ভারতকে হারিয়ে এখন সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গতকাল ভারতীয় দৈনিক দ্য টাইমসে এ তথ্য দিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হয়। 'বাংলাদেশ ব্রেক ডাউন দ্য ব্যারিয়ারর্স টু টার্গেট সেমি-ফাইনালস' শিরোনামে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের সঙ্গে যে মানে খেলেছে বাংলাদেশ_ আগামী ম্যাচগুলোতে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে তা' হয়তো অসম্ভব নয়।' তবে এ েেত্র ভারতের অন্য মিডিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। জাতীয় দলের এ হার যেন তারা মেনে নিতে পারছে না_ মানিয়ে নিতে হচ্ছে। গতকালের কলকাতার কাগজগুলোতে এ খেলার খবরে ভারতীয় দলের দিকে অগি্নবৃষ্টি হয়েছে, সে তুলনায় বাংলাদেশ ছিল একেবারেই উপেতি। যা হোক, বাংলাদেশের এ জয়ের খবর আন র্জাতিক সঙ্োর্টস মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই প্রকাশ করা হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিনিধিকে সৌরভ গাঙ্গুলীতো বলেই ফেললেন, 'কীসের সান ্বনা? এই ম্যাচ হেরে গেলে কোনো কিছু ভালো লাগে? কোনো যুক্তি আছে এ ম্যাচ হারার?' আনন্দবাজার পত্রিকা একাধিক সাইড স্টোরিও করেছে এ খেলাকে ঘিরে। টস জেতার পর ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান নাকি পছন্দ হয়নি গ্রেগ চ্যাপেলের, এ খবর দিয়েছে অনেক ভারতীয় দৈনিকই। আনন্দবাজারসহ অন্য ভারতীয় দৈনিকগুলোতেও দ্রাবিড়ের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আজকালে জাভেদ মিয়ানদাদ তার কলামে লিখেছেন, 'এশিয়ার প েমিষ্টি দিন হলেও পাকিস ানের কাছে শনিবার ছিল ভয়ংকর বিপর্যয়ের। আয়ারল্যান্ডের কাছে 3 উইকেটে হেরে এক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়কে আর কীইবা বলা যায়? ভারতকে 5 উইকেটে হারানোর পর বাংলাদেশ জুড়ে সারারাত নিশ্চয়ই উৎসব চলছে। পাকিস ান আর ভারতে অবশ্য দু' চোখের পাতা এক করতে সমস্যায় পড়ারই কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের। একটা বিশ্বকাপ-চ্যামঙ্িয়ান দল ছিটকে হেল বিশ্বকাপ থেকে। আর এক বিশ্বকাপজয়ী দলকে টিকে থাকার জন্য চমকপ্রদ কিছু করতে হবে_ অবিশ্বাস্যই মনে হচ্ছে।' বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাঠে সৌরভের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্ট খারাপ ব্যবহার করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে আজকালে। আজকাল জানায়, ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা সত্ত্বেও তাকে বল করতে দেয়া হয়নি।
গতকাল সংবাদ প্রতিদিনের এ খেলার খবরের শিরোনাম ছিল, 'বেহালার বাঙালির একক লড়াইকে হারিয়ে বিশ্বকাপে অঘটন ঢাকার বাঙালি একাদশের'। কলকাতা থেকে প্রকাশিত এ দৈনিকে এ খবরের ইনসার্টে লেখা ছিল 'ওপারের জয়ে এপারও আপুত'। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে হারের ঘটনাটি মেনে নিতে পারছে না ভারতীয়রা। বর্তমানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রাবিড় ও কুম্বলে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে হচ্ছে। ধোনির বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। কলকাতার দৈনিকগুলোর মধ্যে কেবল বর্তমানই বাংলাদেশে ক্রিকেট উচ্ছ্বাসের খবর প্রকাশ করেছে।
মাশরাফির প্রশংসা করে দ্য হিন্দু 'অ্য কিনিক্যাল পারফরমেন্স ফ্রম বাংলাদেশ' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রশংসার পাশাপাশি এ রিপোর্টে ভারতের দুর্বল পারফরমেন্সেরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। এদিকে পিচের ধরন বুঝতে ভুল করেছিলেন দ্রাবিড়_ 'মিসরেড দ্য পিচ, সেইজ দ্রাবিড়' শিরোনামে এ খবরটি প্রকাশ করে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই। 'ইন্ডিয়া ্পামড আফটার শক বাংলাদেশ ডিফিট' শিরোনামে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হারের পর দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা নিয়েই শঙ্কায় আছে ভারত।
এদিকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া পাকিস ানের মিডিয়া নিজেদের নিয়ে ব্যস থাকলেও বাংলাদেশকে স্বাগত জানাতে ভোলেনি। 'ব্রিলিয়ান্ট বাংলাদেশ স্টান ইন্ডিয়া' শিরোনামে এ খবরটি প্রকাশ করেছে পাক ট্রিবিউন। 'বাংলাদেশ স্টারস ইকবাল এন্ড মোর্তাজা সেন্ড ইন্ডিয়া ক্র্যাশিং' শিরোনামে এ খবরটি দিয়েছে পাকিস ান অবজারভার। 'বাংলাদেশ স্টান ইন্ডিয়া ইন ওয়ার্ল্ড কাপ ক্যাশ' শিরোনামে ডেইলি টাইমস এবং 'বাংলাদেশ স্কোর স্টানিং ভিক্টরি ওভার ইন্ডিয়া' শিরোনামে এ খবরটি প্রকাশ করেছে ডন।
এদিকে অস্ট্রেলিয় দৈনিক দ্য এডভারটাইজারে 'বাংলাদেশ ইন ফেমাস ভিক্টরি' শিরোনামে বাংলাদেশের এ জয়ের খবরটি প্রকাশ করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার অপর দৈনিক দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড 'বাংলাদেশ স্টান ইন্ডিয়া' শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 5 উইকেটে ভারতকে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে চমক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে এটা বাংলাদেশের তৃতীয় জয়। একই শিরোনামে এ খবরটি প্রকাশ করেছে দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড। মালয়েশিয়া সান 'বাংলাদেশ সারপ্রাইজ ইন্ডিয়া বাই ফাইভ উইকেটস' শিরোনামে প্রকাশিত খবরে জানায়, এ বিশ্বকাপের অঘটনগুলোর এটাও একটা। যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত গার্ডিয়ানের রোববারের সংস্করণ অবজারভারে এ খবরের হেডলাইন ছিল 'বাংলাদেশস ফেইথ ইন ইয়ুথ ইজ জাস্টিফাইড বাই মোর্তজা এন্ড রাজ্জাক।' অবজারভার জানিয়েছে, বিশ্ব ক্রিকেট র্যাংকিংয়ে নবন স্থান অধিকারী বাংলাদেশের উচ্চমানের খেলাই এ জয় নিশ্চিত করেছে। তারুণ্যনির্ভর এ দলটিকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় বলেছে অবজারভার। বার্তা সংস্থা অনলাইন নিউজ 'ব্রিলিয়ান্ট বাংলাদেশ স্টান ইন্ডিয়া' শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলেছে, মাশরাফির বলিং জাদু এবং 3 টিনেজারের অর্ধ শতই বাংলাদেশকে এ জয় এনে দেয়।
গতকালের আন র্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের নামও উচ্চারিত হয়েছে। পাকিস ানকে হারিয়ে আয়ারল্যান্ডও মিডিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে বেশ কিছুটা অংশ ভাগাভাগি করে নেয়। 'বাংলাদেশ এন্ড আয়ারল্যান্ড: হোয়েন দ্য মিনোওস ইট দ্য বিগ ফিস' শিরোনামে একটি লেখা ছেপেছে ইসরায়েলি সঙ্োর্টিঙ্গো। এদিকে এ অঘটনে বারমুদাও নাকি উজ্জীবিত, 'বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড শো ওয়ে টু লেজার লাইটস, সেইজ বারমুদা কোচ' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি। ক্যারেবীয় অনলাইন বার্তা সংস্থা নেট নিউজও একই কথা বলছে, 'আফটার বাংলাদেশ শকার, ইন্ডিয়া গিয়ার আপ ফর বারমুদা।'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




