শাহেদ (ছদ্ম নাম) বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করেছে পাঁচ বছর হতে চলল। এখনও চাকরি-বাকরির দেখা মেলেনি। কোনও রকম টিউশনি করে জীবন চলছে। চাকরির খোঁজে অফিসে অফিসে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে গেছে। কোনও রকম তালি তোলা মেরে একজোড়া জুতা দিয়ে চলছে আজ চার বছর।
পড়াশুনা শেষ করার পাঁচ বছর পর বাবা আলতাফ হোসেনের মুখোমুখি দাঁড়ালো শাহেদ।
"বাবা, একটা কথার জবাব দিবে আমায়?"
"কি কথা বল?" শাহেদের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন আলতাফ হোসেন।
"জীবনের শুরুতে তোমরা এরকম একটা মিথ্যা কথা আমায় কেন শুনিয়েছ বলতে পারো?"
ছেলের কথায় খানিক অবাক হলেন আলতাফ হোসেন। অবাক চোখে তিনি তাকিয়ে রইলেন শাহেদের দিকে।
"জীবনের শুরুতে তোমরা আমাকে শুনিয়েছিলে- "লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে......"- এরকম ভুল আর মিথ্যা একটা কথা আমায় কেনও শুনিয়েছিলে বাবা? কেন? একটু জোর গলায় কথাগুলো বলল শাহেদ। আজ অবদি এতটা জোরে বাবার সামনে কথা বলে নি সে।
আলতাফ হোসেন দীর্ঘ নি:শ্বাস ছাড়লেন। মাথা নিচু করে তিনি ছেলের সামনে থেকে চলে গেলেন।
জীবনের শুরুতে ছেলেকে এরকম একটা ভুল আর মিথ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্য ভীষণ লজ্জাবোধ হতে লাগলো তাঁর। তিনি জানেন, দীর্ঘশ্বাস ছাড়া ব্যতীত আর কোনও জবাব নেই তাঁর কাছে।
.
.
.
.
জানালার পর্দাটা সরিয়ে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন আলতাফ হোসেন। তাঁর দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে এলো....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



