ফোনালাপটা শোনার পর কিছুটা সন্দেহ হয়েছিল। এটা কি সত্যিই মান্না ভাই'র কণ্ঠ? মানে মাহমুদুর রহমান মান্নার কণ্ঠ? তিনি তো এমন কথা বলার মতো মানুষ নয়।
মান্না ভাই'র ফেসবুক পেজ এ ঢুকলাম। ফোনালাপ নিয়ে তার লেখাটা পড়লাম। এবং নিশ্চিত হলাম। কণ্ঠটি মাহমুদুর রহমান মান্নার ই। একসময়ের ডাকসুর ভিপি মান্না ভাই'র কণ্ঠ। এক সময়কার বলিষ্ঠ ছাত্রনেতা মান্না ভাই'রই কণ্ঠ সেটি।
পুরো ফোনালাপটি শুনে আমি দারুণভাবে মর্মাহত। এইভাবে তার ভদ্রতা আরো ভালো মানুষের মুখোশটি দেশ ও মানুষের সম্মূখে খুলে পড়বে হয়তো ঘুনাক্ষরেও ভাবেন নি তিনি।
মান্না ভাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন চান। দু'চার জনের লাশ পড়লেও তাতে সমস্যা দেখেন না তিনি। তার ভাষায়-
"....এ জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত ও বিস্তৃত করতে হবে। এটা করতে গিয়ে যদি পুলিশি বা সন্ত্রাসী হামলায় দু’চার জনের জীবনও যায় কিছু করার নেই। এমনিতেই তো মানুষ মরছে।" (মাহমুদুর রহমান মান্নার পেজ থেকে)
নতুন প্রজন্মের অনেকেই মান্না ভাইকে সমর্থন করছিলেন। তার ভালো ভালো কথাগুলো আমার মতো অনেকের কাছেই ভালো লাগছিল। তার কথা ও পরামর্শ মতো গত তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে "দুর্নীতিকে না বলুন" স্লোগান নিয়ে করা মিছিলকে সমর্থন করেছি। আমার এলাকার মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছি। ... গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আমাকে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন- এটা কিসের মিছিল? জবাবে বলেছিলাম, "দুর্নীতির বিরুদ্ধে মিছিল।"
সেই মান্না ভাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দু'চারজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে সমস্যা নাই- এ কথাটি বলতে পারলেন!!
ভেবে অবাক হই, কিংবদন্তীতুল্য ছাত্র রাজনীতির নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না কী করে এমন সব কথা বলতে পারেন!
হল দখলের জন্য শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফর্মুলা দিতে দিতে পারেন!!
মান্না ভাই, মুখোশের আড়ালে এই নোংরা চেহারাটা নিয়ে তৃতীয় ধারা গঠনের চিন্তা করছেন আপনি? চাইছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে?
ভেবে ছিলাম মাহমুদুর রহমান মান্না ব্যতিক্রম মানুষ। এতকাল তাকে শ্রদ্ধার চোখেই দেখতাম। সবার চে আলাদা ভাবতাম। আজ আমার সেই ভুল ভেঙ্গে যাবার পর দারুণ লজ্জা পাচ্ছি সত্যি...।
আপনারা কেউ ই আলাদ নয়... হতে পারেন না।
ছি মান্না ভাই ছি..... আপনার জন্য আকাশভরা ঘৃণা..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



