somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফুলের টব ও আমাদের বেঁচে থাকা । একটি টুকরো আত্মজীবনী ।

১৭ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গিন্নী কয়েকমাস আগে বাড়ির ছাদে কিছু ফুলের টব, গামলা লাগিয়েছিলেন এবং ধীরেধীরে ছাদটি দেখি সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটি বাগিচায় পরিণত হয়েছে।

আজ ছাদে গিয়ে দেখি, গামলাগুলোয় চমৎকার ফুল ফুটেছে। ছোট নেবু গাছে দুটো ছোট নেবু ধরেছে আর দেখি দু চারটে কাঁচা লংকা ঝুলছে, টকটকে লাল রঙের।

গত সপ্তাহে গিন্নী যে ছোট গোলাপ গাছের চারাটা পুঁতেছিলেন, সেই টব খানি দেখি টেনে নিয়ে অন্য টবগুলোর পাসে করছেন।

আমি শুধাই, "এই ভারী টব কেন তুমি টানা হেঁচড়া করছ..?"

গিন্নী বলেন, "এই ছোট গোলাপ গাছটা শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই এটাকে টেনে অন্য গাছগুলোর কাছাকাছি করে দিচ্ছি।"

আমি মুচকি হেসে বলি, "গাছ শুকোচ্ছে তো খাদ দাও, জল দাও। অন্য চারাগাছের কাছে নিয়ে গেলে আর কি হবে..??"

গিন্নী জবাবে বলেন, "অন্য গাছগুলোর কাছে নিয়ে গেলে দেখবে এই শুকনো গাছ আবার কেমন জীবন্ত হয়ে উঠবে। একলা, এক কোণে পড়ে আছে বলে, শুকিয়ে যাচ্ছে।"

অদ্ভুত যুক্তি..!! কিছুই মাথা মুন্ডু বুঝিনা, কিন্তু চোখের সামনে পরপর কয়েকটা ছবি ভেসে ওঠে।

ঠাকুর্দার মৃত্যুর পরে, ঠাকুমা একদিনেই বুড়ি, অনেক বেশী বুড়ি হয়ে গিয়েছিলেন। যদিও ঠাকুর্দার মৃত্যুর পরেও উনি অনেক বছর বেঁচে ছিলেন, কিন্তু ঠিক একটা ঠকঠকে শুকনো গাছের মতন। ঠাকুর্দার জীবিত অবস্থায় যে ঠাকুমাকে দেখেছি সদা হাস্যমুখী, সেই ঠাকুমা একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিলেন।

হ্যাঁ, গিন্নীর কথায় এবার আমি বিশ্বাস ধরছিল। মনে হচ্ছিল, সত্যিই, চারাগাছ একলা পড়ে গেলে হয়ত শুকিয়ে যায়।

ছেলেবেলায় দেখেছি, একওয়েরিয়ামের শক ছিল ছোট মামার। বাজার থেকে একওয়েরিয়াম কিনে তাতে ছোট রঙিন একটা মাছ ছাড়া হয়েছিল। মাছটা সারাদিন দেখতাম মনমরা হয়ে কাঁচের বাক্সের একধারে স্থির হয়ে থাকত। খাবার দিলে সেগুলো না খেয়ে এদিক ওদিক চুপচাপ অলস ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়াত। ধীরে ধীরে বাক্সে ছাড়া খাবার গুলো বাক্সের তলায় জমা হতে থাকে। এভাবে দুদিন কাটার পর তৃতীয় দিন সকালে দেখি, ছোট্ট মাছটা জলের ওপর উল্টো হয়ে ভেসে আছে।

ছোট ওই রঙিন মাছটার কথা আজ খুব মনে পড়ছে।

ছেলেবেলায় অতশত জানতাম না। যদি সেদিন কেউ আমায় বোঝাত, ঠিক ছোট মামাকে বলে আরও চার-পাঁচটা মাছ কিনে কাঁচের বাক্সে ছেড়ে দিতে বলতাম, তাহলে ওই ছোট্ট মাছটা হয়ত একাকীত্বের মৃত্যু থেকে বেঁচে যেত।

ছেলেবেলায় মা'র কাছে শুনেছিলাম, বাড়ির দেওয়ালে প্রদীপ রাখার জন্যে যে কুলুঙ্গি করা হয়, সেটা করা হয় অন্ততপক্ষে দুটো। মা বলতেন, একটা কুলুঙ্গি সংগী না পেলে মনমরা হয়ে যায়।

আমার মনে হয়, এই পৃথিবীতে একাকীত্ব কারুরই পছন্দ নয়। সে মানুষ হোক বা গাছ, প্রত্যেকের কোন না কোন সাথীর প্রয়োজন হয়।

নিজের আশেপাশে উঁকি দিয়ে দেখুন। যদি কাউকে একাকী দেখতে পান, তাকে সংগ দিন। তাকে অকালে ঝরে পড়া থেকে আপনি বাঁচাতে পারেন। ঈশ্বর সে সামর্থ্য দিয়েছেন, আমাদের সবাইকে।

যদি নিজেকে মনে করেন একলা, আপনিও কারুর সংগ নিন, নিজেকে তাজা, হাসিখুশি রাখতে।

একাকীত্ব সংসারে বিরাট এক সাজা। ফুলের টব, গামলা আমরা টেনে নিয়ে গিয়ে অন্য ফুলের পাশে করে দিতে পারি বটে কিন্তু মানুষকে কাছাকাছি আসতে হলে, বুঝতে হবে অপরের মানসিকতা, চেষ্টা করতে হবে অন্যের মনের কাছে আসার।

মনের কোন কোণায় যদি কখনো মনে হয় জীবনের রস, জীবনিশক্তি শুকিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তখন সম্পর্কের ও ভালবাসার বারিধারা ঢালুন। জীবন রসের পুণঃসঞ্চার হবেই হবে।

হাসুন। আনন্দে থাকুন। যদি ভুল করে কোন সম্পর্ক থেকে দূরে সরে এসেছেন কিংবা বঞ্চিত হচ্ছেন, তাকে কাছে পাবার চেষ্টা করুন এবং হয়ে যান আবার আগেকার মতন পল্লবিত।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১:৪৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩৬

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

USB Charger এর ভেতরে লুকানো ক্যামেরার ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা দেখা, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুটান ও বাক স্বাধীনতা!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৪

ভুটানের নাগরিকদের জন্য দেশটির সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিত করেছে, যা দেশটির "গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস" (GNH) দর্শনের মূল ভিত্তি। ভুটানের সাধারণ মানুষ মূলত যে সমস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×