। ব্যক্তিগতভাবে অবশ্য সুশীশল সমাজ নিয়ে খুব একটা আশাবাদী আমি না
। তবুও সন্দেহ নেই যে, উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু উদ্যোগটি তখনই কার্যকর হবে, যখন রাজনীতিকদের পারস্পরিক সহনশীলতায় একটি কল্যাণকর সমঝোতা স্থাপিত হবে। ইতিমধ্যেই অবশ্য জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা পুনর্বার তার দলের ও সরকারি দলের সাংসদদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার কথা জোর দিয়ে বলেছেন (বাঁচাওওও)। গত পল্টন ময়দানে যুবলীগের মহাসমাবেশে শেখ হাসিনা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছেন, তারা যদি প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার ও জোট সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব তৈরি ও তালিকা প্রকাশ করতে পারেন তাহলে তিনিও তার এবং তার দলের এমপিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে প্রস্তুত আছেন
।
জাতীয় নির্বাচনের সময় যতো ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক দুবর্ৃত্তপনার
আশঙ্কাও ততোধিক স্পষ্ট হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ কালো টাকার ব্যবহার একদিকে যেসব সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিকদের আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলবে অন্যদিকে কালো টাকার মালিকরা জনপ্রতিনিধি বনে গিয়ে দুনর্ীতির বিস্তারকে সর্বগ্রাসী করে তুলবে।
আমি মনে করি, সরকারি দল তাদের সম্পদের হিসাবের তালিকা প্রকাশ করলেই বিরোধী দল তাদের এমপিদের সম্পদের তালিকা দাখিল করবেন, বিষয়টি এমনটা হওয়াও উচিত নয়। শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এই সম্পদের হিসাব প্রকাশের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চান। সেক্ষেত্রে যদি সরকারি দল তাদের সম্পদের তালিকা প্রকাশ নাও করে সেক্ষেত্রে বিরোধী দলের উচিত হবে স্বতন্ত্রভাবে হলেও জনসম্মুখে তাদের সম্পদের হিসাবের তালিকা প্রকাশ করা
।
অতীতে দেখা গেছে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মাত্রাতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ই তাদের দুনর্ীতির সঙ্গে সংশিষ্টতা প্রমাণ করে। প্রাথর্ীদের নির্বাচনী ব্যয়ের একটা বড়ো অংশ দুনর্ীতির মাধ্যমে অর্জিত হয় বলেই তারা ভোট ক্রয় থেকে শুরু করে সশস্ত্র সন্ত্রাসেও অবতীর্ণ হয়।
গত জাতীয় নির্বাচনে যে 20 হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়, সন্দেহ নেই তার বিরূপ প্রভাবটি সরাসরি পড়েছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।
রাজনীতিতে বর্তমানে কালো টাকার প্রভাব এতোটাই প্রকট আকারে বিরাজ করছে যে, বিত্তশালীরা টাকা দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নমিনেশন কেনার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ন হন(খাইয়ালামু)। এর ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত, সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন অন্যদিকে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে এমন লোকও নির্বাচিত হয়ে আসছেন সংসদে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শাসন ব্যবস্থায়। এজন্য বারবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে চরমভাবে
।
আইন অনুযায়ী নির্বাচনে প্রাথর্ীরা হলফনামায় সঠিক তথ্যই দাখিল করবেন। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তাদের দুনর্ীতির কারণে অসম্পূর্ণ হলফনামাও দাখিল হয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদের মানিকগঞ্জ-4 আসনের উপনির্বাচনে সমপ্রতি জোট প্রাথর্ী যে হলফনামা দাখিল করেছেন, সেখানে সম্পদের তালিকায় অসঙ্গতি ধরা পড়েছে(খাইয়ালামু)। অনেক সম্পদের হিসাবই তিনি চেপে গেছেন। তাকে শাস্তি পেতে আজো দেখিনি(আম্মাআআ)।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার ও দুনর্ীতির ফাঁকফোকর বন্ধ করতে না পারলে বহু কষ্টে অর্জিত সংসদীয় গণতন্ত্র ধূলিসাৎ হবে(আম্মাআআ)। প্রাথর্ীদের নির্বাচনী ব্যয় কিছুতেই যেন নির্বাচন কমিশন কতর্ৃক নির্ধারিত ব্যয়ের বেশি না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রাথর্ীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদর্শন সংক্রান্ত আদালতের দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। কালো টাকার বিস্তাররোধে গনমাধ্যমকেও সোচ্চার হতে হবে
।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




