বড় আবেপ্রবণ জাতি আমরা সত্যি। আমাদের আবার একটা সমস্যা আছে, এও সত্যি। আবেগ প্রকাশ করতে আমরা বেশ লাজুক। বিশেষ করে কাছের মানুষদের কাছে ভালোবাসার কথা বলতে, আপন মানুষদের ভালোলাগার কথা জানাতে। কবে আর ভাই বা বোনকে আমরা 'ধন্যবাদ' বলেছি! আমাদের মনেই হয়, এটাকে আমরা ফরমালিটিজ মনে করি। আসলে জাগিতভাবে আমাদের নেচারে 'ফরমাল' জিনিসটাই নেই, বাঙালিরা নেচারাল।
আমার আম্মা মরিয়ম আহমেদ। বাবা নেই আমার। সেই '85-তে চলে গেছেন। আম্মাই আমাদের যৌথ পরিবারের অভিভাবক। আদরে শাসনে ভালোবাসায় ভরিয়ে রেখেছেন। পাঁচ ভাই এখনো আমরা এক সঙ্গে আছি, এক বাড়িতে থাকি, এক রান্নার খাবার খাই_ আম্মার জন্যই তো। আসলে তিনি আমাদের জড়িয়ে রেখেছেনই বলা উচিত। আমার মেয়ের নাম রেখেছি আমি অন্যতমা মরিয়ম আহমেদ। আমার মেয়ের মধ্যে আমার মা।
তো কাল মা দিবস_ হঠাৎ মনে পড়ল কথাটা। তখন রাত। চারম্নকলার ছবির হাটের চাতালে বন্ধুদের সাথে যথারীতি আড্ডা মারছি। পকেটে টাকাও তেমন নেই। বারবার মনে হচ্ছিল, আম্মার জন্য কিছু নিয়ে যাই_ মা দিবসের উপহার। আবার সংকোচও লাগছিল_ আম্মা নির্ঘাত হাসবেন, ছেলের ছেলেমানুষি দেখে।
আম্মা পান খেতে পছন্দ করে। বাসায় ফিরলাম একটি পান রাখার বাক্স, পানের কিছু মশলা আর মেহেরপুর থেকে সদ্য আসা আম নিয়ে। আম্মা যে কী খুশি হলেন...!
পৃথিবীর সব মাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানালাম মনে মনে মন থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



