somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরাকে সামপ্রদায়িক দাঙ্গাঃ মার্কিনীদের কূটচাল

০১ লা মার্চ, ২০০৬ সকাল ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইরাকে একটি সামপ্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর মার্কিন প্রচেষ্টা অবশেষে সফল হলো। ইরাক দখলের পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে ইরাকের বিভিন্নসমপ্রদায়কে প্ররোচিত করে আসছিল।

সামপ্রদায়িক দাঙ্গার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিনিরা ইরাকের বিভিন্ন সংবাদপত্রে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক সংবাদ ছাপাতো। এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করতে অবলম্বন করতে থাকে ভিন্নপন্থা।

যেমন শিয়া অধু্যষিত এলাকা থেকে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নামে নির্বিচারে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ধরে এনে তাদেরকে সুনি্ন ইনফারমারের সামনে দাঁড় করাতো। তখন ঐ সুনি্ন ব্যক্তিটিই আটককৃত শিয়াদের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে অবিভর্ূত হয়। সে যাকে যাকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করবে তাদেরকে গুলি করে হত্যার জন্য মার্কিনিরা পৃথক করে রাখে এবং যাদের নিরাপরাধ বলে অভিহিত করে তারা মুক্তি পায়।

একইভাবে সুনি্ন প্রধান এলাকায় শিয়া ইনফরমারদের দিয়ে তথাকথিত সন্ত্রাসী চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে মূলত একটি সামপ্রদায়িক দাঙ্গারই আবহ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো হতো। এতে করে শিয়া-সুনি্ন সমপ্রদায়ের মধ্য চোরাগোপ্তা হামলা এবং অপহরণ করে হত্যার মতো ঘটনা ঘটলেও গৃহযুদ্ধের মতো ভয়াবহ ফাঁদে পা রাখেনি কোনো সমপ্রদায়ই। অবশেষে ধমর্ীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর দুরভিসন্ধি সফলতার মুখ দেখলো। এ জন্য মার্কিনিরা বেছে নিয়েছে প্রায় এক হাজার বর্ষের পুরোনো সামারা শহরে অবস্থিত শিয়াদের স্বর্ণ গম্বুজ মসজিদ। মসজিদটি ধ্বংসের আলামত থেকে বোঝা যায় কি ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করেছে মার্কিনিরা। কোনো হাত বোমা বা গ্রেনেড ছুড়ে নয় বরং মসজিদটির গম্বুজে উঠে বোমা পেতে তারপর দূর নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে বোমাটি ফাটানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে দেশটিতে রীতিমতো গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সাদ্দামের পতনের পর দেশটিতে এতো বড়ো সহিংসতায়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আহামাদিনেজাদ বলেছেন, মসজিদে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনার পেছনে আল-কায়েদার হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি দোষারোপে আসল রহস্য চাপা পড়ে যাচ্ছে। এদিকে দুবাইভিত্তিক আল-আরাবিয়া টিভির 3 অনুসন্ধানী সাংবাদিক সামারা শহরে গত বুধবার বোমায় বিধ্বস্ত শিয়া মসজিদের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে এসে অপহৃত এবং পরে এই 3 সাংবাদিককে হত্যার পেছনেও মার্কিনি চরদের দায়ী করছে ইরাকের সাধারণ জনগণ। কারণ আলজাজিরা এবং আল-আরাবিয়া প্রথম থেকেই মার্কিনিদের রোষানলে পড়ে তাদের সত্যনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের জন্য। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, ইরাকে গৃহযুদ্ধ বাধানোর জন্যই এসব নাটকীয় ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

আসলে ইরাক এখন মার্কিনিদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ইরাকি জনগণকে বশে আনতে না পেরে শেষ পর্যন্ত একটি গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে সৈন্য প্রত্যাহার করার শেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে মনে করেছিল ইরাকে সাধারণ নির্বাচন দিয়ে একটি তাঁবেদার সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে সৈন্য প্রত্যাহার করবে। এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিনিরা রীতিমতো মরিয়া হয়ে ওঠে একটি গৃহযুদ্ধ বাধানোর জন্য।

গত বুধবার শিয়া মসজিদে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে মার্কিনি এই দুরভিসন্ধি প্রথম সফলতার মুখ দেখলেও অবশেষে ইরাকি জনগণের ঐক্য আর সংহতির কাছে এই কূটচাল পরাভূত হবে এমনটা আশা করে বিশ্বের সকল বিবেকবান মানুষ।



তথ্য সূত্রঃ
আলজাজিরা এবং আল-আরাবিয়া ও এএফপি অবলম্বনে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×