জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে। কতো মধুর স্মৃতি, সুখ, দুঃখ, হাসি-কান্না জড়িয়ে রয়েছে এই হলে। সেই হল লাইফের কথা কখনো ভোলা যাবে না। শহীদুল্লাহ হল এখনো আমাকে নষ্টালজিক করে তোলে। তবে যারা কখনো হলে থাকেনি তারা হল লাইফের কিছুই বুঝবে না।
যখন প্রথম হলে উঠেছিলাম তখন দেখতাম অনেক বড়ো ভাই বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে হলে বেড়াতে আসতো। তখন মনে হতো হল ছাড়ার পর আবার কি কাজে হলে আসে? কিন্তু এখন মনে হয় হল ছাড়ার পর কি অনুভূতি কাজ করে।
তখন ৫১০ নং রুমে থাকতাম। সন্ধ্যার সময় একদিন রুমে বসে পড়ছিলাম। হঠাৎ একজন রুমে আসলো। বললাম, কাকে চাই? উত্তরে বললো, 'আমি এই রুমে থাকতাম। ঢাকায় কাজে আসছি, তাই একটু বেড়াতে আসলাম।' ওই ভাইয়ের নামটা মনে করতে পারছি না। মাইক্রোবায়োলজি থেকে পাস করে তিনি তখন আইসিডিডিআরবি'তে চাকরি করতেন। তারপর পুকুর পাড়ে নিয়ে গিয়ে আমাদের (আমার আরেক রুমমেটসহ) নাস্তা করালো।
হল ছাড়ার পর এসব কথা এখন খুব মনে পড়ে। মাঝে মাঝে মনে হয়, হলে গিয়ে একটু সময় কাটাই। কিন্তু সেটাতেও বিপত্তি। কারণ হলে এখন পরিচিত বান্দা খুব কম। যেসব জুনিয়র আছে, সবাই ব্যস্ত থাকে ক্লাস আর পরীক্ষা নিয়ে। পুকুরপাড়ে গিয়ে বসলে খুব একা একা লাগে। অথচ একটা সময় ছিলো, যখন পুকুরপাড়ে বসলে অপরিচিত কাউকে পেতাম না।
কিন্তু এটাই জীবন। একদিন এই বিশ্ব সংসারেও আমরা একা হয়ে যাবো। সেদিন আব্বু-আম্মু, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, কেউ পাশে থাকবে না। শুধু অপেক্ষা করবো ওপারের ডাকের।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


