somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার হল লাইফ (পর্ব-২)

০৬ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়টা ছিলো ২০০৩ সালের সম্ভবত মে মাস। ওই মে মাসের প্রথম দিকেই শহীদুল্লাহ হলে আমার আগমন। তবে প্রথমে আমার অ্যাটাচমেন্ট ছিলো অমর একুশে হলে। পরে ডিন অফিসে দরখাস্ত করে শহীদুল্লাহ হলে অ্যাটাচমেন্ট নিয়ে আসি।

এক অপার স্বাধীনতা নিয়ে ঢুকলাম হলে। কিন্তু পুরোপুরি স্বাধীনতা আমার মতো বেয়াড়ার জন্য যে কতোটা ক্ষতিকর তা বুঝলাম আরো কয়েকদিন পরে। একটি কথা বলাই হয়নি, আমি ভর্তি হয়েছিলাম পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে।

হলের গল্পকে ২০০৩ সালের মে মাসে আপাতত স্থগিত রেখে একটু ঘুরে আসা যাক কার্জন হল থেকে। যে কার্জন হলের অপরুপ নিসর্গ প্রথম দিনই মন কেড়ে নিয়েছিলো, যেমনটি নিয়েছিলো নটরডেম কলেজ। প্রথম দিন ছিলো ওরিয়েন্টশন ক্লাস, আহমেদ শফি স্যারের। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হাজির হলাম ক্লাসে। স্যার এসে বক্তৃতা শুরু করলেন। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, স্যারের কথার কিছুই আমি বুঝিনি (আমার মতো গাধার বোঝার কথাও না), শুধু বুঝেছিলাম স্যার একটু পর পর হাসছেন। স্যারের ওই হাসি দেখে আমি আর হাসি আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। কতোগুলো নতুন মুখের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে আর শফি স্যারের হাসির মধ্য দিয়েই শেষ হলো ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিন। আহা কি আনন্দ!!

দুই দিন ছুটি। তার পর পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে, কিন্তু নোটিস বোর্ডে কিছু
পেলাম না। (নটরডেম কলেজের প্রথম রুল ছিলো...প্রতিদিন নোটিস বোর্ড চেক করতে হবে। সেই হিসেবে ডিপার্টমেন্টেও প্রথম প্রথম প্রতিদিন নোটিস বোর্ড চেক করতাম। বাট ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের সার্ভার ডাউন! নোটিস বোর্ড আপডেট পেতাম কিছুসময় পর।)

এবার পুরোদমে ক্লাস শুরুর প্রথম দিন। সকাল ৮টায় ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও চলে গেলাম সকাল সাড়ে সাতটায়। গিয়ে দেখি দরজাই খুলে নাই!! কি আর করা, ফিজিক্সের বারান্দার রেলিঙে বসে আছি, এমন সময় হঠাৎ একটা মেয়ের আগমন :P

বুকটা ধুকপুক করে উঠলো, মন আনচান হলো। ভাবলাম, এইবার বোধহয় কিউপিড আমারে ছেঁদা করে দিছে! আমি রেলিঙে বসে আছি আর সে (পরবর্তীতে 'তিনি') হাঁটতেছে। মানুষ মাত্র দুইজন কিন্তু কেউ কোনো কথা বলে না। অবশেষে আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'ফার্স্ট ইয়ার?' (আপনি/ তুমি কিছু কই নাই, কারণ যদি আমার ইয়ার মেট হয়!! ) কিন্তু বিধিবাম, উত্তর আসলো 'থার্ড ইয়ার!!' বুঝলাম কিউপিডের তীর আমার হৃদয়ে বিঁধে নাই, পুরাই ফুটা কইরা দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

সেই তীর পরে বিঁধেছিলো আমার হৃদয়ে, কিন্তু সেটা আরেক গল্প।
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×