মাস্টারমশাইয়ের মন অতীতচারী আজ। ছাত্রাবস্থায় শোনা দুটো ঘটনা মনে আসছে। কোনও এক ইস্কুলের কর্তৃপক্ষের একদা মনে হয়েছিল, সমস্ত কাজ বাংলায় করতে হবে। এমনকি, রুটিনে মাস্টারমশাই, দিদিমণিদের নামের আদ্যক্ষরও লেখা থাকবে বাংলাতে। ফল হলো মারাত্মক। সুনীল রাহা সুরা হয়ে নেশা বিলোতে লাগলেন; দুলাল ধর হলেন দুধ। নিবেদিতা বসু কলমহীন নিব হলেন; আভা মণ্ডল আম হয়ে অস্বস্তিতে পড়লেন। এবং ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শান্তনু লাহা! তবে, পিটি স্যারের চেয়ে বেশি উত্তেজিত কেউই নন। তাঁর বাবা ইতিহাসের ভক্ত ছিলেন। শখ করে ছেলের নাম রেখেছিলেন হুমায়ুন। সেই হুমায়ুন লোধ - এর উগ্র প্রতিবাদে সামিল হলেন প্রায় সব শিক্ষক শিক্ষিকা। ফলে, রুটিনে আবার ইংরিজি ইনিশিয়াল ফিরে এল। তবে, ততদিনে যা হওয়ার হয়ে গেছে। গেমস্যার সর্বসম্মতিক্রমে হুলো স্যারে রূপান্তরিত হয়েছেন।
কিছুদিন পরের কথা। হুমায়ুনের হাতে একটা নতুন ঘড়ি দেখে, এক সহকর্মী বললেন,
- কিনলেন?
- না, বিয়েতে পেয়েছি।
একটু পরেই একটি বিনীত কন্ঠ শুধোল,
- স্যার, আপনি বিয়ে করেছেন?
হুমায়ুন রুখে উঠলেন,
- হ্যাঁ! তাতে তোর কী?
টিফিনের পর ক্লাস টেন-এ তে ঢুকলেন পি টি স্যার। কিছুক্ষণ জমে রইলেন। তারপর ছিটকে বেরিয়ে এসে সোজা হেডস্যারের ঘরে। কথা আটকে যাচ্ছে। কী বলছেন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। অবশেষে, হেড স্যার সরজমিন তদারকিতে বেরোলেন। পেছনে আর সবাই। টেন-এ -র ক্লাসরুমে ঢুকতেই একটা প্রগাঢ় নীরবতা নেমে এল। আর, তার মধ্যে কিছু অদ্ভুত শব্দ। সহকর্মীর প্রতি সমবেদনা না থাকলে, তাকে প্রাণপণে হাসি চাপার শব্দ বলে সন্দেহ করা চলতো।
টেন -এ -র সমরেশ অসাধারণ ছবি আঁকে। ব্ল্যাক বোর্ডে শোভা পাচ্ছে তার নব শিল্পকীর্তি।
একটা হুলো আর একটা মেনি বিড়াল। দুটোর ল্যাজে ল্যাজে গিঁট বাঁধা। হুলোর একটা পা সামনে বাড়ানো। তাতে বাঁধা একটা নতুন এইচ এম টি -র ঘড়ি!!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





