বর্তমানে আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চল ছেয়ে গেছে পোস্টারে পোস্টারে। না, এটা কোন নির্বাচনী পোস্টার নয়। অশ্লীল দৃ শ্য সংবলিত যৌন উত্তেজনাকর পোস্টারের কথাই এখানে বলা হচ্ছে।
বর্তমানে সিনেমা হলগুলোতে নিয়মিত দেখানো হচ্ছে নীল ছবি। আর এর প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে নগ্নদৃশ্য সংবলিত পোস্টার। যা লাগানো হচ্ছে দেয়ালে দেয়ালে, লাইট- পোস্টে, স্কুল- কলেজের সামনের দেয়ালগুলোতে। এইসব পোস্টারগুলো কোন ভদ্র সমাজের মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও আমাদের দেখতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই অশ্লীল পোস্টারগুলো উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের চরমভাবে প্রভাবিত করে। তাদেরকে অনৈতিক কার্যকলাপে আকৃষ্ট হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যার দরুণ বহু যুবক-যুবতী অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। যা কোমলমতী ছেলেমেয়েদের জন্য সত্যিই বিপদজনক। অশ্লীল পোস্টার সম্পর্কে বলতে গেলে অশ্লীল ছবি অর্থ্যাৎ কুরুচিপূর্ণ চলচ্চিত্রের কথা চলে আসে। অশ্লীলতা এখন দেশীয় চলচ্চিত্রের সম্পূর্ণটাই গ্রাস করেছে। আর এসব কিছুর জন্য সিংহভাগ দায়ী সেন্সর নীতিমালা। কারণ আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য যে সেন্সর নীতিমালা প্রচলিত আছে তা সেই মান্ধাতা আমলের। এই মান্ধাতা আমলের নীতিমালাতে অশ্লীলতা বলতে কেবল নগ্ন বা উলঙ্গ অর্থ্যাৎ নু্যড হওয়াকে বুঝিয়েছে। যার দরুণ এই সময়কালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোতে নগ্ন না হয়েই এমন সব কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করা হয়, যা নগ্নতাকেও হার মানায়। এতে করে এসব চলচ্চিত্রে যা দেখানো হয় তার অধিকাংশ দৃশ্যই নগ্ন নয়, অথচ তা আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিতে অগ্রহণযোগ্য অর্থাৎ অশ্লীল বলে বিবেচিত। ফলস্বরূপ এই সব অশ্লীল চলচ্চিত্র সহজেই সেন্সর বোর্ড থেকে খালাশ পেয়ে যাচ্ছে। কারণ এতে যেসব দৃশ্য দেখানো হয় তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নগ্ন নয় (সেন্সর নীতিমালা অনুযায়ী অশ্লীল নয়) অথচ কুরুচিপূর্ণ ও যৌন উত্তেজনাকর।
এইসব অশ্লীল পোস্টার ও চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে। সংবাদ মাধ্যম লেখক-বুদ্ধিজীবীদেরও একটা দায়িত্ব রয়েছে। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হচ্ছে, এই ব্যাপারগুলো কি তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তার চোখে পড়ে না? এই অশ্লীলতা দূরীকরণে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে খুব শীঘ্রই একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নতুন সেন্সর নীতিমালা প্রণয়ন করা। নতুবা অশ্লীলতা দূর করা অসম্ভব। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পীগোষ্ঠী এবং বিশেষ করে গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পীদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কারণ অশ্লীলতা এখন আর দেহতেই সীমাবদ্ধ নেই। তা এখন সংলাপ এবং সঙ্গীতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আসুন দেশ ও জাতি এবং অনাগত ভবিষ্যৎ কোমলমতী তরুণ-তরুণীদের কল্যাণে আমরা সকলে অশ্লীলতা েক 'না' বলি।
পুনশ্চঃ লেখাটি লেখতে উৎসাহিত হয়েছি আনিসুজ্জামান উজ্জলের "ছবিটি দেখুন" এর জন্য। যার এড্রেসঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



