জোনাথন হেড তোমাকে বলছি ...
গিয়াস মোহন
অবাক হচ্ছ! জোনাথন হেড ,
মানুষের মূত্রে পিয়াস মিটায় মানুষ!
এক মুঠো অন্নের জন্যে
এক মুহূর্ত বেঁচে থাকার জন্যে,
বন্যের হিংস্র পশুর রূপ নেয় মানুষ!
অবাক হচ্ছ নদীতে ভেসে বেড়ানো একদল অভিবাসীর
করুণ আর্তনাদ , বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার,
এক চুমুক জলের জন্যে হাহাকার,
কি বীভৎস,
নদীতে ভেসে আসা খাদ্য পেতে জীবন-বাজী, খুন।
অবাক হচ্ছ পালিত পাঙ্গাশের মতো একদল অভিবাসী
খাদ্যের জন্য আকুতি- মিনতি, মল-মূত্রে জ্ঞানহীন তারা,
জীবন্ত কঙ্কাল হয়ে ভাসছে নদীতে,
এদের কেউ কেউ মরে গেছে অনেক আগে।
সত্যি জোনাথন আমিও অবাক হয়ে,
বিবেকের করাঘাতে পিষ্ট হয়েছি অনেক আগে,
এখন অবাক হই-না, সত্যি অবাক হইনা
ভাবি এ বুঝি মানব সমাজের সচরাচর চিত্র!
এইতো ঐদিন একদল সেলাই শ্রমিক
বাঁচার জন্য এসেই মৃত্যুকে চুমুক দিয়েছে তাজরিনে,
ঋণে জর্জরিত মা অর্থ বদলে পেয়েছে থেঁতলে যাওয়া লাশ,
বিবেকের যন্ত্রণায় মানবতার চিৎকার
সেদিনও শুনেনি সভ্য সমাজ।
জানো জোনাথন ? আমাদের মাওয়ায় মাছ বদলে
নদীতে লাশ দেখেও কেউ এখন অবাক হয়না,
বাসে জ্বলন্ত মানুষ দেখেও নয়,
বিস্ময়ে কি ভাবছ ?
ছোট্ট এই বঙ্গে সতেরো কোটি প্রাণ
এখানে মাতৃগর্ভও হয় নিরাপদ শ্মশান ।
জোনাথন তুমি কি অবাক হও ?
ফিলিস্তিনের অবুঝ শিশুকে দেখে,
শ্বেত গাঁয়ে শত ক্ষতের চিহ্ন দেখে
সত্যি সে ট্যাটু করেনি, নিশ্চয়।
তুমি কি অবাক হও, সত্যি কি অবাক হও?
মিজাইল, কামান, মনুষ্য-হীন জাহাজের নিক্ষিপ্ত বোমায়
লণ্ডভণ্ড মানুষ দেখে,
সিরিয়া, বসনিয়ার কথা ভুলে গেছো জোনাথন?
হয়তো ভুলোনি , শুধুই তোমার অবাক চক্ষু ,
নতুন বেগে মিশে গেছে সভ্যের কাতারে!
চলো কাঁটাতারে ঝুলন্ত লাশকে সামুদ্রিক শুঁটকি ভাবি ,
সমুদ্রে ভাসা মানুষকে শেওলা ভাবি,
চলো , সারভাইবেল ফর দ্য ফিটেস্ত পড়ি,
বিবেক ভুলে প্রাণ বাঁচাতে লড়ি ,
এ সমাজ, এ সভ্যতা এ পৃথিবী ভুলে গেছে মানুষের মানে
চলো দানব হই, হিংস্র দানব হই
চলো মরার আগে একটু বাঁচতে লড়ি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


