নন্দন পার্ক দর্শনাথর্ীদের মনের আবেগ, অনুভূতি ও চাহিদা উপলব্ধি করে সংযোজন করছে নিত্য নতুন রাইড। এরই ধারাবাহিকতায় নন্দন পার্ক অ্যাডভেঞ্চার জোনে সংযোজন করেছে রোমাঞ্চকর ও দুঃসাহসিক রাইডগুলো, যা বর্তমান যুগের উদ্যমী ও প্রাণচঞ্চল তরুণ-তরুণীদের কাছে এক আনন্দপূর্ণ ও আকর্ষণীয় রাইড হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। এসব রাইডে আরোহণের জন্য রয়েছে যথেষ্ট নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।
নন্দন পার্কে ঢুকলেই বসন্তকালীন ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে হয়। তারপর পায়ে পায়ে হেঁটে এগিয়ে গেলে চমৎকার ছিমছাম পরিবেশে বড়ো একটি টাওয়ার চোখে পড়বে। ওটাই অ্যাডভেঞ্চার জোন। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই অ্যাডভেঞ্চার জোন তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাডভেঞ্চার জোনে রয়েছে 5টি রাইড। রাইডগুলোর নাম হলো জিপ রাইড, রক ক্লাইম্বিং, র্যাপলিং, চ্যালেঞ্জ কোর্স এবং অবস্ট্যাকল কোর্স। এর মধ্যে প্রথম 4টি রাইড বড়োদের জন্য এবং শেষোক্ত রাইডটি 5 থেকে 10 বছরের বাচ্চাদের জন্য।
1. জিপ রাইডঃ
45 ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট টাওয়ার থেকে প্রায় 550 ফুট দূরত্বে 45 ডিগ্রি স্লোপে 14 মি.মি. স্টিল ওয়ারের সাহায্যে স্যান্ডিং পয়েন্টে বা ভূমিতে অবতরণ করতে হয়। এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় রোমাঞ্চকর রাইড।
2. রক ক্লাইম্বিংঃ
এই রাইডটি 45 ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট 90 ডিগ্রি খাড়া একটি টাওয়ারের পাশর্্ব দেশে পর্বতাকৃতি করে তৈরি করা হয়েছে। ঐ পর্বতের গায়ে লাগানো কৃত্রিম পাথর বেয়ে পর্বতারোহণ করতে হবে এই দুঃসাহসিক খেলায়। আরোহণকারীর নিম্ন পতন রোধের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
3. র্যাপলিং ঃ
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে র্যাপলিং একটি অত্যন্ত সহজ ও আনন্দদায়ক রাইড। এটাও 45 ফুট উঁচু টাওয়ারের ওপর থেকে টাওয়ারের খাড়া গা বেয়ে বেয়ে স্ট্যাটিক রোপের সাহায্যে কৃত্রিম পাথরে র্যাপলার পা দুটি একসঙ্গে কাঁধ বরাবর বাঁকা করবে এবং হাঁটু দুটি 90 ডিগ্রি সোজা করে টাওয়ারের গায়ে জোরে ধাক্কা মেরে পিছনে যাবে এবং একই সময় হাতের মধ্যে স্ট্যাটিক রোপ রিলিজ করে নিচে অবতরণ করতে হবে এই দুঃসাহসিক খেলায়।
4. চ্যালেঞ্জ কোর্সঃ
এটা অ্যাডভেঞ্চার জোনের আরো একটি দুঃসাহসিক ও রোমাঞ্চকর রাইড। এই রাইডটি বার্মা ব্রিজ, প্লাংক পেন্ডুলাম, প্যারালাল রোপ এবং হর্স পেন্ডুলামের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি রাইডের উচ্চতা 18 ফুট এবং দৈর্ঘ্য 24 ফুট।
5. অবস্ট্যাকল কোর্স ঃ
এই রাইডটি সম্পূর্ণভাবে 5 থেকে 10 বছরের বাচ্চাদের জন্য। এই রাইডটি উপভোগ করার সময় রাইডারের নিরাপত্তার জন্য অভিভাবক সঙ্গে থাকবেন এবং নিরাপত্তা বিধান করবেন।
মাত্র 60 টাকার টিকিটের বিনিময়ে এই রাইডগুলো উপভোগ করা যাবে। এ রাইডগুলোর ব্যবহারের নিয়মনীতি ও নিরাপত্তা নীতি কঠেরভাবে মেনে চললে দুর্ঘটনার কোনো অবকাশই থাকবে না।
অ্যাডভেঞ্চার রাইড, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, ওয়াটার কোস্টার, ক্যাবল কার, আইসল্যান্ড, টাইটানিকসহ এ পার্কে রয়েছে বিশ্বমানের 28টি রাইড। দুইভাবে নন্দন পার্কে যাওয়া যায়। ঢাকা-সাভার-নবীনগর-চন্দ্রা রুটে অথবা ঢাকা-আশুলিয়া-চন্দ্রা রুটে নিজস্ব পরিবহনে অথবা পার্কের তত্ত্বাবধানে ঢাকা-চন্দ্রা রুটের সুপার বাস, হানিফ মেট্রো এবং মঞ্জিল পরিবহনে যাওয়া যায় নন্দন পার্কে।
সপ্তাহের রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল 11টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত, শনিবার সকাল সাড়ে 10টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন সকাল 10টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
এ পার্কে বাইরের কোনো খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। রুচিসম্মত, পরিষ্কার আর স্বাদে ভরা পছন্দের সব ধরনের দেশী ও বিদেশী খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে নন্দন পার্কে। পার্কে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি 60 টাকা (গত শুক্রবার ব্যান্ডশো থাকায় প্রবেশ মূল্য ছিল 150 টাকা)। শুধু মাত্র ওয়াটার ওয়ার্ল্ডএর ফি 250 টাকা।এছাড়া প্রতিটি রাইডের জন্য রয়েছে বিভিন্ন মূল্যের আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা।
রাজধানীর আশপাশে যারা বেড়াতে যেতে চান তারা চলে যেতে পারেন সাভারের নন্দন পার্কে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



