somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১৭ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাল সালাম এই মজলুম নেতা কে

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সমাজ-রাষ্ট্রে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে; তিনি ছিলেন নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রণী কিংবদন্তি। তিনি সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে ছিলেন প্রতিবাদী। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে তার অবদান অবিস্মরণীয়। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অনন্য।

মওলানা ভাসানী তার জীবনের বেশিরভাগ সময়ই টাঙ্গাইলের সন্তোষে কাটিয়েছেন। এখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এর অধীনে ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯টি কারিগরি ও সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠান এখনও রয়েছে, শুধু তার স্বপ্নের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়টিই নেই। তবে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ায় তার স্বপ্ন পূরণ হয়। সন্তোষ ট্রাস্টি বোর্ডের ১০৬ দশমিক ২৬ একর জমির ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত।

এই মহান নেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে মক্তবে শিক্ষা গ্রহণ করে মক্তবেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ১৯০৩ সালে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময়েই ১০ মাস কারাভোগ করেন তিনি।

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসানচরে প্রথম কৃষক সম্মেলন করেন। সেই থেকে তার নামের পেছনে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়। ১৯৩১ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় এবং ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৪৪ সালে আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ সময় পাকিস্তান আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য গ্রেফতার হন। ১৯৪৯-এর ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ গঠন করে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। ১৯৪৯-৫৭ সালে ভুখা মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে আবার তিনি গ্রেফতার হন।

১৯৫০ সালে সরকারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অনশন ধর্মঘট করেন এবং মুক্তিলাভ করেন। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জেলা বার লাইব্রেরি হলে তার সভাপতিত্বে এক সভায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হয়। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের জন্য পুনরায় গ্রেফতার হন। ১৯৫৬ সালে বাংলায় খাদ্যজনিত দুর্ভিক্ষ রোধে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকায় অনশন করেন। ১৯৫৭ সালের ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। তখনকার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে ১৮ মার্চ (১৯৫৭) আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছর ২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারি করে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতায় এলে মওলানা ভাসানী গ্রেফতার হন। এ সময় বন্দি অবস্থায় ১৯৬২ সালে বন্যাদুর্গতদের সাহায্য, পাটের ন্যায্যমূল্য, মোহাজেরদের পুনর্বাসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের দাবিতে অনশন ধর্মঘট করেন। ১৯৬৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের বিপ্লব দিবস উত্সবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও সেতুং ও সে দেশের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে যান। ১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচির প্রতি দৃঢ় সমর্থন দেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ এ মামলার সব আসামির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বন্যা সমস্যা সমাধানের দাবিতে সন্তোষে অনশন ধর্মঘট পালন করেন।

১৯৭০ সালের নভেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হলে দুর্গত এলাকায় ত্রাণকাজে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দিয়ে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান দাবি উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। এ সময় তিনি ভারতে ছিলেন। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ‘হক-কথা’ প্রকাশ করেন। মুজিব সরকারের ব্যাংক বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নীতি এবং ১৯৭২ সালে সংবিধানের প্রতি সমর্থন দেন। ১৯৭৩ সালে (১৫-২২ মে) খাদ্যের দাবিতে ঢাকায় অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ১৯৭৪ সালের ৮ এপ্রিল হুকুমতে রাববানিয়া সমিতি গঠন করেন।

১৯৭৬ সালের ১৫ মে ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দেন। একই বছরের ১ অক্টোবর তার নেতৃত্বে খোদাই খিদমতগার সংগঠন গঠিত হয়। ১৯৫৭ সালের ৯-১১ ফেব্রুয়ারি কাগমারীতে যে আফ্রো-এশিয়া সাংস্কৃতিক সম্মেলন হয়, তা তার জীবনের এক অমর কীর্তি। তার লেখা গ্রন্থ দেশের সমস্যা ও সমাধান (১৯৬২), মাও সেতুং-এর দেশে (১৯৬৩) ব্যাপক সমাদৃত হয়। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×