somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

যৌবন

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহবাগের মোড়ে সকাল দশটায় যখন একাকী একজন যুবক হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিঃশ্চুপ শান্তভাবে দাঁড়াল।
ওর দাঁড়াবার ভঙ্গিটা কেউ খেয়ালই করেনি,
ওর চোখের জেদী দৃষ্টি কারো নজরেই পড়েনি।।


যদি নজরে পড়ত,
তাহলে বুঝতে পারত বিকেলের মধ্যেই শাহবাগে এক ঝড় উঠবে।
ওর হাতে প্ল্যাকার্ডের লেখাটা ঠিকমতো কেউ তখনো পড়েও দেখেনি,
পড়লে বুঝতে পারতো কী এক নেশা মাখা শব্দ দিয়ে ভয়ংকর স্লোগান লিখেছে যুবকটি।


দুপুরের মধ্যে যখন মানুষজন হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে পিঁপড়ের মতো নিঃশব্দে
যুবকটির পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে শুরু করলো,
ঠিক তখনই প্ল্যাকার্ডের লেখার দিকে সবার নজর পড়ল।


একদল মানুষ সেই স্লোগান পড়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে চলে গেলো,
কিছু মানুষ গভীর ভাবনায় পড়ে বিড়বিড় করে সেই স্লোগান আওড়াতে আওড়াতে যার যার কাজে চলে গেল;
আরেকদল মানুষ সাদা কাগজে একই স্লোগান লিখে বুকের সাথে আঁকড়ে সেই যুবকের পিছনে এসে দাঁড়াল।


বিকেলের মধ্যেই অজস্র মানুষ যখন মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে বিড়বিড় থেকে উচ্চস্বরে স্লোগান দিল
প্রচণ্ড এক ঝড় শুরু হলো তখনই।


যুবকটির প্ল্যাকার্ডের স্লোগানের দিকে যখন আমার নজর পড়ল
আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম।
এক একটি নেশামাখা শব্দ দিয়ে সাজানো ভয়ংকর এই স্লোগান
না জানি আজকে আমাকে
এই নেশায় ডুবে যাওয়া ‘মানুষের ঝড়ের’ সাথে মিশিয়ে দেয়।


সকালবেলাই যুবকটির প্ল্যাকার্ডের স্লোগান পড়া উচিত ছিলো সং‌শ্লিষ্ট কতৃপক্ষের।


“ বাঁচতে চাই!”
কতো সাধারণ ‌অথচ নেশামাখা ভয়ংকর এই স্লোগান,
অবহেলা করা ঠিক হয়নি কারোরই।


যুবকটির দাঁড়াবার ভঙ্গিটা আর চোখের জেদী দৃষ্টি বলে দেয়,
ওর দাবি মানতেই হবে।


ওকে বাঁচতে দিতেই হবে,
তা না হলে ও একদিন
এই সমাজের সবার সর্বনাশ করে ছাড়বে,
এমন কী সং‌শ্লিষ্ট কতৃপক্ষেরও।
——————-
র শি দ হা রু ন
২১/০৯/২০২২

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:৫৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭
×