somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনছুর ছাওয়াল "কমল" হামাক চিড়া আর গুড় দিছিলো।

৩০ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনছুর ছাওয়াল "কমল" হামাক চিড়া আর গুড় দিছিলো।
==============================

'সাধারণ মানুষের চোখে প্রেসিডেন্ট জিয়া' এই প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর একটি প্রবন্ধ লেখার জন্য আমি বেশ কিছু সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছিলাম।সাধারণ মানুষ বলতে কৃষক,শ্রমিক,দিনমজুর এমন কি রিক্সাচালক থেকে শুরু করে সকলেই।বেশ কয়েকজনের সাক্ষাতের পর যার কথা না লিখে পারলাম না।তিনি একজন রিক্সাচালক।তার কাছে শুনলাম কেমন ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।যে চাচার কথা তুলে ধরছি ওনার সংক্ষিপ্ত পরিচয়,নাম ছমিউদ্দীন,জিয়া কে চট্টগ্রামেই শহীদ করা হয়েছিলো,তাই তিনিও এই চট্টগ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান।সেই সুবাদে জিয়ার মৃত্যু সংবাদ শুনে তার মার কাছ থেকে একশ পনেরোটা টাকা নিয়ে পাড়ি দিলেন চট্টগ্রামে।আর ফিরে যায়নি ছমিদ্দীন,নিজ গ্রামের বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জে।পরিবার নিয়ে আজ প্রায় ত্রিশটি বছর কাটিয়ে দিছেন এই চট্টগ্রামে।ছমিউদ্দীনের মত অনেকেই প্রেসিডেন্ট জিয়া কে কমল বলে চিনত।জিয়াউর রহমানের বাবার নাম মনসুর রহমান।সবাই মনছু বলে ডাকত।জিয়ার ডাক নাম ছিলো কমল।আগেকার লোক জন কমল বলেই চিনত।ঠিক তেমন একজন ছমিউদ্দীন।ওনাকে প্রশ্ন করলাম,কেমন দেখেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া কে?উত্তরে তিনি জানতে চাইলো কার কতা কইচ্চাও বাপু?হামাক মনছুর ছাওয়াল কমলের কথা?হটাৎ কমল কে না চেনার কারণে কিছুক্ষন চুপ থাকার পর,বল্লাম হ্যাঁ,দাদু ওনার কথা বলছি।এর পর ওনার কাছে থেকে শোনা গল্প--"বাপু আমি অশিক্ষিত মানুষ তারিক জানা নেই,দ্যাশ সাদিনির পর একবার দেশে খুব খ্রাপ অবস্থা চলছিলো।তখন মানুষ না খেয়ে ও মারা গেছে,সেই সময় মনছুর ছাওয়াল বড় আর্মি,ও একবার আমাগের গেরামে গেলো গুড় আর চিড়া দিবার জন্যি।সবাই লাইন ধইরে দাড়াইলো,আমিও দাঁড়ালাম,প্রথমে কমল একজন কে দিয়ে আরম্ভ করলো,তার পর কমল পাশে দাঁড়ালো অন্য আর্মিরা দিতে লাগলো।কিন্ত ঘটোনা প্যাচ খেলো অন্য জাগায়,সবাইর এক দাবী কমল নিজ হাতে না দিলে কেউ নিবেনা।কারণ সবাই চায় কমল হাতটা ছুতে,কমলের হাত থেকে নিলে অনেক বরকত হবে।কমল ও কোন রাগঢাক না করে নিজ হাতে দিতে লাগলো।গুড়-চিড়া দেওয়ার সময় দেখলাম কমলের চোখের কোনায় পানি।তখন অনেক মুরুব্বিরা বলা বলি করছে ছেলেটা এতো ভালো!আল্লাহ যেন ওকে অনেক বড় করে।ও যেন দেশের হয়ে মানুষের দুঃখ মুছে দিতে পারে।আসলেই দুঃখ মুছে দিছিলো,কিন্ত কোন্ শকুনের বাচ্চারা আমাদের কমল কে খেয়ে ফেলছে!আল্লাহ যেন ঐ শকুন গুলোর বিচার করে"।কথা গুলো বলছিলেন আর কাঁদছিলে এই বৃদ্ধ চাচা।চোখ মুছে আমার হাতটা ধরে বল্লেন "তোমরা চোখে দেখোনি,যদি দেখতে তাহলে কোন দিন কমলের কথা ভুলতে পারবেনা।আমার মত হাজার হাজার লোক কমলের কথা মনে চোখে পানি ঝরায়।এই ঘটোনাটা আমাকে খুব পিড়া দেয় বাপু।দু'আ করিও বাপু ওনার ছেলেটা যেন কমলের মত হয়"।সত্যিই প্রেসিডেন্ট জিয়া সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েলো।যা এখনো পরতে পরতে স্বরণ করে প্রতিটি মূহুর্তে।

হে পরওয়ার দেগার!এই মহান মানুষটিকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব কর।আমীন॥

লেখকঃ Marzuk Hafiz
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×