এমনিতেই আমার অফিস টাইম দেড় ঘন্টা লেট করে ফেলেছি। তাই রূবায়েত ও এনটিভির সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে 10 মিনিটের পথ; অফিসের দিকে পা বাড়ালাম।
আমাদের দেশে নয়া আমদানী এসএমএস জুয়ার ব্যাপারে কথা বলেছিলাম ঐ শীর্ষ জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের সাথে। বরাবরের মত বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী দৈনিকের ম্পাদক এক গাল হাসি দিয়ে ছোট্ট কথায় বললেন "আমাদের সব দিকই দেখতে হয়।" এর মানে বুঝতে আমাকে পালটা কিছু জিজ্ঞেস করতে হয়নি। মানে ওই ধরনের লেখা ছাপানো সম্ভব নয়। পাছে মোবাইল অপারেটরের কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন হাত ছাড়া হয়ে না যায়।
মোবাইল অপারেটরের উচ্চ মূল্যের কলচার্জ এর বিরুদ্ধে কথা বলার ও আন্দোলন করার তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। জনস্বার্থে নিজের গাটের পয়সা খরচ করে আন্দোলন ও জনমত গড়ার প্রক্রিয়ায় মোবাইল অপারেটরের নাচের পুতুল মিডিয়া আমাদের কাভারেজ দিতে চায় না। ভাবতে অবাক হই জাতির বিবেক হিসেবে প্রচারনাকারী মিডিয়া বিশেষ করে দৈনিক পত্রিকাগুলো বিজ্ঞাপন পাবার লোভে আপন মহিমা জলাঞ্জলী দিয়ে যেন মোবাইল অপারেটরের বন্দনায় সমজাতীয় দৈনিকগুলোর মাঝে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত । এজন্যই আমি এদেশের মোবাইল অপারেটরের উচ্চ মূল্যে সার্ভিস প্রদানের জন্য প্রথমত মিডিয়াকেই দায়ী করি।
সম্প্রতি এসএমএস জুয়ার মোবাইল অপারেটর ও মোবাইল কনটেন্ট প্রোভাইডারদের কিছু বিজ্ঞাপন প্রায় প্রতিদিনই পত্রপত্রিকায় শোভা পাচ্ছে। দুঃখের বিষয় এনটিভিও জুয়াটিকে জনপ্রিয় করার নিমিত্তে আজ থেকে একটেলের সাথে একটি নিয়মত লাইভ ও নতুন অনুষ্ঠান সম্প্রচারপ্রচার শুরু করেছে। যেখানে বলা হয়েছে তাদের মোটা দামের (40000 টাকা) কিছু পন্য (ইলেকট্রটিক্স আইটেম) মাত্র 900 থেকে 1000 টাকায় বিক্রয় হবে। এজন্য মোবাইল ব্যবহারকারীকে একটেলের মোবাইল থেকে নির্দিষ্ট নম্বরে যত খুশি এসএমএস করে দরদাম পেশ করতে হবে। যে দামটি কারো সাথে মিলবে না তাকেই পন্যটি তার উল্লেখিত মূল্যে প্রদান করা হবে। বিজয়ী ক্রেতা একাধিক হলে লটারির মাধ্যমে কাঙ্খিত ক্রেতা নির্বাচন করা হবে। একজনকে যত খুশী এসএমএস করার সুযোগ রয়েছে।
এসএমএস মুলামুলি, অবিশ্যাস্য মূল্যে বিক্রয় হইবে (হিপহিপ হূররে) ইত্যাদি শিরোনামের বিজ্ঞাপনের প্রতি সহজ সরল মানুষ অল্পতে বেশী কিছু পাবার আশায় আকৃষ্ট হয়ে এসএমএস এ অংশ নিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছে। আর এ সুযোগে মোবাইল অপারেটর মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ এসএমএসে অর্জিত আয়ে বিরাট অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জনসাধারনের এটি যে জুয়া খেলার ন্যায় নেশায় পরিণত হবে না তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। তাই এসএমএস জুয়া বন্ধের ব্যাপারে আমাদের গনসচেতনা গড়ে তুলা প্রয়োজন। প্রশাসনের উচিৎ যথাশীঘ্রই এই নব্য উদিয়মান অপসংস্কৃতি বন্ধ করে দেয়া।
পুনশ্চঃ
একটু আগে ( দুপুর 1:50) বাসায় ফোন করে জানলাম রূবায়েতই একাই নাকি আজকের প্রথম পর্বে 148 টি এসএমএস করেছিল। তার সাফল্য জিরো। আহারে বেকার বেচারা রূবায়েত ! হারালো 148 টি এসএমএসের চার্জ এবং সাথে 15% ভ্যাট এর পয়সা।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




