১
জলের দীপ্র-শক্তি নিয়ে ধাত্রীরা
এক পা থেকে দু’পায়ে দাঁড়ায়
কিরণমণ্ডিত গর্ভকুসুমের খোঁজ পায়
শ্রাবণের রাতে!
জলগর্ভ তৈরি করে কোন্ বৃষ্টি?
বাদলবাতাস কার জন্য মাতে?
২
জলমগ্ন না হলে জন্ম হবে না
এই বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে আজ
দাঁতলাগা অবস্থায় কারা সংজ্ঞাহীন?
প্রাণকোষ জলসজীবতা নিয়ে জেগে ওঠে
তাও তারা ভুলে যাচ্ছে চোরাস্রোতে পড়ে
বর্ষণশীল এ শ্রাবণে আদ্যজ্ঞান কি তারা ফিরে পাবে না?
৩
সংবেদ ফিরে পাই - জড়তা থাকে না
আঁতুড়ঘরের চৌহদ্দি থেকে বের হয়ে
সংজ্ঞালাভ করি
ও বরিষণধারা!
ধারাজল কারা ভেঙে ভেঙে জলমগ্ন করে
কোন্ রসায়ন আজÑকোন্ সাজ পরিয়ে দেয়?
৪
প্রস্ফুটন হলো এ মুষলধারায়
এরপর কী বিস্তার!
জীবনস্রোতের বিপরীতে আঁতুরঘর ভুলিনি,
বন্যাকবলিত হওয়ার পরও
উৎপত্তিমূলে ফিরে আসি সিক্তনদী খুলে খুলে।
৫
অকর্ষিত মাটি ছুঁয়েছে এ বৃষ্টি
কী আনন্দ!
যদিও আমি এখনো ভাগচাষী
খণ্ড খণ্ড হয়ে যাই ধনিচার ক্ষেতে
তবু ফসলের বীজ নিয়ে
বর্ষণমুখরিত ভোরে মাঠে গিয়ে পৌঁছি।
৬
টাট্টুঘোড়ায় চড়ে এলো জলধরপটল
রাখাল জানে এখন হবে আকাশভাঙা বৃষ্টি
গোয়ালঘর ভিজে যাবে
জলভেজা চারপাশ নিয়ে
ঘুমিয়ে কি থাকা যায়?
বর্ষণমুখর এ শ্রাবণ আবারও তার চেনা হয়ে যায়!
৭
চিতাবাঘ ভিজে গেল
কোন্ ঝোপজঙ্গলে? খোঁজ কি পাও?
বাঘও বাদলরাত নিয়ে মাতোয়ারা হয়
টিপটিপে বৃষ্টি তার পছন্দ নয়
উতলধারায় নিজেকে প্লাবিত করে নাচে
কোন্ আগুনের আঁঁচে?
৮
বৃষ্টিবাদলের দিনে
কোন্ অশ্বারোহী অশ্বধ্বনি নিয়ে
এইখানে আসে?
সে-কি অঝোরধারা ভালোবাসে?
নাকি শুধু জলবিয়োজন চায়
আর চায় শুস্ক পথঘাট?
প্রাণসঞ্চারী বৃষ্টি নিয়ে
তার কোনো বোধশক্তি আছে?
সে-কি ছিল কখনো জলের কাছে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




