পাড়ার একদল তরুণ হকস্টিক আর লাঠি-সোঁটা হাতে সিনা টান করে ছুটছে.....। সবার চোখে-মুখে আগুন।
মুরব্বিস্থানীয় একজন চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলেন, "ঐ মিয়ারা কই যাও তোমরা লাঠি-সোটা হাতে?"
পালের গোদা টাইপের একজন হকস্টিক উঁচিয়ে বলল, "কাকা, ঐ পাড়ার এক বদমাইাশ জমির কাকার মেয়ে সোনিয়ারে চোখ টিপ মারছে। অরে একটু শিক্ষা দিয়া আই...।"
"দুই একটা চর-থাপ্পর দিয়া ছাইড়া দিও। বেশি মাইর-ধর কইরো না কইলাম।"
"দোয়া কইরেন কাকা। মারুম না, হালকা আদর করমু...." বলে দীপ্ত বেগে তরুণের দল ছুটে যায়।
.......
ঐ পাড়া থেকে হাঙ্গামা শেষে ফেরার সময়, কয়েকজনকে চিৎকার করে বলতে শুনা যায়, "আমগো পাড়ার কোন মাইয়ারে চোখ টিপ মাইরা দেখিস কোনদিন- আমরাও দেইখা লমুনি...।"
নব্বই'র শেষ পর্যন্ত এমনটি হরহামেশাই দেখতে পেতাম আমরা।
নিজ পাড়ার ইজ্জত রক্ষার্থে তরুণেরা ঝাঁপিয়ে পড়তো। অপর পাড়ার কেউ নিজ পাড়ার কোন মেয়েকে সামান্য চোখ মারলেও তারা দলবলে ছুটে যেত। পাড়ার ইজ্জত বলে কথা।....
এ জন্যই হয়তো সেই সময় "রোমান্স" ছিল, কিন্তু "ইভটিজিং" ছিল না।
এখন আর তরুণদের সেই আগুন চোখে পড়ে না...। চোখ মারা তো মামুলি ব্যাপার, গায়ের ওড়না টেনে নিলেও কোন তরুণ পাড়ার ইজ্জত রক্ষার্থে হুঙ্কার দিয়ে বেড়িয়ে আসে না।..... পাড়ার ইজ্জত নিয়ে তাদের তেমন কোন মাথাব্যথা নেই....
হকস্টিক আর লাঠি-সোঁটার ব্যাবহার এখনও কিছু তরুণ করে থাকে, তবে সেটা পাড়ার ইজ্জত রক্ষার্থে নয়, পাড়ার "বাবা, গঞ্জিকা, বাংলা আর জুয়ার বিজনেস রক্ষার্থে.....।
সেই সময় পাড়ার তরুণরা হুঙ্কার ছাড়তো, ওল্কার গতিতে ছুটে যেত...।
আর এখন পাড়ার সেই তরুণদের বিরাট একটা অংশ রাণিক্ষেত মুরগির মতো চিপায় চাপায় বসে বসে ঝিমায়.....।
তরুণদের এই ঝিমুনি রোগের চিকৎিসা বোধ করি বিধাতারও জানা নেই.......।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




