somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বোনের মেয়ে, ভাইয়ের ছেলে আর আমাদের বুয়ার মেয়ে..

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের পুরো বাসায় পিচ্চি ৪ টা।
আমার আপুর দুইটা আর সেজ ভাইয়ার দুইটা।
এর মধ্যে আপুর মেয়ে সুবাহ পড়ে ক্লাশ ওয়ানে
আর ভাইয়ার বড় ছেলে রাইয়ান পড়ে ক্লাশ টুতে।
প্রতিদিন সকালে সেকেন্ড ইনিংসের ঘুম ভাংগে
সুবাহ আর রাইয়ান এর স্কুলে যাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতিতে।
আপু আর ভাবি পিচ্চি দুইটার নাশতা, ব্যাগ গুছিয়ে দ্যায়া নিয়ে
রিতিমত একটা ছোট খাট যুদ্ধ পর্ব শেষ করেন।

স্কুল শেষ করে আসার পর কড়া রুটিন,
নাশতা কর, CW, HW খাতা কমপ্লিট কর,
তারপর দুষ্টুমি, বান্দরামি, গোসল, ঘুম।
বিকেলে নাশতা কর, কিচুক্ষন কার্টুন দ্যাখ,
তারপর আরবী টিচার।
রাতে পড়ালেখা শেষ করে খেতে খেতে কার্টুন, এরপর ঘুম।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় পিচ্চি দুইটার পড়ালেখা ই আপু আর ভাবির
ধ্যান গ্যান স্বপ্ন সবকিছু।
এর মাঝে অবশ্য আপু চাকরি ও করে,
আর ভাবি সারাদিন ঘরের ইন্টেরিয়র নিয়ে ব্যাস্ত।

তো উনাদের সিরিয়াসনেস নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।
এটাইতো মায়ের দায়িত্ব।
আপুকে বলি তোরা দুইজন যে সিরিয়াস, সুবাহ আর রাইয়ান তো
এবার ক্লাশে ফার্স্ট হবে, ড্যাম সিওর।

আপু তো সাথে সাথেই রিঅ্যাকশান, "কি বলিস, অন্য বাচ্চাদের
মায়েরা যে সিরিয়াস, ৩/৪ টা ম্যম এর কাছে পড়ে, কোচিং করে,
বাসায় টিচার আসে। আমরা তো নিজেরাই পড়াই, আজকাল ফার্স্ট
হতে বাবা মায়ের টাকা লাগে বুঝলি?"

এর মাঝে একদিন দেখলাম, বাসায় নতুন বুয়া।
আমি কয়েকমাস হলে ছিলাম বলে আগে দেখিনি বুয়াকে,
শুনলাম উনি অনেকদিন ধরে বাসায় দিনে ১ ঘন্টা করে কাজ করছে।
বুয়াকে দেখলাম কাজ শেষ করে হুলুস্থুল করে বের হচ্ছে।
আম্মুকে জিগেস করলাম বুয়া কই যায়।
আম্মু বলল বুয়ার ছোট মেয়েটা ক্লাশ থ্রিতে পড়ে।
সুবাহ আর রাইয়ানের স্কুলেই, ওকে আনতে যাবে।

ব্যাপারটা ভালই লাগল, বুয়া নাকি কয়েকটা বাসায় কাজ করে,
কাজের ফাকে ফাকে মেয়েকে স্কুলে পাঠায়, নিয়ে আসে,
আর একটা ম্যাডাম এর কাছে পড়ায়।
আম্মুকে বললাম বুয়ার মেয়ের জন্যে কাগজ কলম লাগলে মাঝে মাঝে
দিয়ে দিও, আর পড়ালেখাটা যাতে কন্টিনিউ করে খোক রেখো।

তো, কয়েকদিন আগে বার্ষিক পরীক্ষার রেসাল্ট দিল।
ভাবি আর আপু দুইজনেরই মন খারাপ,
সুবাহ রাইয়ান দুইজনই খুব ভাল নাম্বার পেয়েছে,
কিন্তু সব পরীক্ষা মিলে ওদের রোল নাম্বার ১০ এর পরে।

একটু পর বুয়া এসে বলল, উনি আজ কাজ করতে পারবেন না,
আজকে বাসায় থাকবেন।
এই বলে চলে যাওয়ার সময় আম্মু বুয়াকে ডেকে জিগেস করলেন
"বুয়া, তোমার মেয়ের পরীক্ষার রেসাল্ট কি? পাশ করসে?"

বুয়া বলল, "জী খালম্মা, আমর মেয়ে তো ক্লাশে ফার্স্ট হইসে"
আম্মু বলল "মাশাল্লাহ, তোমার মেয়েকে নিয়ে এসে আমার বাসায়
খেয়ে যেও"
আপু আর ভাবির চেহারায় তেমন পরিবর্তন দেখিনাই,
এজ ইউজুয়াল মায়ের মন, নিজের সন্তান ভাল না করলে কিসুই ভাল পায়না।

কিন্তু আমি আর আম্মু খুবই খুশি হয়েছি।
আমার কাছে মনে হয়েছে সুবাহ রাইয়ান ভাল করলেও বোধয় এতটা খুশি হতাম না।
আপুকে বললাম, সুবাহ কে ৩/৪ টা টিচারের কাছে পড়তে দে, ফার্স্ট হয়ে যাবে ক্লাশে"
:D :P
আপু মুখটা ভেংচি কেটে বলল "যা, ভাগ্"
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×