somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কারণে বিএনপির এ পরিনতি

০৯ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(আজ ডেইলি স্টারে প্রকাশিত মাহফুজ আনামের মন্তব্য প্রতিবেদন অবলম্বনে)
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত আর্থিক সততার কারণে ইতিবাচক সার্ক গঠন থেকে শুরু করে লজ্জাজনক ইমডেমনিটি অধ্যাদেশও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। অথচ তারই বড় ছেলে সে ইমেজ চুরমার করে দিয়েছে। বাবার ইমেজের ভাবনা দূরে থাক, দুর্নীতির অপবাদেই ডুবে ছিলেন তারেক রহমান। নিজেকে রাজবংশের একটি প্রডাক্ট হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বিএনপির নেতৃত্বকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমঙ্ত্তি হিসেবে ভাবতে শুরু করেন।
আইনের শাসন সংক্রান্ত অজ্ঞতাই ছিল তারেক রহমানের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক। আইনকে অগ্রাহ্য করে ব্যক্তিগত স্বার্থকেই বড় করে দেখেছেন তিনি। তার ঔদ্ধাত্যপূর্ণ আচরণে নিজ দলের সিনিয়র নেতারাও বিব্রত ছিলেন, হয়তো তারা সব সময়ই নিজেকে প্রশ্ন করতেন, তাদের প্রকৃত নেতা কে?
তারুণ্যের সেন্টিমেন্ট প্রবীন নেতারা বুঝতে পারেন না, এ ধারণা তারেক রহমানের। তার মতে, তরুণ প্রজন্ম সম্পদ ও ক্ষমতা চায়। যারা মুক্তিযুদ্ধ ও অতীতের কথা বলেন, নীতি বা আদর্শ উপেক্ষা করে তারেক রহমান তাদের বিদ্রুপ করতেন। এক অনুষ্ঠানে তিনি আমাকে বলেছিলেন, 'ইতিহাস কি তরুণদের চাকরি দিতে পারে? আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই, অতীতের দিকে নয়।' বিদ্রুপ করে তারেক আরো বলেছিলেন, আপনাদের আন্দোলনতো স্রেফ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। জবাবে আমি বলেছিলাম, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশ গঠনের লড়াইতো ভবিষ্যত নির্মাণের জন্যই। জাতির এ অসামান্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তার বাবা, ছেলের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে এ ভাবনা বিস্ময়কর।
যদিও বিএনপির ভাবমূর্তি পতনের কেন্দ্রে তারেক রহমান, তবু তাকে এ অবস্থার জন্য পুরোপরি দায়ী করা যাবে না। অবশ্যই তার মা এ অপবাদের প্রধান অংশীদার। অপকর্ম থেকে ছেলেকে নিবৃত করার কোনো চেষ্টাই করেননি তিনি। বরং যে নেতারা এ পরিস্থিতি সম্পর্কে খালেদা জিয়াকে সচেতন করতে চেয়েছিল_ তাদেরকে কোনঠাসা করেছিলেন সাবেক প্রধানমমন্ত্রী। এটা ক্রমেই পরিষ্কার হচ্ছিল যে, উত্তরাধিকারসূত্রে তারেক রহমানই বিএনপির ভবিষ্যত কর্ণধার হতে যাচ্ছেন। এ কারণে যারা বিএনপির মাধ্যমে ভবিষ্যত গড়ার পরিকল্পনা করছিল, তারা তারেকের পেছনে লাইন দিয়েছিল। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তারেকের আধিপত্য থেকে একমাত্র মোসাদ্দেক আলী ফালুকেই রক্ষা করেছিলেন খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিবের পদ থেকে ফালুকে উৎখাতের লড়াইয়ে হেরেছেন তারেক জিয়া। এটাই তারেকের একমাত্র পরাজয়।
প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজার অপসরণের বিষয়টি এখনো পরিস্কার নয়। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কেনই বা দলের কাছে অনাকাংঙ্ক্ষিত হলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব? তার প্রস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, খালেদা জিয়া ও তার ছেলের সন্তুষ্টি অর্জন করতে না পারলে কেউ এ দলে টিকতে পারে না। এমনকি কেউ তাদের ব্যাপারে অবিশ্বাস বা সন্দেহ পোষণ করলেও বিএনপিতে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তিগ্রস্ত হবে।
দুর্নীতির বীজ বপন, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনের সর্বস্তরে বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আমলাতন্ত্রে দলীয়করণ যেমন সরকারকে ধ্বংস করছে, তেমনি ধ্বংস করছে বিএনপিকে। সাইফুর রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মান্নান ভুইয়া, মওদুদ আহমেদসহ আরো অনেক প্রবীণ নেতাও দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। দলের পচন ঠেকাতে এরা কোনো পদক্ষেপ নেননি, প্রতিবাদও করেননি। হয় তারা এ যুবরাজের মনোতুষ্টিতে ব্যস্ত ছিলেন_ নয়তো তাকে ক্ষেপিয়ে দল বাঁচানোর কোনো উদ্যোগ নেননি। মন্ত্রিসভায় তারেক রহমানের প্রভাব বিস্তার বা বদরুদ্দোজা ইসুতে কোনো ভূমিকা নিতেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। যখন একটি রাজনৈতিক দল পারিবারিক সম্পত্তিকে রূপান্তরিত হচ্ছে, তখন এ দলটির ধসের জন্য তারাও সমানভাবে দায়ী।
আসুন আমরা বিএনপির পরিনতি থেকে শিক্ষা নেই। যে দলের ভেতরে গণতন্ত্র নেই, সে দলের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক শাসন প্রত্যাশা করা যায় না। আসুন ভবিষ্যতে আমরা এমন কোনো রাজনৈতিক দলকে গ্রহণ করবো না, যারা নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে না। এটা আওয়ামী লীগের জন্যও একটি শিক্ষা।
শব্দ: 490


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

×