somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

মাতৃঋণ -২

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ সন্ধ্যাবেলার অসময়ের ঘুমে এক বেখাপ্পা স্বপ্নে বৃষ্টিতে ভিজলাম!
অথচ কী আশ্চর্য,
সেই স্বপ্নে আশেপাশের কারো শরীরেই বৃষ্টির একফোঁটা জলও স্পর্শ করেনি;
শুধু আমি ভিজে একাকার!

সবাই আমার দিকে কেমন অদ্ভুতভাবে তাকিয়েছিল।
রাস্তায় যাকে পাচ্ছিলাম তাকেই ডেকে
কেবলই একটা বাড়ির খোঁজ জানতে চাইছিলাম।
সবাই আমার দিকে একপলক তাকিয়ে‌ই পালিয়ে যাচ্ছিল জলে ভেজার ভয়ে।

এমন সময় ঠিক আমার মৃত বাবার চেহারার মতো দেখতে একজন মাথায় ছাতা এগিয়ে জানতে চাইল,
‘বাবা, এই অসময়ের জলে ভিজলে তুই আকাশ পাতাল জ্বরে ভুগবি,
তারচেয়ে বরং আমার ছাতাটার নিচে আয়, দু’জনে মিলেই সেই বাড়ির রাস্তাটা খোঁজ করি।’
এতটুকু বলেই তিনি ছাতাটা আমার মাথা বরাবর এগিয়ে দিলেন।
স্বপ্নে আমরা দু’জনে মিলে সেই বাড়ি খুঁজছি,
এক সময় বাবার চেহারার মতো মানুষটি জানতে চাইল কার বাড়ি খুঁজছি?
আমি কি বলেছিলাম স্পষ্ট মনে করতে পারছি না,
শুধু মনে আছে একটি বাক্য
- মা যে কোন বাড়িতে থাকে এখন?
আশ্চর্য ঘুম ভাঙার পর দেখি পুরো বিছানায়ই ফোঁটা ফোঁটা জলে ভেজা!
মাঘের শীতের ‌সন্ধ্যাবেলার ‌অসময়ে ঘুমে এমন অর্থহীন স্বপ্নে এইটুকু বুঝেছি-
‘মা, তোমার হাতের একটু স্পর্শের জন্য আমি পৌষের শীতের সন্ধ্যা রাত্রিতেও
দমকা ঝুম বৃষ্টির জলে ভিজেও রাস্তায় রাস্তায় তোমাকে খুঁজতে পারি।
তুমি তোমার বাড়ির ঠিকানা আমাকে দাও সন্ধ্যাবেলার এই অসময়ের স্বপ্নে।

মা,
এক বছরতো কাটিয়ে দিলাম তোমাকে ছাড়া
অথচ তোমার অভাবে আমি এখনো আত্মহত্যা না করে
দিব্যি সন্ধ্যাবেলার স্বপ্নে বৃষ্টির জলে ভিজতে ভিজতে
তোমার খোঁজ করি মৃত বাবাকে সাথে নিয়ে!
এখনো ঘুমের মাঝে কেঁদে উঠি তোমার শাড়ির আঁচলের জন্য,
ঘুম ভেঙে গেলে কান্নার জলে ভেজা বিছানায় শুধু তোমার শেষ নিশ্বাসটুকুর ঘ্রানে আমার শরীরও ভেজা থাকে।

মা,
আমি ইচ্ছে করেই প্রতি সন্ধ্যায় অ‌সময়ে ঘুমিয়ে পড়ি স্বপ্নে শুধু তোমাকে খুঁজবো বলে।’
——————-
র শি দ হা রু ন
৮/০৩/২০২৩

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:৪০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×