somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: কুয়াশার ও সু-আশার রাত (১ম কিস্তি)

১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অস্পষ্ট কুয়াশাভরা রাত। যতোটা আলো না হলে হাঁটা যায় না, ঠিক ততোটুকুই আলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সবখানে। রাস্তার পাশে এক বিরাট রেইনট্রি। জালের মতো অসংখ্য বাহু গাছটার। সাধ্যের সীমা পর্যন্ত আকাশ দখলে নিয়ে সদর্পে আরো উপরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। সেই সঙ্গে এক নিবিষ্ট মনে চাঁদের সঙ্গে মেঘেদের আসা-যাওয়ার খেলা দেখছে। মাঝে মাঝে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস আসছে। কোত্থেকে আসছে ডাল-পাতাগুলো নাড়িয়ে, তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে যেনো গাছটি!

গাছটির ঠিক নিচে একটি কুটির। চার পায়ের ওপর একঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। মাথায় কয়েকটি বিভিন্ন রকমের পাতা ধূসর হয়ে পুরনো হতে হতে কিম্ভূতকিমাকাররূপে কোনো রকমে ঝুলে আছে। চারটি পা এবং মাচাসহ পাতাগুলো অনেকদিন ধরে প্রকৃতির ভার বইতে বইতে ক্লান্ত। সামান্য বাতাস, একটু ঝড় কিংবা কোনোকিছুর একটা ধাক্কা প্রত্যাশা করছে ওরা এখন। অবশ্য এমনিতেই চিরবিশ্রাম নিতে পারে ওগুলো। কিন্তু একটু উপলক্ষ পেলে, একটু সহানুভূতি পেলে বর্তে যায় ওরা- তখন ওদের আর কেউ দোষ দিতে পারবে না; কেউ বলতে পারবে না মাচায়, খুঁটিতে ঘুণ ধরেছিলো; কেউ বলতে পারবে না পাতাগুলো বড্ড শুকিয়ে গিয়েছিলো! কিন্তু বাতাস নেই। যা আছে তাতে বাতাসের নিজেরই কুলোয় না, অন্যকে দিবে কী! অনাগত চিরশান্তির প্রত্যাশায় খুঁটি, মাচা ও পাতাগুলো এখন প্রহর গুনছে।

কুটিরের চার ধার সস্তা পলিথিনে ঘেরা। অবশ্য এজন্যই এটিকে কুটিরের মর্যাদা দিতে হচ্ছে। বলা যায়, পলিথিনের কারণে খুঁটি, মাচা ও পাতাগুলোর গৌরব খানিকটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে খুঁটি, মাচা ও পাতাগুলোর কারণেই পলিথিনের আভিজাত্য কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তাও বোধহয় বলা যায়।
‘ইশ্, কী শীতরে বাবা! গাও-গতর ঠাণ্ডা য্যান বরফ’ কুটিরের ভেতর থেকে শব্দ ভেসে আসে। অনেকক্ষণ চুপচাপ। হঠাৎ করেই মাঝে মাঝে উঃ! আঃ! শব্দ শোনা যেতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে কাঁপা কাঁপা গলার স্বর শোনা যায় ‘কাইল বিয়ানেই একখান হুইস আর একখান গুইট্ট্যা হুতা কিনতে অইবো’। আবার দীর্ঘ নীরবতা।

মধ্যরাত পেরিয়ে যায়। উত্তর থেকে সামান্য ঠাণ্ডা বাতাস ভেসে আসে। বিশাল গাছটিতে মৃদু তরঙ্গ আপনলয়ে খেলে যায়। টুপটাপ করে কয়েক ফোঁটা শিশির ঝরে পড়ে। সঙ্গী হিসেবে বেশ কয়েকটি পাতাও পড়ে।

অনেকক্ষণ যাবৎ প্রকৃতি একইরকম থাকে। মাঝে মাঝে কিছু অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়। কোত্থেকে আসে কে জানে!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×