somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খবরদার, আর একটুও কাঁদবে না।

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদিন পাবলিক লাইব্রেরির সামনের বইয়ের দোকানগুলোতে আমি বই দেখছিলাম। বই দেখা শেষ করে আমি লাইব্রেরির সামনে দিয়ে হাঁটছিলাম।

হঠাৎ, চোখ আটকে গেলো একটি মেয়ের দিকে। লাইব্রেরির পেছনের দিকে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে সামনা সামনি দাঁড়িয়ে কথা বলছে। আমি তাদের চেয়ে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছি। ছেলেটি মেয়েটিকে শাসিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে কিছুক্ষণ পর পর টিস্যু দিয়ে চোখের পানি মুছছে। কেন যেন খুব ইচ্ছে হল, তাদের কথোপকথন শোনার। আমি জানি, এটা অবৈধ। কিন্তু শুনতে খুব ইচ্ছে হল। আমি ফোনে কথা বলার ভান করে তাদের কিছুটা নিকটে গিয়ে হেডফোন কানে দিয়ে বসলাম। এবার আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি তাদের কথা।

সেই মুহূর্তে ছেলেটি আরও ঝাঁঝালো কণ্ঠে মেয়েটিকে তুই তোকারি করে অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ শুরু করে দিল মেয়েটিকে। ছেলেটি এমন ভাবে কথা বলছে যেন পাশের কাক-পক্ষীও টের না পায়। মেয়েটির বাবা-মা নিয়ে গালিগালাজ করছে তাও সে কোন প্রতিউত্তর করছে না। মেয়েটি কেঁদেই যাচ্ছে। সে মুহূর্তে মেয়েটির উপর আমার খুব রাগ হল। সে কিছু বলছে না কেন? সে কি কথা বলতে পারে না?

সবশেষে ছেলেটি বলল, ‘তুই আমাকে আর কখনও ফোন দিবি না, খবরদার।’ তখন মেয়েটি ছেলেটির দু’হাত চেপে ধরল। ছেলেটি সে হাত ঝেড়ে ফেলে দিতে চেষ্টা করল। কিন্তু পারলো না। মেয়েটি তার সমস্ত শক্তি খরচ করে ছেলেটির দু’হাত চেপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে চুপিচুপি বলছিল, ‘তুমি আমাকে ছেড়ে যেয়ো না প্লিজ! তুমি আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। তুমি চলে গেলে আমি বাঁচবো না।’

কথা শেষ করেই মেয়েটি ডুকরে কেঁদে উঠল। এবার ছেলেটি জোর খাটিয়ে মেয়েটির হাত ঝেড়ে ফেলে দিল। সে মেয়েটিকে একা রেখেই হাঁটতে শুরু করল। আমি লক্ষ করলাম, ছেলেটি একবারের জন্যও আর পেছন ফিরে তাকালো না। কিন্তু মেয়েটি? সে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর মেয়েটি চোখ মুছতে মুছতে পাবলিক লাইব্রেরি থেকে চলে গেল।

আমি তাদের রিলেশন নিয়ে কোন জাজমেন্ট করবো না। আমি জানি না, কে সঠিক, কে ভুল? ছেলেটির চলে যাওয়ার পেছনে আসলেই কোন যুক্তিযুক্ত কারণ ছিল কি না, আমি জানি না। আমি সত্যিই জানি না। সেই মুহূর্তে আমার চোখের সামনের ভেসে আসতে লাগলো সেই দিনের কথা। আচ্ছা, সেই দিনটি কেমন ছিল?

আমি তাদের প্রথম সাক্ষাতের কথা বলছি। যেদিন ছেলেটি নীল পাঞ্জাবী পরে হাতে গোলাপ নিয়ে মেয়েটির জন্য অপেক্ষা করছিল। মেয়েটি হয়তো নীল শাড়ি, চোখে কাজল, কপালে টিপ, হাতে কাঁচের চুড়ি পরে ছেলেটির সাথে দেখা করতে এসেছিল। সেদিন দু’জনের চোখ ভর্তি ছিল অজস্র স্বপ্নের ফুলঝরি। এক ঘরে বসবাসের আকাঙ্ক্ষা। মিলনের জন্য সীমাহীন প্রতীক্ষা? ঘোর নিশীথে এক বালিশে দু’জন মাথা রাখার আনন্দঘন যুদ্ধ। কেমন ছিল সেই দিনগুলো? নিঃসন্দেহে রঙ্গিন স্বপ্নের মত ছিল? তখন হয়তো তাদের সারারাত মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে ভোর হয়ে যেত। তাহলে কয়েক বছর পর এসে সেগুলো বিপরীতমুখী হয় কেন? নিচ্ছয়ই কোন না কোন কারণ তো থাকে! কিন্তু কারণগুলো কি?

একটা সময় তো মেয়েটি কান্না করলে ছেলেটি হয়তো সান্ত্বনার সুরে বলতো, ‘কান্না করো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি তো পাশে আছি। এত চিন্তা কিসের তোমার? খবরদার, আর একটুও কাঁদবে না। একটুও না।’ মেয়েটি হয়তো কান্না বন্ধ করে দিত। তারা আবার নিজেদের মাঝে হারিয়ে যেত! কিন্তু এবার মেয়েটিকে কি কেউ বলবে, ‘খবরদার আর একটুও কাঁদবে না, খবরদার। আমি তো পাশে আছি।’ কেউ হয়তো বলবে। কিন্তু সেই ছেলেটি কি বলবে? সে হয়তো আর কখনোই সেই আগে ‘সে’ হয়ে ফিরে আসবে না। কখনোই না!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১১
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×