somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটকের নাম অন্য নাগরিক

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মধ্যদিনের এসপ্ল্যানেড চিরে দারুণ বেগে ছুটে যাচ্ছে ট্রাফিক
চারপাশের ব্যস্ততায় যুবকটির যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, উদাসী চোখে
সে এখন আকাশ দেখছে, আশেপাশের সবকিছু যেন বড় নিমিত্ত
আর তখনই তার সামনে এসে দাঁড়ায়
দুজন মানুষ, স্বামী-স্ত্রী ওরা, স্বামীটি তার শিরা বের করা
হাতে ফলিডলের শিশি ধরা, মেয়েটি
যুবকটিকে অনুরোধ করছে তাদের মাঝে এসে যীশু হয়ে দাঁড়াতে
প্রেমের মৃত্যুর আগে মৃত্যুটাকে তারা প্রতীকী করে যেতে চায়,
যুবকটি মৃদু হেসে কাঁধের ঝোলা থেকে কয়েকটা পেরেক আর একটা হাতুড়ি বার করে

তোমরাও তাহলে মরার আগে আমার শরীরে অন্তত দু-একটা পেরেক পুতে দাও

দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী এই দৃশ্য দেখে প্রেমিককে বলে ওঠে
আহা রে মনে হচ্ছে এরা সব মেন্টালি 'সিক',

কে বলবে ওদের, এই নাটকে অভিনয় করা মানুষগুলি আসলে অন্য নাগরিক

দৃশ্যপট বদলে যায়, স্বামী-স্ত্রী-র বদলে এখন সেখানে
দুটো অর্দ্ধ উলঙ্গ ছেলেমেয়ে আর নিভতে থাকা একটা সুর্য
ছেলেমেয়ে দুজনেরই রিকেটি শরীরে ক্ষুধার
ছাপ যেন বড় স্পষ্ট, মেয়েটি অ্যালমুনিয়ামের থালা হাতে
তারস্বরে চেঁচাচ্ছে, আমাদের কোনো দ্যাশ নাই,
আমাদের কোনো ভাষা নাই, ছেলেটি গাড়ির বন্ধ কাচে
টোকা দিয়ে বলছে একটা আধুলি দাও না গো,
আমাদের সেই যুবক এখনও তার দুহাত দুদিকে
প্রসারিত করে একই ভাবে এবং একক ভাবে দাঁড়িয়ে, পশ্চিমে
ঢলে যাওয়া ঈষৎ ক্লান্ত সুর্যকে সে যেন বলছে
ধীরে, আরো ধীরে নেভো তুমি, আসলে তুমি নিভলে আবার
একটা প্রভাত আসবে, সেখানে রৌদ্র হবে নতুন একটা
ব্যাধ, আর সেই ব্যাধের তাপে নতুন করে পুড়তে থাকবে
নতুন প্রজন্ম, পুড়তে থাকবে নতুন স্বামী-স্ত্রী, তাদের ছেলেমেয়ে
অথবা তাদের না বলা ভালোবাসা,

নিভে যাওয়ার আগে তুমি দিয়ে যেয়ো আমার চিতাভষ্ম
আর মরচে না ধরা ঐ পেরেকগুলো


ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা স্বামী-স্ত্রী বন্ধ কাচের ওপারে গল্প জোড়ে
মনে হচ্ছে এরা সব 'মানসিক'

কে বলবে ওদের, এ নাটকের নাম অন্য নাগরিক
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম কৃষকের

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

Click This Link

পঞ্চগড় এলাকায় ৪ টা লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায় ! ইত্তেফাকের মত প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রে আসা এ সংবাদ অসত্য বা অতিরঞ্জিত না হলে বিষয়টা একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×