একটি ভিডিও দেখে জাস্ট মাথা টা নষ্ট হয়ে গেল। আর মনে হচ্ছিল বাংলাদেশে এখনও এতো বড় জানোয়ারের বাচ্চা আছে আমরা নীরবেই তাদের কর্মকাণ্ড দেখে যাই কিন্তু কিছুই বলতে পারি না।
আমার কেন যেন মনে হয় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কেউই ঝাঁপিয়ে পড়ত না, কেউই দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উঠে পড়ে লাগতেন না, কোন মা ই তাঁর ছেলেকে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রু মুক্ত করতে বলতেন না, যদি তখন তারা জানতেন স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কোন নারীকে নিজের শাশুড়ি আর ননদ দ্বারা জোরপূর্বক উলঙ্গ হতে হবে আবার সেটা ভিডিও করা হবে আবার সেটা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
একটি পেইজ থেকে সে ভিডিও টি আপলোড করা হয়েছে। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে কি দরকার ছিল ভিডিও টি আপলোড করার? আবার সে ভিডিও তে দেখলাম প্রায় ৪ হাজারের মত শেয়ার পড়েছে। ঐ পেইজ হয়তো লাঞ্ছিত নারীর বিচারের জন্য আপলোড করেছে কিন্তু ভিডিও টি কিন্তু আরও বুঝে শুনে ভিডিও টি আপলোড করা দরকার ছিল। আর যদি সস্তা পপুলারিটির এতই দরকার ছিল তাহলে লাঞ্ছিত নারীর ছবিটি কে ব্লার করে না দিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন কেন??? খুব জানতে ইচ্ছে করে। তাহলে কি ধরে নিব আপনারা লাঞ্ছিত নারীর বিচার চাইতে গিয়ে নতুন কোন প্রহসন এর খেলা শুরু করেছেন???
কোথায় এখন হিউম্যান রাইটস? কোথায় এখন মানবাধিকার?
এখন কেউ কিছুই বলবে না, কেউ কিছুই করবে না। কারণ সবাই সস্তা বিনোদন নিতে ভালবাসে। আসলেই আমরা অনেক অদ্ভুত এক জাতি। আমরা কি করি নিজেরাই জানি না। মাঝে মাঝে মনে হয় মানুষ হয়ে জন্মেও মনুষ্যত্ববিহীন এক জাতি আমরা।
উল্লেখ করা দরকার, নোয়াখালীতে শাশুড়ি এবং ননদ জোরপূর্বক গৃহবধু কে উলঙ্গ করে সে ভিডিও সবার কাছে ছড়িয়ে দিয়েছে। আপনার সবার কাছে অনুরোধ কেউ ভিডিও টি দেখতে চাবেন না, কেউ কারো কাছে লিঙ্ক চাবেন না। এটা দেখার মত কোন ভিডিও নয়। সবার সবার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করতে থাকেন তাহলেই এর বিচার সম্ভব।
হায় স্বাধীনতা,
যে গৌরব নিয়ে বাংলাদেশের পতাকা মুক্ত আকাশে উড়ছে সে পতাকাও যদি কোনদিন জানতে পারে বিজয়ের মাসে কেউ লাল সবুজের দেশে অধিকার বঞ্ছিত হয় নিজের পরিবারের মানুষের দ্বারা তাহলে সে পতাকা আর মুক্ত বাতাসে উড়ত না, সত্যিই উড়ত না, কোনদিনই উড়ত না !!!!!
হে মানবতা, কবে ফিরে পাবো তোমাকে তোমার চিরচেনা রূপে !!!
---গোলাম রাব্বানী
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




