতবস্ত্রে আর অসংখ্য স্মৃতির ব্লাংকেটে, ভ্রাম্যমানতায় জেগে ওঠে গান বেদনা অথবা বিলুপ্তি, অস্তিত্বের প্রগাঢ় আলোয় খুঁজে বেড়াই তোমায় .........
আরো কিছুক্ষণ বাঁচতে চাই আমি ...... আরো কিছুক্ষণ ......
হে তৃতীয় পাণ্ডব, প্রাণ ভিক্ষা নয়, দক্ষিনায়ণ থেকে উত্তরায়ণ, পরিযায়ী পাখীদের যাত্রাপথ শেষ হলেই চলে যাব আমি বিস্মৃতির আড়ালে, তারপর পৃথিবীতে নেমে আসবে রক্ত, প্রেম, যুদ্ধ অথবা ভালোবাসা ............ যেভাবে তারা নেমে এসেছে বারবার, পারো যদি রচনা করো এক শরশয্যা, তুলে দাও বাণ সেই নারীর হাতে যার সমস্ত পরিচয় একদিন লেখা হয়েছিল আমার অপূর্ণ প্রেমে, আমার আত্মাকে যে করেছিল ক্ষত-বিক্ষত, অসংখ্যবার যার ঠোঁট আর আশ্লেষ উদ্ধ্বত সৈনিকের পরাভবে আমায় ছুঁয়ে গিয়েছিল, সেদিনও আমি ছিলাম বর্মহীন, আজও শরশয্যায় খুলে রেখে আসব সমস্ত রণসাজ আমার ............
তীরবিদ্ধ একিলিস অথবা পিতামহর মত আমার চোখের কোনেও অশ্রুবিন্দু খুঁজে পাবে না কোথাও .........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


