somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘আমরা খাবার দিতে পারব দুই-চার পাঁচলাখ লোককে’ -- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা-নির্যাতন ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে, এটির সমাধান তাদেরকেই করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা সহযোগিতা করব। ১৬ কোটি মানুষকে আমরা খাবার দেই দুই-চার পাঁচলাখ লোককে আমরা খাবার দিতে পারব। তবে এটা সাময়িক ব্যবস্থা।’

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে আনীত কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ (১) বিধি অনুসারে নোটিশের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এই প্রস্তাব আনেন। আলোচনা শেষে সংসদে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলমানদের হত্যা করার প্রবণতা বিশ্বব্যাপী দেখছি। আইনালদের আমরা লাশ হতে দেখি। মুলসমানদের শরণার্থী হতে দেখি। সব মুসলিম দেশ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারত তাহলে এই অত্যাচার হতে পারত না। আমরা অন্যের হাতের খেলার পুতুল কেন হব। কিন্তু আমরা সেটাই দেখতে পাচ্ছি।’

বাংলাদেশে যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের সকলকে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিরাপদ জোন তৈরি করে নিরাপত্তা দিতে হবে। কফি আনানের সুপারিশ গ্রহণ করতে হবে। সুপারিশ নিয়ে যদি কোনো আপত্তি থাকে আলোচনা করতে হবে।’

রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের নাগরিক সেটা তো সবারই জানা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের সমান অধিকার নিয়ে রেডিওতে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৪ সালে মিয়ানমারের মিলিটারি জান্তা এই রোহিঙ্গাদের সব অধিকার কেড়ে নেয়। ২০১৫ সালে এসে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়। একটি জাতির প্রতি তারা কেন এ ধরনের আচরণ করছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বারবার ফিরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানানোর পরও তারা ফিরিয়ে না নিয়ে বরং নতুন করে নির্যাতন শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘তাদের একটি গোষ্ঠী আছে যারা মিয়ানমারের মিলিটারি ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বর্ডার গার্ডের ওপর হামলা চালায়। এরপর সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার। এই নির্যাতন এখন এমন পর্যায়ে গেছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। নাফ নদীতে শিশুর লাশ ভাসছে। গুলি খাওয়া মানুষের লাশ ভেসে আসছে। নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন করা হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের জন্য কঠিন এতগুলো মানুষকে আশ্রয় দেয়া। কিন্তু আমরা তো ফেলে দিতে পারি না। তাই আমরা এদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। আমরা চাই তারা নিজ দেশে চলে যাক।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারকে আমরা এটাই বলব, শতশত বছর ধরে সেখানে অবস্থান করা তাদের নাগরিকদের হঠাৎ করে সব অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এর ফলাফল কী হতে পারে সেটা কি তারা ভেবে দেখেছে?’

এটা সত্য কথা এক সময় আমাদের সীমান্ত সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করা হত। কিন্তু এখন তা হচ্ছে না। আমরা কখনও এ ধরনের কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করব না।

আমি এ কথাটা বারবার মিয়ানমার সরকারকে বলেছি, রোহিঙ্গাদের পুর্নবাসনের কাজে সহযোগিতা করব। অত্যন্ত দুঃখের কথা ফেরত নেয়া তো দূরের বিষয় তাদের হত্যা করা হচ্ছে।

অং সান সুচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভেবে দেখতে হবে তার (সুচির) কোনো কিছু করার ক্ষমতা আছে কি না।’

মিয়ানমারকে এটা স্পষ্টভাবে মানতে হবে এরা মিয়ানমারের নাগরিক। বাঙালি বলেই তাদের তাড়িয়ে দেবেন এটা কেমন কথা। তারা তো বার্মিজ। ভাষা আলাদা। সংস্কৃতি আলাদা।

পুলিশ বা আর্মি মেরে তারা (বিদ্রাহীরা) কী অর্জন করছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘তারা বোঝে না তাদের জন্য লাখ লাখ মানুষের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। শিশু মরছে। তারা কেন এই সুযোগ করে দিচ্ছে। এর জন্য যারা অস্ত্র যোগান দিচ্ছে তারাই লাভবান হচ্ছে। এই সন্ত্রাসীদের কারণে লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হচ্ছেন।’

মিয়ানমারের সরকারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অপরাধী তাদের খুঁজে বের করুন। এদের কথা বলে সাধারণ মানুষকে হত্যা করবেন, শিশু হত্যা, নারীদের নির্যাতন করবেন এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×