পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়েছেন কিন্তু দাড়ি মোচ কাটেন নাই এমন লোক খুজিয়া পাওয়া মুস্কিল ই হইবে।জগতের অতি আশ্চর্যের দারুন এক অধ্যায় হচ্ছে এই দাড়ি কামানো। জীবনে প্রথম যেদিন দাড়ি কামাই সেই কথাই আজ লিখিয়া ফেলিব বলিয়া মনস্থির করিয়াছি।
তখন আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি।প্রেম করি না।তারপর ও কি করিয়া যেন সিদ্ধান্ত নিলাম অনেক হইয়াছে এইবার দাড়ি কামাইতে হইবে।এইখানে উল্লেখ্য যে,আমার আবার দাড়ি মোছ কম ছিল।সেই বয়সেও পর্যাপ্ত পরিমান হয় নাই।কিন্তু বড় হইয়াছি,পার্ট লইতে হইব আশেপাশের লোকজনকে বুঝাইতে হইব যে বড় হইয়াছি।যেমনি ভাবনা তেমনি কাজ।কিন্তু কেমন করিয়া এই কাম করি,কারন তখনো আমি বাপ মায়ের হোটেলেই খাই আর ঘুমাই। তাহাদের পারমিশন ছাড়া এই কাম তো আর করা যায় না। আর পারমিশন না লইয়া এই কাম করিলে দৌড়ানি খাইতে পারি।তাই পারমিশন লইতে হইব। তাই প্রজেক্ট পারমিশন শুরু হইল।কিন্তু আজব বিষয় লজ্জাও লাগে আবার শেভ ও করিতেও হইবে।কী বিশাল সে ফাপর!! ভুক্তভোগী কহিতে পারিবেন।অবশেষে সকল লজ্জার বাধ ভাঙ্গিয়া মায়ের নিকট চলিয়া গেলাম।কী করিয়া কথা শুরু করিব তাহা খুজিয়া পাইতেছিলাম না। আচমকা মা কে বলিলাম মা টাকা দাও!! মা তো আকাশ হইতে পড়িলেন। চেহারায় বিশাল এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন ফুটায়ে উঠায়ে বলিলেন কেন? আমিও দুম করিয়া বলিয়া দিলাম শেভ করিব।
এইবার আমার মা মনির মাথায় পুরা আকাশ ভাঙ্গিয়া পরিল। সে কহিল বাবা!! তোমার বাবার নিকট আগে জানাইয়া লই!! তারপর শেভ করিও। আর এখনি বা শেভ করিবে কেন? তোমার তো এখনো বয়স হয় নাই। মনে মনে কহিলাম আমি বুড়া হইলেও বয়স তোমার কাছে হইবে না। এখন যৌবন যার শেভ করিবার অধিকার তার।
দেখিলাম আমার প্রজেক্ট লস খাইতেছে। বলিলাম আমি আজকেই করিব। এই আমি চলিলাম। মা আর বাধা দিলেন না, প্রকারন্তরে বাধা দিতে পারিলেন না। আমি মহা আনন্দে সেলুনে গিয়া জীবনের প্রথম শেভ করিলাম। শেভ করিবার পর আয়নায় চাইয়া দেখি নিজেরেই নিজে চিনিতে পারি না। ইয়া খোদা এই লোক কে? নিজেকে দেখার পর আফসুস করিতে লাগিলাম,না করিলেই বুঝি ভাল ছিল।বাড়িতে পুনঃ প্রবেশের সময় লজ্জায় মরি মরি অবস্থা আমার।মানুষ লজ্জায় লাল হয় আমি কালো হইয়া বাড়িতে প্রবেশ করিলাম।ছোট ভাই ও বোন আমাকে দেখিয়া মুচকি হাসি মারিতে লাগিল। বুঝিলাম অবস্থা বেগতিক।উহাদের হাস্যরস দেখিয়া পিত্তি জলিয়া যাইতেছিল।বেশী দেরি না করিয়া, কোন রকমে নিজের রুমে গিয়া দরজা আটকাইয়া শুইয়া রইলাম। উহা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না।এদিকে ছোট ভাই ও বোন মনে হইল ঢোল লইয়া বাহির হইয়াছিল, ঘন্টা খানেকের মধ্যে কেহই জানিতে বাকী থাকিল না আমি শেভ করিয়াছি।
এইবার আপনাদের জীবনের প্রথম শেভ করিবার ঘটনা শেয়ার করিতে থাকেন সুখের অথবা দুঃখের।
পুনশ্চঃ বাবা কহিয়াছিলেন আমাকে শেভ করিবার পর, বাঁদরের মত লাগিয়াছিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



