somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ গোফরান
জামাত শিবির,ধর্মান্ধ মোল্লা ও একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বিদ্বেষী মুক্ত ব্লগ।আপনার প্রতি আমি কেমন ব্যাবহার করব তা আপনার আচরণের উপর নির্ভর করবে।সত্য মিথ্যা যাচাই না করে অন্যের কথার উপর ভিত্তি করে যদি আমার উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন,তাহলে আমার বন্ধু হওয়ার দরকার নেই।

একজন মডেল বনাম একজন কর্পোরেট কল গার্ল।

২৫ শে মে, ২০২৩ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এখানে বয়স ৩০ পার হলে সরকারী চাকরি পাওয়া যায়না। বি সি এস দেওয়া যায়না। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেডিকেটেডলি ছাত্রলীগ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। বর্তমানেও আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। তবে লীগ করি বলেই অন্ধভাবে দলের সবকিছুতে সাপোর্ট করব এটা আমার পারসোনালিটির সাথে যায়না। আমি কোটা বিরোধীদের একজন। কোটা টোটা সব বাদ দিয়ে ৫ থেকে ৬% ছাত্র ছাত্রী সরকারী চাকরি পায়। বাকি সবার ভরসা কর্পোরেট বা প্রাইভেট জব।

প্রাইভেট কোম্পানি গুলো মাল্টিন্যাশনাল, ন্যাশনাল ও লোকাল বেইস হয়ে থাকে। সরকারি চাকরিতে ৭০% ঘুষ মামা চাচা দাদা কাকা কোটা ইত্যাদিতে দখল। ফলে মেধাবীদের একটা বড় অংশ প্রাইভেট বা কর্পোরেট জব করতে বাধ্য হয়।

আর কর্পোরেটে টিকে থাকা সত্যি চ্যালেঞ্জিং। সবচেয়ে বেশী চ্যালেঞ্জ নেয় মেয়েরা।প্রতিটি কোম্পানি ভালো পুরুষ এমপ্লয়ী বা বস যে নাই তাহা নয়, তবে বেশীরভাগ পার্ভাট।আমাদের দেশে একটি মেয়ে কি ইচ্ছে করে কলগার্ল হয়? প্রশ্নই আসেনা। মেয়েটি যখন ইন্টারভিউ দিতে যায়, তখনই বস যদি পার্ভাট হয় তবে সিডাকটিভ আচরণ করবে। ধরে নিলাম বস ভালো। মেধা দিয়ে চাকুরী পাওয়ার পর দেখা যাবে রিপোর্টিং বস পার্ভাট। রিপোর্ট বসও যদি ভালো হয় তবে দেখা যাবে স্বয়ং কোম্পানির এম ডি বা চ্যায়ারম্যান সিডউস করছে। আমাদের মত দরিদ্র দেশে ভাতের অভাবে মেয়েরা এসব মেনে নিয়েই জব কনটিনিউ করে। বিগত ১০ বছর আগেও মেধা দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি নারী কর্মী নিয়োগ দিত। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে কর্পোরেট জব পাওয়ার জন্য সব চেয়ে বড় যোগ্যতা যা থাকতে হবে তা হলো, সাদা চামড়া, এক্সপোজিং ড্রেসাপ ও মাস্ট ওয়েল পলিসড হতে হবে। এভাবেই পেটের দায়ে অনেক মেয়ে হয়ে উঠে কর্পোরেট কলগার্ল।


এবার মডেল প্রসংগে আসি।জিমে গিয়ে ফিগার মেন্টেন করা, পার্লারে গিয়ে নিয়মিত ওয়েল পলিশড হওয়ার কারণে, নিয়মিত গ্রুমিং করার কারণে একজন মডেল এর কনফিডেন্ট লেভেল এতোই হাই হয়ে যায় যে, ভ্যান গাড়ি থেকে ৭০ টাকায় ১ টা টিশার্ট, স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে ৩০০ টাকায় একটা ট্রাক, ও ফুটফাত থেকে একজোড়া ক্যাডস পড়লেও তাকে অন্য সবার থেকে সুন্দর দেখায়। মডেল মাত্রই লাস্যময়ী হয়। মডেলদের বয়স হয়ে থাকে ২২ থেকে ২৮। এরপরে আসলে ফিগার ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। আমাদের দেশ রক্ষণশীল। এদেশে ৯৮% মানুষ মডেলদের কলগার্ল মনে করে। কারণ তাদের অধিকাংশই দেহ ব্যাবসার সাথে জড়িত।

দেখুন, যারা জব করছে তাদের অনেকে জব পাওয়ার জন্য, প্রমোশন পাওয়ার জন্য, সেলারি ইনক্রিমেন্ট এর জন্য দেহ দিচ্ছে আর মডেলেদের অনেকেই টাকা নিয়ে দেহ দিচ্ছে। কর্পোরেট জব করা মেয়েটি একই কাজ করার পরও তাকে সম্মানের সাথে ট্রিট করা হচ্ছে, আর অন্য একটি মেয়ে মডেলিং করার পাশাপাশি কারও সাথে রাত কাটাক আর না কাটাক তাকে কলগার্ল বলে অপমান করা হচ্ছে।


সত্যি সেলুকাস বড়ই বিচিত্র এই দেশের মানুষের মানসিকতা। মেয়েটি মডেলিং না করে যদি দারিদ্র্যতার নির্মম আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হতো তবে তাকে ভালো বলা হতো। আর যদি দারিদ্র্যতা কে বৃদ্ধ আংগুল দেখিয়ে যদি সে মডেল হয় তাকে বলা হচ্ছে কলগার্ল! অথচ মডেল হওয়ার আগে যখন দিনের পর দিন উপোস করতো, ক্ষুধার যন্ত্রণায় আর্তনাদ করতো তখন যারা ওদের কলগার্ল বলে নাক সিটকায় তারা একবেলা খাবার পর্যন্ত কিনে দেয়নি।



ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন ও দেশের অন্যতম সেরা ফ্যাশন মডেল। দেখুন সে বিখ্যাত জুয়েলারি ব্রান্ড "জরুয়া হাউজ" এর ব্রান্ড এম্বাসাডর। এবারের কান উৎসবে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া একমাত্র মডেল সে।প্যারিস ফ্যাশন উইকের মতো প্রেস্টিজিয়াস রানওয়েতে গত আসরে সে ক্যাটওয়াক করেছে।তার নিজের পরিশ্রমের টাকায় রোজগার করা একটি অডি গাড়ি আছে ও একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট আছে।সুযোগ পেলেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যায় সে। এটাই তাঁর একমাত্র অপরাধ। পত্রিকা গুলো নিউজ করছে কিভাবে মডেলিং করে এই বিলাসবহুল জীবনযাপন করা সম্ভব। আচ্চা সে কিভাবে এমন লাক্সারিয়াস লাইফ লিড করছে তার জবাবদিহি করতে সে কি বাধ্য? সে তো অবৈধভাবে রোজগার করছেনা।

ব্লগার সাড়ে চুয়াত্তর ভাই পোস্ট দিয়েছেন "ভাত চুরির শাস্তি নির্মম শারীরিক নির্যাতন হলে হাজার কোটি টাকা চুরির শাস্তি কি হওয়া উচিত?" আমিও বলতে চাই মডেলিং করে রোজগার যারা করে তারা কলগার্ল হলে যারা একটি চাকরির জন্য বসের সাথে বিচানায় যায় ওরা কি? যারা জামাই থাকার পরও পরকিয়া করে ওরা কি? মডেলিং করেনা কিন্তু টাকার জন্য যে সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা সুগার ড্যাডি মেন্টেন করে ওরা কি?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০২৩ রাত ১১:৪৯
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×