somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আকাশগুচ্ছ

০৮ ই মে, ২০০৬ সকাল ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[লেখাটা বেরিয়েছে আজ সাপ্তাহিক যায়যায়দিন-এ। বন্ধুরা পড়ুন...]

ছোটবেলায় আমরা কাঠি লজেন্স চুষতাম। চাছা বাঁশের ফালির মাথায় ভীষণ লাল রঙের মিঠাই, সিলগালা যে রকম লাগায়, সে রকম লাগোনো। আনন্দে আমরা চুষতাম আর জিভ বের করে দেখাতাম, 'দ্যাখ তো লাল হইছে নাকি!'
তো সেই ছেলেবেলাকায় আমরা যখন কাঠি লজেন্স চুষছি, তখন আমাদের শহরে চলে এল খবরটা। কে আনল, কিভাবে এল জানি না। জানাজানিটা জরুরিও ছিল না। জরুরি যেটা সেটা হলো- শোনা গেল, প্লেনে উঠলে নাকি এক রকমের চকলেট খেতে দেয়, সেই চকলেট নাকি আবার সারাদিন যত খাও শেষ হয় না, সারারাত ধরে খাও শেষ হবে না।
কী তাজ্জব কথা! আহা, যদি পেতাম ওই চকলেট একবার মুখে! তখন, ওই ছেলেবেলায় আমরা মুখ হা করে, আকাশের দিকে তাকিয়ে, ওই দূর আকাশে প্লেন যাওয়া দেখি। পথের পাচালির অপু আর দুর্গা সেই যে ট্রেন দেখতে ছুটেছিল, আমরা তো ওদেরই বয়সী তখন। তো ওই আকাশে টিনের খোলার মতো গো গো করে প্লেনের উড়ে যাওয়া, তার গায়ে রোদের ঝিলকানি, তারপর হঠাৎই মেঘের ভেতর হারিয়ে যাওয়া- আমরা বড় বড় চোখ করে বড় বিস্ময়ে দেখি। তারপর আমরা যখন বড় হয়ে উঠি, আমরা জেনে যাই- প্লেনে যে চকলেট দেয়, যে জাদুর চকলেট সারাদিন খেলেও শেষ হয় না, সারারাত খেলেও শেষ হয় না, তার নাম চুইংগাম!

প্রথম প্নেন ভ্রমণ এবং ফার্মগেট ওভারবিজ 1998-এর শেষের দিক। একটি দৈনিক পত্রিকা থেকে বেরিয়ে আমরা আরেকটি দৈনিক প্রকাশের তোড়জোর করছি। পত্রিকার সম্পাদক মহোদয় যাবেন সিলেট। আমাকেও যেতে হবে সঙ্গে। সন্ধ্যায় তিনি বললেন, 'কাল সকাল 11টায় আমাদের ফাইট। 9টার মধ্যে অবশ্যই চলে আসবে এয়ারপোর্টে।'
তার মানে আমি প্লেনে যাচ্ছি! মানুষের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, আনন্দে আমার মাথা আকাশ ফুড়ে উঠে গেল। সাথে সাথে ফোন করলাম বাসায়। খুশিতে কী সব বাকুম-বুকুম যে বললাম! নানা ছলে 'আমি যে কাল প্লেনে যাচ্ছি' কলিগদেরও জানাতে ছাড়লাম না তা। সত্যি বলছি, কারো কারো চোখে সেদিন ঈর্ষাও দেখেছিলাম। কিন্তু ও সব ভাবার সময় তখন আমার থাকলে তো! বরং একলা একলাই আমি শপিং-এ ব্যসত্দ হয়ে পড়লাম। কাল আমি প্লেনে যাব, প্রস্তুতি আছে না!
কেনাটেনা শেষে এসে দাড়িয়েছি ফার্মগেট ওভারব্রিজের নিচে। আমি তেজগাও পলিটেকনিক স্কুলের ছাত্র। ওভারব্রিজটা তো আমাদের চোখের সামনেই হলো। তো সেদিনও ওভারব্রিজের উপর দিয়ে-নিচ দিয়ে কত লোকজন যাচ্ছে, আমি দেখছি। আসলে আমার মনে হচ্ছিল, সবাই আমাকেই দেখছে- 'দেখো দেখো, এই লোকটা কাল না প্লেনে যাবে...!'
কিছুতেই কিছু আমার যায় আসে না, এ রকম দার্শনিক চোখে তাদের দিকে তাকতে তাকাতে হঠাৎ ঊধর্্বনয়নে দেখলাম ওভারব্রিজটাকে। আমার মনে হলো, ওভারব্রিজটা ভীষণ উঁচু, আকাশ ছোয়া। আর কাল সকালে আমি টিনের ক্যাপসুলের মতন একটা জিনিসে ঢুকে ওই আকাশে ভেসে যাব! তখন, তখনই আমার পায়ের থেকে পেটের ভিতর যেন শিরশির করে বয়ে গেল হিম, ভয়। তীব্র আতঙ্কে কেপে উঠল সারা গা, আমার সর্বস্ব।

পরদিন জিয়া আনত্দর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়েতে জিএমজির প্লেনটাকে মনে হলো একটা ফড়িং। এত্ত ছোট্ট! বড় বড় প্লেনের পাশে একটা খেলনা! ঢুকে গেলাম ওর ভিতর। ভয়টয় কেন কে জানে একটুও করল না তখন আর। বরং মজা লাগল তখন, প্লেন ওড়ার পরপরই যখন ভীষণ সুন্দরী হোস্টেস ট্রেতে করে চকলেট আর ম্যাংগো চুস এনে ধরলেন সামনে। আরে, এই চকলেট আর জুস তো আমরা পাড়ার দোকান থেকে এক টাকা-দশ টাকা দিয়ে কিনে খাই! হেসে বললাম, 'চুইংগাম নেই?'
এয়ার হোস্টেস সুন্দর ভ্রূযুগলে প্রশ্নচিহ্ন একে বলেন, 'কেন আপনার কানে ব্যথা করছে? আসলে জাহাজে আমরা চুইংগাম দেই না। কারণ অনেকেই এখানে ওখানে লাগিয়ে সিট নষ্ট করে।'
হাসলাম। ছোট প্লেন হওয়ায় দেখলাম একটা সুবিধাও আছে। বেশ নিচু দিয়ে ওড়ে। নিচের সব কিছু ছবির মতো দেখা যায়। ঘর-বাড়ি, রাসত্দা-গাড়ি, ফিতের মতো নদীটার অনেক দূর, েেত কৃষক, নদীতে নৌকো... দেখতে দেখতে আমি পকেট থেকে চুইংগাম বের করে মুখে পুরলাম। নিয়েই এসেছিলাম সঙ্গে। মুখের ভেতর আমার ছেলেবেলা মিষ্টি সুগন্ধ ছড়ায়। যার রেশ শেষ হবে না জীবনে।

বাঙালির বালি যাত্রা

সেটা জানুয়ারির শেষ, 2003। চললাম ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ। উড়লাম সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস-এর আমন্ত্রণে। সঙ্গী আমার দেশ-এর সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তখন ছিলেন জনকণ্ঠ-এ। এক বন্ধু মজা করে আমাদের এই টু্যরের নামকরণ করল 'বাঙারির বালি যাত্রা'।
যাওয়ার দিন আমাদের সিঙ্গাপুরে ট্রানজিট, যথারীতি আসার দিনেও। আসার দিন আমরা যখন সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার ফাইটে উঠব, সিঙ্গাপুরে তখন তুমুল বৃষ্টি। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টের ওপেন এয়ার স্মোকিং জোন সানফাওয়ার গার্ডেনে ওই মুশল বৃষ্টি দেখতে দেখতে আমরা দুই বিজ্ঞ(!) মাথা নাড়লাম- নাহ, এই বাজে আবহওয়ায় প্লেন ছাড়বে না।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস যা করে, ওই আকাশভাঙা বৃষ্টি পাত্তা না দিয়েই কাটায় কাটায় ছাড়ল। জানে তো পানি নাই। যেভাবে বিদু্যৎ চমকাচ্ছে, যদি একটা 'ঠাটা' পড়ে আমাদের প্লেনের উপরই! জানলায় মুখ চেপে বাইরে তাকিয়ে আছি। সব সময় তাই করি। ভালো লাগে। বোর্ডিং কার্ড নেওয়ার সময়ই চেয়ে নেই- 'উইন্ডো সাইড, প্লিজ।'
আমি বাইরে তাকিয়ে আছি। প্লেন উঠে গেছে মেঘের উপরে। বৃষ্টি আর দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টি তো পড়ে মেঘ থেকে, মেঘের নিচে। মেঘ দেখছি। কিন্তু মাথার ভেতর তো রয়ে গেছে ঝড়ো হাওয়া, ভাসিয়ে নেওয়া বৃষ্টি...।
সিঙ্গাপুর ছেড়ে আধ ঘণ্টাখানেক এসেছি। হঠাৎ দেখি, সামনের মেঘে আগুন ধরে গেছে! লাল আগুন, সিদুরে আগুনে ভরা মেঘ উথাল-পাথাল ঢেউ খেলছে। আর আমাদের প্লেনটা যাচ্ছে ওই আগুনের মধ্যেই ঢুকে! খামচে ধরলাম মাসুদ ভাইয়ের হাত। তার সম্ভবত ঘুমে চোখ লেগে এসেছিল সবে। চমকে উঠে বললেন তিনি, 'কি হয়েছে?'
কি হয়েছে না কি হতে যাচ্ছে তাকে বুঝিয়ে বলাও কঠিন তখন আমার প।ে ওমা, মাসুদ ভাই দেখি হাসছেন! আমার ভয় খাওয়া চোখের সামনে তিনি বিশাল হাসি দিয়ে বললেন, 'কোথাও সূর্য ঢুবছে নাহয় উঠছে, ওটা আভা।' এয়ার হোস্টেসকে ডেকে জেনে নিলাম, আমরা শ্রীলঙ্কা পার হচ্ছি। এখানে এখন সন্ধ্যা হচ্ছে। মনে পড়ল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সন্ধ্যা ও প্রভাত' কথা...।

বিশ্বের দীর্ঘতম উড়ালের প্রথম যাত্রী : মজার দিবস ও রজনী

2004-এর কোরবানির ঈদ। তখন আবার ডিভি লটারি চলছে। রাসত্দার মাথায় মাথায় ব্যানার ভাসে বাতাসে- 'চলো যাই স্বপ্নের আমেরিকা'!
পরিবারের সবার সঙ্গে দিনভর ঈদের আনন্দে কাটিয়ে রাত পোনে 12টার ফাইটে চললাম সেই আমেরিকায়। ওই ঈদের রাতেও সিঙ্গাপুর এয়ার লাইনস বাংলাদেশের সেলস ম্যানেজার ইয়ামীন কবির এলেন এয়ারপোর্টে, বিদায় জানাতে। তার প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে একবার বেরিয়ে এসেছি বালি। সেই থেকে আমাদের যোগাযোগ আর বন্ধুতা গলাগলি করে বেড়েছে। এবং আমার ধারণা, ইয়ামীন আমার ধরন-ধারণ খানিকটা বুঝেও ফেলেছেন। তিনি আমেরিকার প্রোগ্রাম সিডিউলটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে যে কথাটি বারবার বললেন তা হলো, 'বস, ওখানে দুটো ফরমাল ডিনার আছে। ড্রেসকোড আছে। ও দুটোতে অন্তত সু্যট পরে যাবেন, প্লিজ।' তার গলার কাতরতা দেখে মনে হলো, তিনি ধরেই নিয়েছেন আমি গেঞ্জি-ফেঞ্জি পরে ওখানে হাজির হব।
জিদ্দে আমি স্থির করে ফেললাম, আমেরিকায় যাব নতুন সু্যট পরে। আর ভদ্রলোক চেনা যায় নাকি জুতো দেখে। নতুন জুতোও কেনা দরকার। আমার সংকল্প শুনে বন্ধুরা বলল, 'ঈদের আর দুদিন বাকি, এখন তোকে সু্যট বানিয়ে দেবে কোন দর্জি? তারচেয়ে আমার সু্যটটা নিয়ে যা।' একদিনে আমি পেলাম চার বন্ধুর সু্যট গ্রহণের আমন্ত্রণ। তবু আমি সংকল্পে অটুট- আনকোরা সু্যটই আমার চাই। বানানো যাবে না তো কি হয়েছে, কিনে ফেলব।
এরই মধ্যে আমার বন্ধু আবু জাফর স্বপন সিরিয়াস মুখে বলল, 'তুই নতুন জুতা কিনবি? আমার জুতার কারখানার সাথে খাতির আছে। চল আমার সাথে।'
অবাক হয়ে বললাম, 'এক জোড়া জুতা কিনতে কারখানায় যাব! কোথায় সেটা?'
স্বপন গম্ভীর মুখে বলল, 'ঠাটারী বাজার। অয় সু কোম্পানি।' জুতোর দোকানের গাট্টি এলিফ্যান্ট রোডের কোণা শাহাবাগ থেকে আমাদের পাঁচজনের বহর চলল ঠাটারী বাজারের অয় সু কোম্পানিতে।
এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করা দুজন শিল্পীও আছেন। একজন আবার গোল্ড মেডালিস্ট। তারা জুতোর ডিজাইন পছন্দ করবেন!

এরপর সু্যটের পালা। এবারও এগিয়ে এল সহৃদয় স্বপন আর বন্ধু ফারুখ আহমেদ। কোরবানির দুদিন আগের রাত 11টায় আমরা এলিফ্যান্ট রোডে ঘুরছি। রেডিমেড সু্যট আর পাওয়া যায় না! সুন্দর সুন্দর ব্লেজারে দোকান ভরতি। কিন্তু প্যান্টটা নাই! রাত বাড়ছে। একটি একটি করে দোকান বন্ধ হচ্ছে। ফারুখ অসংখ্যবারের শেষে শেষবারের মতো যখন বোঝানোর চেষ্টা করছে- তার সু্যটটা নতুনই আছে, ড্রাইওয়াশও করা আছে, সেটা যেন আমি নিয়ে নেই। তখন কিওপেট্রা নামের একটি দোকানে পাওয়া গেল সু্যট।

আহ! তো ঈদের রাতে আমি ইয়ামীনকে 'টা টা' করে ঢুকে পড়লাম সিঙ্গাপুরগামী ফাইটে। আমার পাশের সিট দেখি খালি। আমি খালি সিটে আলতো করে শুইয়ে রাখলাম আমার বড় সাধের কোট। হোস্টেস এসে বললেন, 'আপনার কোটটা তুলে রাখি। কোট রাখার জন্য আমাদের জায়গা আছে।'
আমি রাজি হলাম না। কোটের পকেটে আমার পাসপোর্ট, টিকেট, নানান জিনিসপত্র। নকলবাজ ছাত্ররা যেমন একেক পকেটে একেক প্রশ্নের উত্তর লিখে নিয়ে যায়, আমার কোটের পকেটে পকেটে তেমন নানান কাগজ।
বিপত্তিটা ঘটল একটু পরে। ওয়েলকাম ড্রিংস দেওয়ার সময় হোস্টেস পুরো গ্লাস পানীয় ঢেলে ফেললেন আমার কোটের উপর! হৃদয় আমার হায় হায় করে উঠল। আমার এত সাধের সু্যট! এ যাত্রায় আমার এই একটাই সু্যট! কী হবে!
এই দুর্ঘটনার সুফল হলো এই, সারা পথ ওই এয়ার হোস্টেস আমাকে বেশিই যত্নআত্তি করলেন।

আসলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিমান প্রথমবারের মতো দীর্ঘতম সময় উড়বে আকাশে। বিমানটির নাম 'এ345 লিডারশিপ'। সিঙ্গাপুর থেকে একনাগাড়ে উড়ে যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস। ফিরতি পথে আবার উড়ে আসবে টানা 18 ঘণ্টায়। এটা হবে কোনো বিমানের এ যাবতকালের বিরামহীন সবচেয়ে দীর্ঘ আকাশযাত্রা। হবে উড্ডয়নের এক নতুন রেকর্ড, নতুন ইতিহাস। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস চাইছিল, এই ইতিহাসের সঙ্গী এবং 'এ345 লিডারশিপ'-এর প্রথম যাত্রী হোক বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে তাই আয়োজন করা হয়েছিল একটি মিডিয়া ফ্যামিলিয়ারাইশেন প্রোগ্রামের। আর এতে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র আমিই আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম।
সিঙ্গাপুরের পাঁচ আর আট দেশের আট সাংবাদিক ছিলাম আমরা আমন্ত্রিত। 3 ফেব্রুয়ারির বিকেল 4টায় চাঙ্গি এয়ারপোর্টে সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী ইয়ো চিও তং শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে ফিতে কেটে খুলে দিলেন 'এ345 লিডারশিপ'-এর প্রবেশ পথ। সে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ওই বিমানের প্রথম যাত্রীদের একজন হয়ে সেই ইতিহাসের সৌভাগ্যবান সাী হলাম।
আরেকজন বাঙালিও ওই ফাইটের যাত্রী ছিলেন। তিনি হোটেল পূর্বানীর স্বত্বাধিকারী আজিজজুর রহমান।
আসুন দেখি বিমানটারে...
যেহেতু লম্বা সময় এই বিমানে থাকতে হবে, ফাইটটি তার উপযোগীই করা হয়েছে। সেই সজ্জা ও সমূহসুবিধা দেখানোও একটি কারণ ওতে সাংবাদিক চড়ানোর। আসুন তবে দেখি 'এ345 লিডারশিপ'- যাত্রীরা যাতে আরামে ভ্রমণ করতে পারে সে জন্য ওই জাহাজের সিটসংখ্যা 313 থেকে কমিয়ে করা হয়েছে 181। প্রশস্ত করা হয়েছে বসার জায়গা। র্যাফেল কাসে 2-2-2 আসনবিন্যাসের কেবিন। সিট প্রস্থে 26 ইঞ্চি, লম্বায় 78 ইঞ্চি। বিছিয়ে ফেলা যায় খাটের বিছানার মতোই প্রায় লম্বালম্বি। একে বলা তাই হয়েছে স্পেসবেড। বিজনেস কাসে আছে ডিভিটি পোর্টস, প্রত্যেক যাত্রীর জন্য 10.4 ইঞ্চির নিজস্ব মনিটর। মোট আসন 64টি। আর এক্সিকিউটিভ ইকোনমি কাসের আসনবিন্যাস 2-3-2। সিট 8 ইঞ্চি পর্যন্ত পেছনে হেলানো যায়। মাথা ও পা রাখার জায়গা বেশ প্রশসত্দ। প্রতি সিটের সঙ্গে ল্যাপটপের পাওয়ার সাপ্লাই আর 9 ইঞ্চির মনিটর আছে। এখানে মোট আসন 117টি। দুই কাসেই প্রতি যাত্রী যার যার মনিটরে দেখতে পারেন, খেলতে পারেন 47টি ভিডিও গেমস, শুনতে পারেন 102 সিডি, দেখতে পারেন 78টি টেলিভিশন শো ও 29টি সিনেমা। যখন যেখান থেকে খুশি ফরোয়ার্ড-রিউইন্ড করে। বিমানে ইঞ্জিন হচ্ছে চারটি। এ345 লিডার বিমান লম্বায় 222 ফুট 8 ইঞ্চি। কেবিনের প্রস্থ 17 ফুট 4 ইঞ্চি। ওড়ে ঘণ্টায় 630 মাইল বেগে। একটানা উড়তে পারে 10,012 মাইল। দুদল পাইলট, কো-পাইলট ও কেবিন ক্রু। বিমান পরিচালনা করেন তারা পালা করে। বিজনেস কাসের সামনে আর ইকোনমি কাসের একদম পেছনে লাউঞ্জ। যাত্রীরা খানিক হাঁটাহাঁটি করতে, দাঁড়াতে আর আড়মোড়া ভাঙতে পারে এখানে। এখানে ছয়জনের মতো এক সঙ্গে হওয়া যায়। লাউঞ্জে পাওয়া যায় স্ন্যাক্স আর পানীয়- যতবার ইচ্ছে। দীর্ঘ বিমান ভ্রমণে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রতিরোধে বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা- প্রতি সিটে অটো ম্যাসেজ যন্ত্র আছে। প্রতিদিন সিঙ্গাপুর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস যায় এ বিমান। আসেও। পেরিয়ে যাায় 10টি টাইম জোন আর আনত্দর্জাতিক ডেটলাইন।

3 থেকে 3! 16টা জীবন থেকেই হাওয়া...
আকাশে সময়ের হিসেব বড় বেয়াড়া। 2004 সালের 3 ফেব্রুয়ারির বিকেল 4টায় রওনা দিয়ে, সাড়ে 16 ঘণ্টায় 14,700 কি.মি. উড়ে, পুরো প্রশানত্দ মহাসাগর পাড়ি দিয়ে 3 ফেব্রুয়ারিরই বিকেল সাড়ে 4টায় নামলাম আমরা লস অ্যাঞ্জেলেস এলএক্স বিমানবন্দরে। আন্তর্জাতিক ডেট লাইনের ভেলকিতে 16 ঘণ্টা পরও একই দিন-তারিখ! আবার ফেরার দিন, 15 ফেব্রুয়ারি, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে একটানা 18 ঘণ্টা উড়ে সিঙ্গাপুর নামলাম 17 ফেব্রুয়ারিতে। আমাদের জীবনে এলই না 16 ফেব্রুয়ারিটা!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:০৮
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×