এ পর্যন্ত দেশের মিডিয়াজগতের মালিকানা পর্যায়ের 19 প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। অপরাধীর আশ্রয়দাতা, বিদেশী সংস্থার কাছ থেকে টাকা খাওয়া, মানি লন্ডারিং থেকে শুরু করে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আটকের তালিকায় আরো 5 মিডিয়া মালিকের নাম রয়েছে। অপর 4 জনকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এনটিভি, আরটিভি ও দৈনিক আমার দেশের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু, এনটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান বাপ্পী, চ্যানেল ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ও চেয়ারম্যান সাবেক এমপি এমএইচ সেলিমতো এ গ্রেফতারের তালিকায় আছেনই। সমঙ্্রচারের অপোয় থাকা চ্যানেল সিএসবির মালিক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিজয় টিভির উদ্যোক্তা মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ, ফাল্গুন টিভির মালিক ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোক সমাজের মালিক সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যানেল এসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামাদুল হক, রূপসী বাংলা চ্যানেলের চেয়ারম্যান রমজান আলী, সমঙ্্রতি অনুমোদনপ্রাপ্ত টিভি চ্যানেল এসএনটিভির বিনিয়োগকারী দু সাবেক সাংসদ সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং নাসিরউদ্দিন পিন্টু, তারেক রহমানের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত রেডিও ফুর্তির মালিক আনিস আহমেদ এমনকি বৈশাখী টিভির মির্জা আব্বাসের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
যুগান্তরের মালিক নূরুল ইসলাম বাবুল বা জনকণ্ঠের সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদসহ প্রিন্ট মিডিয়ার আরো যে মালিকরা গ্রেফতার হয়েছেন, তারা হলেন_ ইন্ডিপেনডেন্টের মালিক সালমান এফ রহমান এবং দিনকালের প্রকাশক তারেক রহমান।
এদিকে, ইত্তেফাকের সমঙ্াদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সমকালের মালিক আবুল কালাম আজাদ, সাপ্তাহিক খবরের অন্তরালের মালিক এডভোকেট সিগমা হুদা, আল আমিনের সমঙ্াদক হাজি মকবুল হোসেন এবং খবরপত্রের সমঙ্াদক মাহফুজা সুলতানা যৌথ বাহিনীর গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছে বলে প্রোবের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নব্বইয়ের দশকে এ দেশে মিডিয়ার যথার্থ বিকাশ ঘটে বলে অনেকেরই ধারণা। ব্যক্তি মালিকানা থেকে করপোরেট হাউসের দিকে ঝুঁকতে থাকে মিডিয়া হাউসগুলো। কালো টাকার মালিক, গডফাদার এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদরাই মিডিয়া মোঘল বনে যেতে থাকেন। প্রতিটি করপোরেট হাউসই একাধিক মিডিয়া হাউস নিয়ন্ত্রণ করছে এখন। অবৈধ সমঙ্দ রায় মিডিয়া হাউসগুলোকে ব্যবহার করছে এ দুর্নীতিগ্রস্তরা। মিডিয়া মোঘলরা এতোটাই দুর্নীতিতে আসক্ত হয়ে পড়েছিল_ যেখানে যমুনা ব্রিজ নির্মাণ করতে খরচ হয় 300 কোটি টাকা, সেখানে ফালুর ব্যক্তিগত সমঙ্ত্তির পরিমাণ প্রায় 400 কোটি টাকা।
এ পরিস্থিতিতে মিডিয়া হাউসগুলোতে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদি একের পর এক মিডিয়া হাউসগুলো বন্ধ হয়ে যেতে থাকে, তাহলে চাকরি হারানোর ভয়তো আছেই। রাষ্ট্রের 'ফোর্থ এস্টেট' এখন নড়বড়ে। গুটি কয়েক ব্যক্তির দুর্নীতিই মিডিয়াকে এ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




