somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

না পাঠানো চিঠি

০৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শাহেদ ,
শেষ পর্যন্ত তুইও
আমাকে একই প্রশ্ন করলি,
সবাই না হয় করে,
তারাতো আর আমার সব কিছু জানে না,
বুঝে না, কেউতো আর আমার বন্ধু না,
তুইও জানতে চাইলি,
এখনো বিয়ে করিনি কেনো?

বন্ধু,
বিয়ে কেনো করিনি
আমি নিজেও জানিনা ,
আবার হয়তো জানি,
এতো বড় সংসার,
তার উপড় বাবা নেই,
অভাবের বাড়ীর বড় ছেলের জ্বালা
তুই বুঝবি না,
আমার আয়ে চলতো সাতজনের সংসার,
কোনো মেয়ে এতো বিপদ পড়েনি যে,
অভাবের সাথে সংসার শুরু করবে,
অভাবী মানুষ ও কি ভাবে যেনো
প্রেমে ডুবে যায়,
“মনোলীনা” হা মেয়েটার নাম “মনোলীনা”ই ছিলো,
প্রেমটার যখন দু’বছর গেলো,
বিয়ের কথা বলতেই মেয়েটা বললো,
আলাদা বাড়ী নিয়ে যদি সংসার শুরু করি
তাহলেই ও বিয়ে করবে,
প্রেম’টা টুক করে ডুবে মরলো সেই দিনই,
আমার মনের অক্ষমতার হাওরের বিষন্নতার জলে।

সেদিন সারা রাত আকাশের দিকে তাকিয়ে
মনে মনে চিৎকার করে বলেছিলাম,
“বাবা”
তোমার বুকে আমাকে টেনে নাও,
না হলে এই অক্ষমতার জলে একদিন
তোমার এই সন্তান ডুবে মরবোই।

বন্ধু ,
বিশ্বাস কর
কেউ বিয়ের প্রস্তাব আনলেই
মা’ যেনো কেমন আচরন করতো,
যেভাবেই হোক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে
প্রস্তাবটা ফিরিয়ে দিতো,
মনে হতো ভাই বোনেরা ও খুশি হতো তাতে,
আমি বুঝতাম, সবই বুঝতাম বন্ধু,
মা’ ভয় পেতো,
বিয়ে করলেই হয়তো আমি বদলে যাবো,
আরেকটা নতুন মানুষ এই সংসারের রোজগারে ভাগ বসাবে,
আমি যদি আমার মা’র বাকী সন্তানদের আর না টানি,
তারা মানুষ হবে না ।

সবাই মানুষ হয়েছে
ভাই বোনেরা তাদের সংসার নিয়ে ব্যাস্ত,
আমি শুধু প্রৌঢ় হয়েছি
আর মা’আমাদের ছেড়ে
বাবার কাছে চলে গেছে অনেক আগেই,
মা’র অসুস্হ অবস্হায় শেষ কথা ছিলো,
“বাবা, আমাকে ক্ষমা করে দিস”
আমার উত্তর শোনার
সময় পায়নি আমার মা,
আমি শুধু জানি
মা’রা কখনো ভুল করে না।

শাহেদ,
এখন আমাকে আর কাউকেই
টানতে হয় না,
আমি শুধু নিজেকে টানি,
একলা ঘরে ফিরি দিন শেষে,
তিন বেলা বাইরে খেয়ে খেয়ে
শরীরে অসুখ বাধিয়েছি অনেক রকম,
রাতে ঘুমের মাঝে নির্ঘুম কাটাই প্রায়ই,
তখন বুকে, কপালে
একটা হাতের স্পর্শ এর জন্য
কেমন যেনো অস্হিরতা জাগে
মাথার ভিতর ,
কথা বলার জন্য
একজন মানুষ খুঁজি মনে মনে,
একটা নারী শরীর সম্পূর্ন স্পর্শ
করা হলো না আমার এই জীবনে,
দেখাও হলো না।

এখন আর শরীরে
সেই ভাবে কাম জাগে না
যুবক বয়সের মতো,
যৌবনে কতো রাত এই ‘শরীর’
নিজের মাঝেই গলা টিপে হত্যা করেছি,
বার বার মরতে মরতে
শরীর ও ক্লান্ত হয়ে গেছে।

ইদানিং প্রায়ই সেই মেয়েটা
‘মনোলীনা’র কথা মনে পরে,
চেহারাটা কোনো ভাবেই
মনে করতে পারি না।

আজকাল মনে হয়
ভালোবাসা হলো একরকম দেনা পাওনার হিসাব,
মা’র হিসাব মা করছে একরকম ভাবে,
মনোলীনা’ করেছে তার মতো করে,
আমি শুধু হিসাবের খাতা হয়ে ছিলাম।

বন্ধু,
আমারও খুব লোভ জাগে ইদানিং
ভালোবাসার হিসাব নিকাশ করতে,
শুধু সময় আর বয়স আয়নার দেয়াল হয়ে
হাহাকার বাড়িয়ে দেয় আমার ভিতর,
ভয়ে পারি না,
লজ্জায় পারি না,
মাঝে মাঝে যখন নিজেকে আর টানতে পারি না
তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে
শুধু বাবা মা’কে খুঁজি ।

ভাই বোনেরা মাঝে মাঝে
ফোন করে খোঁজ নেয়
ঠিক মতো বেঁচে আছি কিনা,
এই বয়সে ওরা মাঝে মাঝে বিয়ের কথা বলে,
আমি শুধু শুনেই যাই,
কখনো কোনো উত্তর দেই না।

শাহেদ,
আমি বুঝতেই পারিনি,
অক্ষমতার হাওরে আমি কবেই
ডুবে মরে গেছি বিষন্নতার ভারে।
————————————-
রশিদ হারুন
০৬/০৭/২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৫
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চেয়ারের আত্মকথা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩০


চেয়ারের আত্মকথা

চেয়ারটি নাকি একদিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, "মানুষ আমাকে যতটা ভালোবাসে, আমাকে বানানো কাঠটাকেও যদি ততটা ভালোবাসত, তবে পৃথিবীতে এত অহংকার জন্মাত না।"

আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"

চেয়ারটি বলল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×