
আমাদের গর্ব করার মতো কিছু জিনিস ছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলা নাটক।
আগে অবসর সময় কাটানোর জন্য বাংলা নাটক দেখতাম। অসাধারণ সব অভিনেতা ও অভিনেত্রী ছিলেন। উল্লেখযোগ্য হলেনঃ জাহিদ হাসান, শমি কায়সার, বিপাশা হায়াত, তৌকির আহমেদ, আফসানা মিমি, অপি করিম, মাহফুজ আহমেদ, তারিন, ইশিতা, সুবর্না মুস্তাফা, হুমায়ন ফরিদী প্রমুখ।
এখন নাটকের নামে চলছে ন্যাকামি। বাংলা নাটক যেন তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে।কখনো কখনো অভিনয়ের নামে চলছে দেহ প্রদর্শন। থিয়েটার না করেই সরাসরি অভিনয়ে ঢুকে নব্য তারকারা কি অভিনয় করছে ওরা নিজেরাও জানেনা। নাটক নির্মাতারা মেধাবী অভিনেত্রীর চেয়ে যৌন সুড়সুড়ি অনুভুত হয় এমন অভিনেত্রী (আসলে ন্যাকা) দিয়ে নাটক বানাচ্ছেন। এমন নয় যে কিছু মেধাবি অভিনেতা অভিনেত্রী এখনো নেই। কিন্তু সমস্যা হলো অভিনেতা অভিনেত্রী ভালো হলে স্ক্রিপ্ট ভালো হচ্ছেনা। গল্প ভালো হলে অভিনেতা অভিনেত্রী হচ্ছে ন্যাকা।
তখন বিটিভিতে প্রতি বৃহঃপ্রতিবার সাপ্তাহিক নাটক দেখাতো। পরিবারের সবাই মিলে দেখতাম সে নাটক। অন্যরকম এক অনুভুতি। প্রতি শুক্রবার বিটিভিতে একটি বাংলা ছবি দেখাতো। বাসার সবাই মিলে সে ছায়াছবি দেখছি। কি উপভোগ্য মুহুর্ত ছিল বলে বুঝানোর মতো না।
ভালো স্ক্রিপ্টে ভালো মানের অভিনেতা অভিনেত্রী নিয়ে নাটক না বানালে বাংলা ছবির এর মতো একদিন বাংলা নাটক ও তার ঐতিহ্য হারিয়ে।
আর মঞ্চ নাঠক দেখার মতো সময় হয়তো সবার হয়ে উঠেনা। দর্শক ও সম্মাননা কম হওয়ার কারণে মঞ্চ অভিনেতা অভিনেত্রীরা টেলিভিশন নাটকের দিকে ঝুঁকছে। তাই এর মাণ বৃদ্ধি করা ঐতিহ্য ধরে রাখা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানের অনেক নাটক বিদেশী গল্পের কপি পেস্ট। যা সত্যি লজ্জাজনক।
নাটক নির্মাণ নিয়ে ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিম উদ্দীন ভাই এর একটা লেখা পড়ছিলাম। সেখানে তিনি লিখেন ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যধারার আধুনিক নাট্যচর্চা: সফলতার শিল্পসৌধ কতদূর?সফলভাবে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্য নির্মাণের কারণে নাট্যকার বা নির্দেশক বা অভিনেতা বা নাট্যদল কি সরকারি-বেসরকারি অনুদান বেশী পাবে? হল বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে? নাট্যোৎসব সমূহে অধিক গুরুত্ব পাবে? বিদেশে নাট্যদল প্রেরণের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী বিবেচনায় থাকবে? আমরা জানি না। এমন কোনো নীতিমালারও বোধকরি বালাইও নেই। তাহলে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্য নির্মাণে সফলতা লাভের জন্য শ্রম-সময়-অর্থ-মেধা ঢেলে দিয়ে কি লাভ? এই প্রবন্ধটি লিখেও বা কি লাভ?

পরিশেষে বলবো বাংলা নাটকের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে
ছবিঃ ফেসবুক ও গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



