সময়টা ছিলো ২০০৩ সালের সম্ভবত মে মাস। ওই মে মাসের প্রথম দিকেই শহীদুল্লাহ হলে আমার আগমন। তবে প্রথমে আমার অ্যাটাচমেন্ট ছিলো অমর একুশে হলে। পরে ডিন অফিসে দরখাস্ত করে শহীদুল্লাহ হলে অ্যাটাচমেন্ট নিয়ে আসি।
এক অপার স্বাধীনতা নিয়ে ঢুকলাম হলে। কিন্তু পুরোপুরি স্বাধীনতা আমার মতো বেয়াড়ার জন্য যে কতোটা ক্ষতিকর তা বুঝলাম আরো কয়েকদিন পরে। একটি কথা বলাই হয়নি, আমি ভর্তি হয়েছিলাম পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে।
হলের গল্পকে ২০০৩ সালের মে মাসে আপাতত স্থগিত রেখে একটু ঘুরে আসা যাক কার্জন হল থেকে। যে কার্জন হলের অপরুপ নিসর্গ প্রথম দিনই মন কেড়ে নিয়েছিলো, যেমনটি নিয়েছিলো নটরডেম কলেজ। প্রথম দিন ছিলো ওরিয়েন্টশন ক্লাস, আহমেদ শফি স্যারের। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হাজির হলাম ক্লাসে। স্যার এসে বক্তৃতা শুরু করলেন। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, স্যারের কথার কিছুই আমি বুঝিনি (আমার মতো গাধার বোঝার কথাও না), শুধু বুঝেছিলাম স্যার একটু পর পর হাসছেন। স্যারের ওই হাসি দেখে আমি আর হাসি আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। কতোগুলো নতুন মুখের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে আর শফি স্যারের হাসির মধ্য দিয়েই শেষ হলো ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিন। আহা কি আনন্দ!!
দুই দিন ছুটি। তার পর পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে, কিন্তু নোটিস বোর্ডে কিছু
পেলাম না। (নটরডেম কলেজের প্রথম রুল ছিলো...প্রতিদিন নোটিস বোর্ড চেক করতে হবে। সেই হিসেবে ডিপার্টমেন্টেও প্রথম প্রথম প্রতিদিন নোটিস বোর্ড চেক করতাম। বাট ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের সার্ভার ডাউন! নোটিস বোর্ড আপডেট পেতাম কিছুসময় পর।)
এবার পুরোদমে ক্লাস শুরুর প্রথম দিন। সকাল ৮টায় ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও চলে গেলাম সকাল সাড়ে সাতটায়। গিয়ে দেখি দরজাই খুলে নাই!! কি আর করা, ফিজিক্সের বারান্দার রেলিঙে বসে আছি, এমন সময় হঠাৎ একটা মেয়ের আগমন
বুকটা ধুকপুক করে উঠলো, মন আনচান হলো। ভাবলাম, এইবার বোধহয় কিউপিড আমারে ছেঁদা করে দিছে! আমি রেলিঙে বসে আছি আর সে (পরবর্তীতে 'তিনি') হাঁটতেছে। মানুষ মাত্র দুইজন কিন্তু কেউ কোনো কথা বলে না। অবশেষে আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'ফার্স্ট ইয়ার?' (আপনি/ তুমি কিছু কই নাই, কারণ যদি আমার ইয়ার মেট হয়!! ) কিন্তু বিধিবাম, উত্তর আসলো 'থার্ড ইয়ার!!' বুঝলাম কিউপিডের তীর আমার হৃদয়ে বিঁধে নাই, পুরাই ফুটা কইরা দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
সেই তীর পরে বিঁধেছিলো আমার হৃদয়ে, কিন্তু সেটা আরেক গল্প।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


