সামপ্রদায়িক দাঙ্গার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিনিরা ইরাকের বিভিন্ন সংবাদপত্রে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক সংবাদ ছাপাতো। এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করতে অবলম্বন করতে থাকে ভিন্নপন্থা।
যেমন শিয়া অধু্যষিত এলাকা থেকে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নামে নির্বিচারে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ধরে এনে তাদেরকে সুনি্ন ইনফারমারের সামনে দাঁড় করাতো। তখন ঐ সুনি্ন ব্যক্তিটিই আটককৃত শিয়াদের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে অবিভর্ূত হয়। সে যাকে যাকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করবে তাদেরকে গুলি করে হত্যার জন্য মার্কিনিরা পৃথক করে রাখে এবং যাদের নিরাপরাধ বলে অভিহিত করে তারা মুক্তি পায়।
একইভাবে সুনি্ন প্রধান এলাকায় শিয়া ইনফরমারদের দিয়ে তথাকথিত সন্ত্রাসী চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে মূলত একটি সামপ্রদায়িক দাঙ্গারই আবহ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো হতো। এতে করে শিয়া-সুনি্ন সমপ্রদায়ের মধ্য চোরাগোপ্তা হামলা এবং অপহরণ করে হত্যার মতো ঘটনা ঘটলেও গৃহযুদ্ধের মতো ভয়াবহ ফাঁদে পা রাখেনি কোনো সমপ্রদায়ই। অবশেষে ধমর্ীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর দুরভিসন্ধি সফলতার মুখ দেখলো। এ জন্য মার্কিনিরা বেছে নিয়েছে প্রায় এক হাজার বর্ষের পুরোনো সামারা শহরে অবস্থিত শিয়াদের স্বর্ণ গম্বুজ মসজিদ। মসজিদটি ধ্বংসের আলামত থেকে বোঝা যায় কি ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করেছে মার্কিনিরা। কোনো হাত বোমা বা গ্রেনেড ছুড়ে নয় বরং মসজিদটির গম্বুজে উঠে বোমা পেতে তারপর দূর নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে বোমাটি ফাটানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে দেশটিতে রীতিমতো গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সাদ্দামের পতনের পর দেশটিতে এতো বড়ো সহিংসতায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আহামাদিনেজাদ বলেছেন, মসজিদে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনার পেছনে আল-কায়েদার হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি দোষারোপে আসল রহস্য চাপা পড়ে যাচ্ছে। এদিকে দুবাইভিত্তিক আল-আরাবিয়া টিভির 3 অনুসন্ধানী সাংবাদিক সামারা শহরে গত বুধবার বোমায় বিধ্বস্ত শিয়া মসজিদের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে এসে অপহৃত এবং পরে এই 3 সাংবাদিককে হত্যার পেছনেও মার্কিনি চরদের দায়ী করছে ইরাকের সাধারণ জনগণ। কারণ আলজাজিরা এবং আল-আরাবিয়া প্রথম থেকেই মার্কিনিদের রোষানলে পড়ে তাদের সত্যনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের জন্য। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, ইরাকে গৃহযুদ্ধ বাধানোর জন্যই এসব নাটকীয় ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
আসলে ইরাক এখন মার্কিনিদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ইরাকি জনগণকে বশে আনতে না পেরে শেষ পর্যন্ত একটি গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে সৈন্য প্রত্যাহার করার শেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে মনে করেছিল ইরাকে সাধারণ নির্বাচন দিয়ে একটি তাঁবেদার সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে সৈন্য প্রত্যাহার করবে। এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিনিরা রীতিমতো মরিয়া হয়ে ওঠে একটি গৃহযুদ্ধ বাধানোর জন্য।
গত বুধবার শিয়া মসজিদে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে মার্কিনি এই দুরভিসন্ধি প্রথম সফলতার মুখ দেখলেও অবশেষে ইরাকি জনগণের ঐক্য আর সংহতির কাছে এই কূটচাল পরাভূত হবে এমনটা আশা করে বিশ্বের সকল বিবেকবান মানুষ।
তথ্য সূত্রঃ
আলজাজিরা এবং আল-আরাবিয়া ও এএফপি অবলম্বনে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



