বাসের ভেতরকার কয়েকজন যাত্রি ফিস ফাস করতে লাগলেন। কানে কানে কিছু একটা বলতে লাগলেন। তা শুনে হো-হো করে হেসে উঠছেন কেউ কেউ। একজনের হাসি গড়িয়ে পড়ছে অন্যের মুখে।
পেছন থেকে হাসির শব্দ শুনে চমকে উঠলো আকু। চারদিকে মানুষের দেয়াল। ঘুট ঘুটে অন্ধকারের মাঝে কোনো রকম নি:শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সে।
যেখানে হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে থেকে থেকে যাত্রির চাপে চিড়ার মতো চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ার উপক্রম। ঘাম আর বগল তলের ভোটকা গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসাটাই স্বাভাবিক। সেখানে এত হাসি আর এত উৎফুল্ল বড়ই অস্বাভাবিক ঠেকে তার কাছে।
আকু ছটফটিয়ে এদিক ওদিক মাথা ঘুরিয়ে ব্যাকুলভাবে প্রশ্ন করতে লাগলো, কী হয়েছে? কী হয়েছে? এত হাসছে কেন সবাই? হয়েছেটা কী?
পাশে দানবের মতো লোকটা কনুই দিয়ে গুতো দিয়ে বললেন, "মিয়া হইছেডা কি? বাইং মাছের মতো মোড়ামুড়ি করেন ক্যান?"
ধমক এবং গুতো খেয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো আকু।
হাসি ছড়িয়ে পড়ল মহামারির মতো। হো হো শব্দের সোরগোল পড়ে গেল যেন।
অবশেষে কোনো রকম ঠেলেঠুলে সামনে এগিয়ে গিয়ে হাসির রহস্য উদঘাটন করলো আকু।পরিপাটি করে সাজগুজ করা ভদ্রলোক আসল জায়গা বন্ধ করতে ভুলে গেছেন। তাই এত হাসির গড়াগড়ি।
ভদ্রলোক বুঝতে পেরে "জায়গা" বন্ধ করে দু' হাত উপরে তুলে, হ্যান্ডেল ধরে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছেন।
কেউ কেউ তখনও হেসেই চলছেন। হেসেই চলছেন।
আকুর মনটাও খারাপ হয়ে গেল। অফিসের হাজিরা খাতায় যেন লালদাগ না পড়ে, সে জন্যই হয়তো তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বেচারা না হয়..... তাই বলে এভাবে হাসতে হবে সবাইকে?? অদ্ভুত আর ব্যস্ত এই শহরের বুকে এটা তো একেবারেই অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়.......!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




