somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হইলেও হইতে পারতো একটা সফল প্রেম। কিন্তু... /:)

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে অনেক কাল আগেকার কথা। আশেপাশের সবাই ২/৪ খানা প্রেমের পাট ইতোমধ্যে চুকায়ে ফেলছে। খালি আমিই ভ্যাবলা ইন্টার পাশ কইরা মুটামুটি একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইয়াও কিছুই করিতে পারলাম না। দিনের বেশিরভাগ সময়ই দুঃখভারাক্রান্ত রহিতাম। সহপাঠি এবং বন্ধু-বান্ধবের প্রেম-পিরিতির ইতিকথা আর রোমান্টিসিজম দেখিয়া কেবল বৃথা আস্ফালনই করিতাম। এমন অবস্থায় একদিন ফেইসবুকে পরিচয় হইলো মুন নামক এক কন্যার সহিত। :> তাহার সাবলীল বাচনভঙ্গি আর সেন্স অভ হিউমার আমারে ব্যাকুল করিয়া তুলিলো। আমি বাল্যকাল থেকেই এহেন হাস্যরসবোধসম্পন্না বালিকাদের প্রতি বেজায় আকৃষ্ট রহিতাম আর তাই তার প্রতি আমি বিশেষ দুর্বল হইয়া গেলাম। /:) /:) /:) সেও আমার ভ্যাবলামি পছন্দ করিয়া ফেলেছিলো বোধ করি। আর তাই তো একদিন নিজ থেকেই আমার মোবাইল নম্বর চাইলো। আমিতো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ায় খুশি হইয়া লাফাইতে লাফাইতে নম্বর দিলাম। B-)) B-)) নম্বর দেওয়া নেওয়ার পর চ্যাটিং এর সাথে সাথে শুরু হলো ফোনালাপ।
আমি তাহাকে প্রথম দিকে চন্দ্র এবং পরে চন্দ্রাবতী সম্বোধন করিতে লাগিলাম। সেও মনে হয় এতে খুশিই হইতো। একটা সময় পর রুটিন মাফিক দিনে দুইবার ফোনালাপ করা শুরু করিলাম। কিছুদিন পর "কি করছিলা?"--> "তোমাকে মিস করছিলাম।" টাইপের কথা-বার্তা শুরু হইয়া গেলো। ব্যাপক সুখে আমি দিনাতিপাত করিতেছিলাম।
তখনই শুরু হইলো আমার পরীক্ষা।। পড়তে পড়তে আমি পাগল্প্রায় হইয়া যাইতেছিলাম। আমার সব টাইমিং বেঠিক হইয়া যাইতেছিলো। সময় মত ফোন করতে তো পারতামই না, রিসিভও করতে পারতাম না। :| :| যাই হোক একদিন ফোন দিলো ও। আমি রিসিভ করা মাত্রই জিজ্ঞাস করলো "কি করো?" আমি বললাম "মাথার চুল ছিড়ি।" (তখন ছিলো ল পরীক্ষা। X((X(X( মুখস্ত করতে করতে আর ভুলতে ভুলতে আমি পুরাই ক্লান্ত) সে বললো "এখন তো আর আমাকে মিস করো না।" আমি বুঝলাম তাহার কথার টোন অন্যদিকে ধাবিত হচ্ছে। বুঝিবামাত্রই কিছু ভালো ভালো কথা বলিয়া ২/৪ মিনিট পর বললাম "আমি এখন একটু পড়তে বসবো, কিছুক্ষন পর কথা বলি।" সে বলিলো "তথাস্তু।
আমি বসিলাম পড়িতে। এরই মধ্যে রাত্রি ২টা বাজিয়া গেলো। সে আবার ফোন করিলো। আমি তখন একটু চন্দ্র দেখিবার জন্য বারান্দায় গিয়ে বসায় তাহার কল রিসিভ করিতে পারিলাম না। কিছুক্ষন পর যখন রুমে ফিরিয়া আসিলাম দেখি আমার এক কলেজ ফ্রেন্ড ফোন করিয়াছে। তাহার কল রিসিভ করিয়া কথা-বার্তা বলার সময়ই সে আবার ফোন করিলো, আর আমারে ওয়েটিং-এ পাইলো। আমি খাইলাম বাঁশ। তাহাকে ফোন করিবা মাত্রই সে বলিলো "আমার ফোন রিসিভ করতে পারো না, আর রাত ৩টায় অন্য মানুষের সাথে কথা বলো? আর কক্ষনো আমাকে ফোন করবা না তুমি।।" এই কথা বলিয়াই সে কাটিয়া দিলো এবং ঐ রাতে আর রিসিভ করলো না ফোন। তখন আমি ভাবলাম থাক ২/৪ দিন পর রাগ ভাঙ্গামু নে আপাতত আমি পরীক্ষাটা শেষ করি। ৩ দিন পর ফোন করায় সে রাগে অগ্নিমূর্তি ধারন করিয়া কহিলো "এত্তদিন তো একবারও ফোন দিলা না। এখন দিছো কেন?? আর জীবনেও ফোন দিবা না। ব্লা ব্লা ব্লা..." ইত্যাদি কহিয়া সে আমারে বিশাল ঝাড়ি দিতে উপক্রম হইলো। আমি ভাবলাম যে এখনো আমার কিছু না সে যদি আমারে এহেন ঝাড়ি দিতে পারে তাহা হইলে কিছু হইবার পর আমার কি হাল করিবে??!!! এই কথা চিন্তা করিয়া আমি তাহাকে উলটা ঝাড়ি দিতে মনস্থঃ করিলাম। এবং চেষ্টাও করিলাম। ঝাড়ি দেওয়া সফল হইয়াছিলো কিনা জানি না কিন্তু এখনো আমার প্রেমের পাট সফলভাবে চুকানো হইলো না। আমি সিঙ্গেলই ছিলাম, সিঙ্গেলই রহিয়া গেলাম।। :|| :||
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×