somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বারছেলোনার কয়েকটা দুঃস্বপ্নের দিন এবং স্বরূপে ফেরা :P

১০ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবশেষে জয়ের ধারায় ফিরলো কাতালানরা। গতকাল বার্সেলোনার স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু হয়ে রইলো আরেক দৈত্যবধের সাক্ষি। :P শর্ট পাস আর নিজেদের কাছে বল রেখে খেলার এক ইউনিক স্টাইল বহুদিন ধরেই ফুটবলে অবলম্বন করে আসছে কাতালানরা। এতে সাফল্যও তাদের দিয়েছে ধরা অহরহ। কিন্তু বিগত কয়েকটা সপ্তাহ যেন দুঃস্বপ্ন আর হতাশায় ডুবিয়ে রাখলো স্প্যানিশ জায়ান্ট এফ সি বারছেলোনাকে।

দুঃসময়টা শুরু হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেকেন্ড রাওন্ডের ফার্স্ট লেগের খেলা থেকে। খেলার আগে বুক ভরা আত্নবিশ্বাস আর গত বছরে এই মিলানকে হারানোর টগবগে স্নৃতি নিয়ে যখন বারছা শিবিরের সবাই অনেকটা তাছ্যিল্যের সুরেই বলছিলো যে এইবারো তারা মিলানকে হারিয়ে দেবে। আর তাদের সমর্থকরা তো ৮/১০ ধাপ এগিয়ে। তাদের মুখে ছিলো কেবল একটাই কথা “খেলবো না তগো বালোতেল্লি, গোল দিমু আমরা তাই দুই হালি।“ তারা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলো এই মিলানই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে রিয়াল মাদ্রিদের পর সবচেয়ে সফল দল। সাত বার ইউরোপ সেরা হবার গৌরবে তারা মহিমান্বিত। যাইহোক সানসিরো তে প্রথম লেগের খেলায় ২-০ গোলে নির্মম পরাজয় বরন করে নিলো কাতালানরা। তাদের খেলায় সেদিন ফুটে উঠছিলো ইটালিয়ান ডিফেন্সের সামনে তাদের অসহায়ত্ব। সেদিনও কিন্তু বারছা তাদের শর্ট পাসের মহড়া সাজিয়ে বসেছিলো। তাদের দখলে ছিলো বল খেলার ৭৭% সময়। কিন্তু হায়! এই ৭৭% বল দখলে রেখেও তারা টার্গেটে শট নিতে পেরেছিলো মাত্র একটি! আর টার্গেট বাদ দিলে খেলায় টোটাল শট ছিলো দুইটি। অন্যদিকে ২৩% সময় দখল রেখে মিলান টার্গেটে শট নিয়েছিলো ৩টি যার দুইটিই লক্ষ্যভেদ হয়। বারছা প্লেমেকার জাভির মতে বিশ্বসেরা গোলকিপার বালধেজ দুইবার হয় পরাস্ত।

যাইহোক, ঐ একটা ম্যাচকে স্রেফ দুর্ঘটনা হিসেবে আক্ষ্যায়িত করে কাতালান শিবিরের সবাই ঘোষনা দিলো পরের খেলা থেকে স্বরূপে ফেরার। কারন পরের গুরুত্বপূর্ন খেলাটা ছিলো স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে। তাও নিজের মাঠে। কোপা দেল রের ২য় লেগে মুখোমুখি হলো মাদ্রিদ-বারছা। নিজের মাঠের সুবিধা নেওয়ার ঘোষনা আগেই দিয়ে রেখেছিলো বারছা শিবির। কিন্তু খেলায় দেখা গেলো পুরাই বিপরীত চিত্র। কিসের কি স্বরূপে ফেরা! খেলার পুরো ৯০ মিনিটই আধিপত্য বিস্তার করলো রিয়াল মাদ্রিদ। জিতলো ৩-১ গোলে। তবে পিকে-আলভেজ-পিন্টো নিজেদের মধ্যে পাস পাস খেলে বলের দখল নিজেদের কাছে বেশিই রেখেছিলো। যাইহোক, রেফারি কোটায় গোল না পাওয়ায় আর মাদ্রিদ দলের অতিমানবীয় খেলায় আবারো অসহায়ত্ব ফুটে উঠলো ভিনগ্রহবাসীদের চেহারায়।

তিনদিন পর আবার এল ক্লাসিকো। লা লিগার ২য় লেগ। স্থানঃ সান্টিয়াগো বার্ণাব্যু। কাতালান শিবির ঘোষণা দিলো প্রতিশোধ নেয়ার। আগের ম্যাচ ৩-১ গোলে হারার পর পরের ম্যাচ ২-১ গোলে হেরে বারছা নিলো যথাযথ প্রতিশোধ। :P এইবার বারছা শিবিরে অন্য সুর। মানুষ মাত্রই নাকি অফফর্মে থাকে। একজন প্লেয়ারের কয়েকটা ম্যাচ খারাপ যেতেই পারে এ টাইপ কথা তারা বলতে শুরু করলো। তারা নিজেদের যে ভিন্নগ্রহের খেলোয়ার দাবি করে তা তারা বেমালুম ভুলে গেলো। সারা ফুটবল বিশ্ব শুরু করে দিলো কানাঘুষা “বারছার দিন শেষ” ঠিক তখনই হরমোন বয় মেষী বললো, “এই দলটা এমনই। দুইটা ম্যাচ হারলেই পাহাড়সম বোঝা। আবার পরের দুইটা ম্যাচ জিতলেই সব কিছু স্বাভাবিক।“

আর নিজের কথার সত্যতা প্রমান হয়েই গেলো গতকালের ম্যাচে। বিগত তিন ম্যাচের হারের যে পাহাড়সম বোঝা তা নিমিষেই স্বাভাবিক হয়ে গেলো ঘরের মাঠে দেপোর্তিভো লে কারুনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়ে। এই দেপোর্তিভোর বিপক্ষেই প্রথম লেগে ৪-৫ গোলের ঘাম ঝড়ানো জয় পেয়েছিলো বারছা। পরের লেগে ২-০ গোলের সহজ জয় পেয়ে তাই পুরা কাতালান শিবির কাল উল্লাসে মেতে উঠেছিলো আরেকবার। শক্তিশালি দেপোর্তিভো কে হারিয়ে ঘরের মাঠে দৈত্যবধের ইতিহাস রচিত হলো আরেকবার। এখন অপেক্ষা শুধুই ১২ মার্চের। অপেক্ষা আরেকটা ইতিহাস রচনার। :D :D
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৪৪
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×