ক্লাস সেভেনে ওঠার পর যেন নতুন জীবন পেলাম। পরে বুঝেছি, আমার রক্ত পরিশোধন পক্রিয়া চলছিল তখন। মিলিটারি সায়েনেসর ভাষায় ব্লাড পিউরিফিকেশন। ড্রিলে গোড়ালি দিয়ে মাটির ওপর জোরে আঘাত করতে করতে ভুলে যেতে হয়েছে আমার শৈশব। টানা ছয় বছর একই ধরনের আতঙ্গে দিন কাটিয়ে যখন কারাগারের মতো কলেজটা থেকে বেরুলাম-- তখন আর সামাল দিতে পারলাম না নিজেকে। জড়িয়ে পড়লাম মুক্ত চিন্তায়।
তবে শৈশব স্মৃতি আসলেও ভুলে গেছি আমি। মাঝে মধ্যে মনে পড়ে খণ্ড দৃশ্য, বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে মরুভূমি এলাকার সাগরতীরবর্তী সেই শহরের কথা, যেখানে আমার শৈশব কেটেছে। ভালো করেই জানি, আমার জন্মস্থানে কখনোই যেতে পারবো না আমি। দেশটি এখন মার্কিন নজরদারিতে আছে। কূটনৈতিকভাবে অসহায়-- একনায়কতন্ত্র চলছে টানা 30 বছর ধরে।
শৈশবে আমি কোনো বিক্ষুক দেখিনি, দেখিনি রাস্তার পাশে মানুষের ঘুমিয়ে থাকা অসহায় দৃশ্য। শৈশবে দেখেছি সরকারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে নাগরিকদের। দেখেছি, বেদুইনদের জোর করে সুদৃশ্য ফ্লাটে তুলে দেয়া হচ্ছে-- আর তারা হাজার বছরের ঐতিহ্য হারাতে রাজি হচ্ছে না।
বাড়িতে মার কাছে বাংলা শিখতাম, স্কুলে ইংরেজি। তবে মা যেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। না হলে বাংলায় কবিতা লেখার সাহস এলো কোথা থেকে।
প্রথম যেবার বাংলাদেশে এলাম-- এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে দেখি, ফুটপাতে মানুষ ঘুমিয়ে আছে। আমি অবাক হয়ে বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ওরা এখানে কেন? বাবা বলেছিলেন, সময় আসুক, সবই বুঝবি। জানি না সময় এসেছে কিনা। আজো সে প্রশ্নের উত্তর পাইনি। যদিও শান্তিতে নোবেল পেয়েছি আমরা। মনে আছে, একবার এক ভিক্ষুককে একশ' টাকার একটা নোট দিদে চেয়েছিলাম। সে সেটা নেয়নি। মাত্র এক দিনার সে কেন নিল না, সে কারণ আজো উদ্ধার করতে পারিনি আমি
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



