somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারপর তিন নদীর (শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বর ও মেঘনা) মোহনায় লাশগুলো ফেলে দিয়ে অপারেশনের ইতি টানা হয়।

০৬ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিতে এম এম রানা সাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা বলতে গিয়ে বলেন, র‌্যাবের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও র‌্যাব-১১-এর সিইও লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদের নির্দেশ পালন করতে গিয়েই তিনি সাত খুনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার ওপর দায়িত্ব ছিল শুধু নজরুলকে অপহরণ করা। পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় ছিলেন তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেন। রানা আরও বলেন, অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যা ও পরে লাশ ফেলা পর্যন্ত পুরো মিশনে ছিল ৩০-৩২ জন। নূর হোসেনকে আমি চিনতাম না। নূর হোসেনের সঙ্গে মেজর (অব.) আরিফ হোসেনের পরিচয় ছিল। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নূর হোসেনের সঙ্গে আরিফের মোবাইলে যোগাযোগ ছিল।
অপহরণের দিন মেজর (অব.) আরিফ হোসেনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে এম রানা নিজেও উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতকে জানান। কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণ করার সিদ্ধান্ত ছিল। নজরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নেন। তখন তাকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তখন নূর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খবর রাখা হয় নজরুল কবে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসবেন। দু’দিন আদালত এলাকায় রেকি করা হয়। পরে নূর হোসেনের মাধ্যমে মেজর আরিফ নিশ্চিত হন তিনি ২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে স্থায়ী জামিন নিতে আসবেন। পরিকল্পনা মতে, ওই দিন আদালত প্রাঙ্গণে সাদা পোশাকে সকাল থেকে একটি গ্রুপ অবস্থান নেয়। ১১ সদস্যের দ্বিতীয় গ্রুপ অবস্থান নেয় নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিঙ্ক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে। সেখানে মেজর আরিফের সঙ্গে সে (রানা) নিজেও ছিলেন। নজরুল ইসলাম একটি সাদা প্রাইভেটকার যোগে আদালত ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে আদালতের গ্রুপটি খবর পৌঁছে দেয় মেজর আরিফ হোসেনের কাছে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম সংলগ্ন (ময়লা ফেলার স্থান) এলাকা থেকে নজরুল ইসলামসহ ৫ জন এবং নজরুলের গাড়ির পেছনে থাকা চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালককে র‌্যাবের গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। গাড়িতে তুলেই তাদের প্রত্যেকের শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এতে তারা অচেতন হয়ে পড়ে। দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে নজরুলের গাড়ি গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং চন্দন সরকারের গাড়ি গুলশানের নিকেতনে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। অচেতন অবস্থায় অপহৃত সাতজনকে র‌্যাবের গাড়িতে কয়েক ঘণ্টা রাখা হয়। এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীতে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালু-পাথর ব্যবসাস্থল জনমানুষশূন্য করার জন্য নূর হোসেনকে ফোন দেয় মেজর (অব.) আরিফ হোসেন। মোট কথা সেখানে যেন কোন লোকজন না থাকে। গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর র‌্যাবের গাড়ি ওই স্থানে পৌঁছায়। গাড়ির ভেতরই অচেতন প্রত্যেকের মাথা ও মুখমণ্ডল পলিথিন দিয়ে মড়ানো হয়। পরে গলা চেপে ধরার পর একে একে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায় সাতজন। পরে সাতজনের নিথর দেহ গাড়ি থেকে নামানো হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫নং ঘাট থেকে র‌্যাবের নির্দিষ্ট নৌকা নিয়ে যাওয়া হয় কাঁচপুর ব্রিজের নিচে। তৃতীয় গ্রুপ লাশগুলো নৌকায় উঠিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে যাওয়ার পথে আদমজী ইপিজেড ঘাট থেকে লাশ গুমের উপকরণ নৌকায় তোলা হয়। লাশ যাতে ভেসে না ওঠে এজন্য নৌকার মধ্যেই একে একে প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ইট বাঁধার পর লাশের পেট ফুটো করে দেয়া হয়। তারপর তিন নদীর (শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বর ও মেঘনা) মোহনায় লাশগুলো ফেলে দিয়ে অপারেশনের ইতি টানা হয়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×