খেলা শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে চাপের মধ্যে রাখেন বাংলাদেশের দুই স্ট্রাইক বোলার। মাশরাফি-নাইমুলদের কী এক অদৃশ্য শক্তির কাছে এক সময় পুরো ক্রিকেটে বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের আতঙ্ক সনাৎ জয়াসুরিয়াও ধীরে চলার রীতি অনুসরণ করেন। যদিও 110 বল খেলে সেঞ্চুরি থেকে 4 রান দূরে থেকে প্যাভিলিয়নে ফেরেন জয়াসুরিয়া। কিন্তু অপর প্রান্তে তার সতীর্থরাও কখনোই বাশার বাহিনীর চ্যালেঞ্জকে ব্যাট দিয়ে উড়িয়ে দিতে পারেননি। 49 ওভারে শ্রীলঙ্কা সংগ্রহ করতে পেরেছে 212 রান। বিনিময়ে বাংলাদেশের বোলার এবং ফিল্ডারদের কাছে দিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন 10 উইকেট।
বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং করতে নামে_ তখন তাদের টার্গেট 213 রান। চান্দু স্টেডিয়ামের 4 নম্বর পিচটি সম্ভবত বোলারদের অনেকটা সহায়তা করেছে। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের আগে আগে অনেকেরই মনে এমনটি উঁকি দিয়ে থাকবে। কিন্তু কীসের কী! বাঙালিরা দিনটিকে লাল-সবুজে উজ্জীবিত হওয়ার জন্য যে বেছে নিয়েছে! ব্যাটিংয়ে ও বীর বাঙালির বীরত্ব কাঁপিয়ে দিলো বগুড়া চান্দু স্টেডিয়ামকে। যা ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং ঐতিহ্যসমৃদ্ধ বগুড়া শহরকে ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়লো সারা বাংলায়। শুধু কী বাংলায়? বাঘের গর্জন কী আরেকবার শুনলো না পুরো ক্রিকেটবিশ্ব! জাভেদ ওমর-শাহরিয়ার নাফিস উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যাওয়ার আগে দলকে দিয়ে যান 38 রানের দারুণ এক স্টার্ট (টার্গেট 213 রানের বিবেচনায়)। ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান রাজিন সালেহ উইকেটে বেশিণ থাকতে না পারলেও জাভেদ ওমর-মোহাম্মদ আশরাফুল তৃতীয় উইকেট জুটি রানকে নিয়ে যান 91 রানে। শেষ পর্যন্ত দলের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি আসে আশরাফুলের ব্যাট থেকে। অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের ইনিংসটি যেন ছিল ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। 61 বলে 33 রান। আর পুরো দেশ তখন 'স্বপ্ন পূরণের' প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে গেছে, একটু ছোট্ট শঙ্কা ছিলই। বলের চেয়ে রান বেশি। এমন পরিস্থিতিতে সারা অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হওয়ার দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী আফতাব আহমেদ তা নিয়ে আসেন। দূর করে দেন রান-বলের ব্যবধান। 22 বলে 32 রান। তার মধ্যে ছিল 2টি চার এবং 1টি ছয়ের মার। শেষ পর্যন্ত 12 বল বাকি থাকতেই আফতাব-খালেদ মাসুদ জুটি দলকে স্বপ্নের তীরে পেঁৗছে দেন। বাংলাদেশের তখনো হাতে ছিল 4 উইকেট। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে 15টি একদিনের ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ জয় পেলো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের এটাই প্রথম বিজয়। বাঙালিকে বীরের জাতি বলা হয়। তা তার ঐতিহাসিক অর্জন আছে বলেই। সেই বীরদেরই প্রকৃত প্রতিনিধি আফতাব আহমেদ এই ঐতিহাসিক ম্যাচে নির্বাচিত হন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




